সিকিমের সুড়ঙ্গ ধসে মর্মান্তিক বিপর্যয়, মৃত অন্তত ১১ বাঙালি শ্রমিক, ধ্বংসস্তূপে আটকে আরও অনেকে

By Suman Debnath

July 21, 2026 8:15 PM

সিকিমের সুড়ঙ্গ ধসে মর্মান্তিক বিপর্যয়, মৃত অন্তত ১১ বাঙালি শ্রমিক, ধ্বংসস্তূপে আটকে আরও অনেকে


সিকিমের নামচির নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে ধসে মৃত অন্তত ১১ জন পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিক। জলপাইগুড়ির একাধিক পরিবারে শোকের ছায়া, ধ্বংসস্তূপে আটকে আরও অনেকে।

সিকিমের নির্মীয়মাণ একটি সুড়ঙ্গে ভয়াবহ ধস নেমে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ১১ জন শ্রমিকের মৃত্যুর খবর মিলেছে, যাঁদের সকলেই পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। মৃতদের অধিকাংশের বাড়ি জলপাইগুড়ি জেলার বিভিন্ন এলাকায়। ধসের পর এখনও একাধিক শ্রমিক সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। উদ্ধারকারী দল যুদ্ধকালীন তৎপরতায় অভিযান চালালেও প্রতিকূল আবহাওয়া ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে উদ্ধারকাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার দুপুরে সিকিমের নামচি (Namchi) সংলগ্ন নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গের ভিতরে আচমকাই ধস নামে। সেই সময় সেখানে বহু শ্রমিক কাজ করছিলেন। ধসের জেরে একাংশ শ্রমিক বেরিয়ে আসতে পারলেও অনেকে ভিতরেই আটকে পড়েন। রাতভর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে একাধিক দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে আটকে পড়া শ্রমিকদের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য মেলেনি।

আরও পড়ুন:  আইআইটি বম্বের অধ্যাপককে ছুটিতে পাঠাল কর্তৃপক্ষ, অনশনের হুমকি বাবা-মায়ের

মৃতদের অধিকাংশই জলপাইগুড়ির মালবাজার, মেটেলি, নাগরাকাটা এবং বানারহাট এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। তাঁরা জীবিকার সন্ধানে সিকিমে নির্মাণ প্রকল্পে কাজ করতে গিয়েছিলেন। মৃত্যুর খবর পৌঁছতেই ডুয়ার্সের বিভিন্ন এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারগুলির কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের অনেকেই আগে ডুয়ার্সের চা-বাগানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। পরে নিয়মিত কাজ ও আয়ের আশায় তাঁরা নির্মাণ শ্রমিকের কাজ নিয়ে সিকিমে পাড়ি দেন। মেটেলি ব্লক থেকে একাধিক এবং নাগরাকাটা ব্লক থেকেও কয়েকজন শ্রমিকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন শ্রমিকের খোঁজ এখনও মেলেনি বলে পরিবারগুলির দাবি।

দুর্ঘটনাস্থলটি পূর্ব সিকিমের পাকিয়ং (Pakyong) জেলার মামরিং (Mamring) এলাকায় নির্মীয়মাণ একটি গুরুত্বপূর্ণ ডাবল-লেন সুড়ঙ্গ প্রকল্পের অংশ। জাতীয় সড়ক-১০ সংলগ্ন এই টানেলটি ভবিষ্যতে গ্যাংটক (Gangtok) ও নাথু-লা পাস (Nathu La Pass)-এর মধ্যে যাতায়াত আরও সহজ করবে বলে পরিকল্পনা ছিল। পর্যটন এবং সেনাবাহিনীর কৌশলগত যোগাযোগের দিক থেকেও প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন:  ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে কংগ্রেসের সিদ্ধান্তই মানবে কর্নাটক, জানালেন শিবকুমার

এদিকে, প্রবল বর্ষণের জেরে সিকিমে আগেই লাল সতর্কতা জারি ছিল। সেই প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই এই দুর্ঘটনা ঘটায় উদ্ধারকাজে একাধিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। প্রশাসন, পুলিশ এবং উদ্ধারকারী সংস্থাগুলি যৌথভাবে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের খোঁজ চালাচ্ছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য জরুরি চিকিৎসা পরিষেবাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে এবং পশ্চিমবঙ্গের আধিকারিকদের একটি দল সিকিমে পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে বলে প্রশাসনের আশঙ্কা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে



Google News







এবং Google Discover



Google Discover



-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment