---Advertisement---

দিল্লি কী ওদের পৈতৃক সম্পত্তি? পুলিশের অনুমতি না মিললেও ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক সিজেপির

By Suman Debnath

October 9, 2026 5:00 PM

দিল্লি কী ওদের পৈতৃক সম্পত্তি? পুলিশের অনুমতি না মিললেও ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক সিজেপির

---Advertisement---


পুলিশের অনুমতি না মিললেও ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ থেকে পিছু হটছে না সিজেপি (CJP)। শুক্রবার সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, নির্ধারিত কর্মসূচি হবেই। প্রয়োজনে আটক বা গ্রেপ্তার হতেও তাঁরা প্রস্তত বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

বিক্ষোভে অনড় সিজেপি (CJP)

বিক্ষোভের আগে যাতায়াতের উপর বিধিনিষেধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিজিৎ(CJP)। তাঁর অভিযোগ, সরকার দেশের তরুণ প্রজন্মকে ভয় পাচ্ছে। সেই কারণেই ট্রেন ও মেট্রো পরিষেবা বন্ধ করার মতো পদক্ষেপ করা হচ্ছে।

অভিজিতের কথায়, ‘কিসের এত ভয়? আপনারা এত ভয় পাচ্ছেন কেন? দেশের যুবসমাজকে ভয় পাচ্ছেন? ট্রেন বন্ধ করছেন, মেট্রো বন্ধ করছেন—তা হলে মানুষ কী করবে?’

যাতায়াতের উপর বিধিনিষেধের ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, মেট্রো পরিষেবা বন্ধ রাখা, ট্রেন বাতিল করা এবং রাস্তা অবরুদ্ধ করার ফলে জনজীবন আরও ব্যাহত হবে।

অভিজিৎ (CJP) বলেন, ‘দিল্লি কি নরেন্দ্র মোদী বা অমিত শাহের সম্পত্তি? এটা কি তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি? এক দিকে আপনারা বলছেন, বিক্ষোভের কারণে মানুষ সমস্যায় পড়ছেন। অন্য দিকে, আপনারাই সব মেট্রো বন্ধ করছেন, রেল পরিষেবা বন্ধ করছেন, রাস্তা আটকে দিচ্ছেন। তা হলে কি মানুষের অসুবিধা হবে না?’

বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার জন্য আটক বা গ্রেপ্তার হওয়ার ভয় তাঁরা পান না বলে জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘কত জনকে আটক করবেন? আমাকে গ্রেপ্তার করুন, আটক করুন! সৌরভ প্রস্তুত, আশুতোষও প্রস্তুত। আমাকে গ্রেপ্তার করুন, আটক করুন!’

আরও পড়ুন: মেট্রো পরিষেবায় বিধিনিষেধ, অনুমতি দেওয়া হয়নি সিজেপিকে, ১০ অক্টোবর বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে কড়া নিরাপত্তা

বিক্ষোভের জন্য পুলিশের অনুমতি কেন, প্রশ্ন অভিজিতের

যন্তর মন্তরে  (Jantar Mantar) বিক্ষোভ করতে পুলিশের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিজিৎ (CJP)। সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে তাঁর বক্তব্য, বাক্‌স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ ভাবে জমায়েত হওয়ার অধিকার নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার বিতর্কের প্রসঙ্গ তুলে অভিজিৎ প্রশ্ন করেন, নির্বাচন কমিশনের প্রধানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে কেন অনুমতি নিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘জ্ঞানেশ কুমার কি অনুমতি নিয়েছিলেন? ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার আগে কি তিনি অনুমতি নিয়েছিলেন? ফর্ম ৬-এর পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও সুপ্রিম কোর্ট অনুমোদন দেয়নি। তা হলে জ্ঞানেশ কুমার যখন কাউকে না জানিয়ে, কারও কাছে না জানতে চেয়ে ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেন, তখন তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদে আমাদের যে অধিকার রয়েছে, তার জন্য অনুমতি লাগবে কেন?’

যন্তর মন্তরে (Jantar Mantar) বিক্ষোভের জন্য অন্তত ১০ দিন আগে আবেদন জমা দেওয়ার পুলিশি নির্দেশিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। বিক্ষোভ মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে অভিজিৎ (CJP) বলেন, ‘সরকার বিষয়টি নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। আমার মনে হয়, নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা উচিত। সরকার যেভাবে ভয় দেখাচ্ছে, তা থেকেই বিষয়টি স্পষ্ট।‘

আরও পড়ুন: যানজটের আশঙ্কায় বাতিল দুই রাজধানী, দিল্লিতে ট্রেন চলাচলে রাশ

কম সময়ে নোটিস দেওয়ার দাবি পুলিশের

১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে (Jantar Mantar) সিজেপির (CJP) বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। স্বল্প নোটিসে আবেদন জমা দেওয়া, আগের বিক্ষোভে নির্দেশিকা না মানার অভিযোগ এবং জননিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলি সামনে রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দিল্লি পুলিশের যুগ্ম কমিশনার নূপুর প্রসাদ জানান, সিজেপির সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস ৭ অক্টোবর নয়াদিল্লি জেলার পুলিশের কাছে বিক্ষোভের কথা জানিয়ে আবেদন করেছিলেন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের জবাবদিহির দাবিতেই এই কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

নূপুরের বক্তব্য, নির্ধারিত বিক্ষোভের মাত্র তিন দিন আগে আবেদন জমা দেওয়া হয়। অথচ পুলিশি নির্দেশিকা অনুযায়ী, বিক্ষোভের অন্তত ১০ দিন আগে আয়োজকদের জানানো প্রয়োজন।

আগের একটি বিক্ষোভে অনুমতি দেওয়া হলেও আয়োজকেরা পুলিশের নির্দেশ এবং নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি মেনে চলেননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নূপুর প্রসাদ বলেন, ‘আইনি নির্দেশ ও নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি না মানা, বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং জননিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনা করেই এ বার অনুমতি বাতিল করা হয়েছে।‘

বিএনএস ১৬৩ ধারা ভাঙলে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি

দিল্লি এবং যন্তর মন্তরে এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নূপুপ প্রসাদ। ওই ধারা অমান্য করা হলে আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

দেখুন:

 

 

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment