জেলে মাত্র ৪৮ দিন। আর তার মধ্যেই ২১ কেজি ওজন ঝরে গিয়েছে। সঙ্গে বমি, মাথা ঘোরা, এমনকি বার বার অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো শারীরিক সমস্যাও দেখা দিয়েছে। বন্দি অবস্থায় এমন দ্রুত ওজন কমে যাওয়াকে ‘উদ্বেগজনক’ বলে মন্তব্য করল বম্বে হাই কোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, জেলে বা জেল হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা চালালে ওই অভিযুক্তের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হতে পারে। এমনকি পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছতে পারে, যা পরে আর সামাল দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। এই কারণেই ৫৯ বছরের অভিযুক্ত রাধামোহন মিশ্রকে জামিন দিল আদালত।
প্রতিবেশীকে ভয় দেখানো এবং ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগে গত জুন মাসে গ্রেফতার করা হয়েছিল রাধামোহনকে। গ্রেফতারের পর থেকেই জেল হেফাজতে ছিলেন তিনি। আদালতে তাঁর আইনজীবী জানান, মাত্র ৪৮ দিনের মধ্যেই ২১ কেজি ওজন কমে গিয়েছে তাঁর। পাশাপাশি একাধিক শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন তিনি।
রাধামোহনের শারীরিক সমস্যার অন্যতম কারণ হিসাবে উঠে এসেছে তাঁর পুরনো অস্ত্রোপচারের ইতিহাস। অভিযুক্ত জানান, অতীতে তাঁর ‘স্লিভ গ্যাস্ট্রেক্টমি’ অস্ত্রোপচার হয়েছিল। অস্ত্রোপচারের সময় পাকস্থলীর প্রায় ৮০ শতাংশ বাদ দেওয়া হয়। ফলে স্বাভাবিক খাবার খাওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁকে মূলত তরল বা আধা-তরল খাবারের উপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু গ্রেফতারের পর জেলে সেই খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা সম্ভব হয়নি বলেই আদালতে দাবি করেন তিনি।
অভিযুক্তের জামিনের বিরোধিতা করেন সরকারি আইনজীবী। তাঁর যুক্তি ছিল, জেলেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। কিন্তু সেই যুক্তি মানেনি বিচারপতি মিলিন্দ যাদবের একক বেঞ্চ।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, “অভিযুক্তের শারীরিক অবস্থা যে উদ্বেগজনক, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।” হেফাজতে থাকাকালীন তাঁর চিকিৎসার যে বিবরণ আদালতের সামনে এসেছে, তা সাধারণ মানুষের কাছেও উদ্বেগের কারণ হবে বলে মন্তব্য করেন বিচারপতি।
বিচারপতির আরও মন্তব্য, মাত্র ৪৮ দিনে ২১ কেজি ওজন কমে যাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং অভিযুক্তের স্বাস্থ্যের পক্ষে বিপজ্জনক। তাঁর আগে থেকেই থাকা শারীরিক সমস্যার কারণে বিষয়টি আরও গুরুতর হয়ে উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে জেলে বা জেল হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা চালানো হলে স্বাস্থ্যের আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করেছে আদালত। শেষ পর্যন্ত ২ লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে রাধামোহনের জামিন মঞ্জুর করা হয়।
তবে একই সঙ্গে বিচারপতি মনে করিয়ে দিয়েছেন, চিকিৎসার কারণ দেখিয়ে জামিন চাওয়ার প্রবণতা অনেক সময় অপব্যবহারের পর্যায়ে পৌঁছয়। কিন্তু তার পাশাপাশি ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার দীর্ঘদিনের নীতিও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি— ‘জামিনই নিয়ম, জেল ব্যতিক্রম।’
Leave a Comment