এবার উত্তরপ্রদেশে পুলিশের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে নিহত হল ঝাড়খণ্ডের মাওবাদী কমান্ডার ব্রিজেশ গাঞ্জু ওরফে গোপাল সিংয়ের। এই খবর চাউর হতেই সাধারণ মানুষ অত্যন্ত উল্লসিত। কারণ আতঙ্কের বাতাবরণ কেটে গেল। এমনটাই তাঁরা মনে করছেন। রবিবাসরীয় সকালে বারাণসীর কাছে পুলিশের সন্ত্রাসদমন শাখার সঙ্গে ‘এনকাউন্টারে’ নিহত হয় এই ব্রিজেশ। সন্ত্রাসদমন শাখা সূত্রে খবর, ঝাড়খণ্ডের নিষিদ্ধ সংগঠন তৃতীয় প্রস্তুতি কমিটির প্রধান ছিল এই ব্রিজেশ। এই তৃতীয় প্রস্তুতি কমিটি হল মাওবাদী শাখা সংগঠন। ঝাড়খণ্ড পুলিশ এবং জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা যৌথভাবে ব্রিজেশ গাঞ্জুর মাথার দাম রেখেছিল ৩০ লক্ষ টাকা।
সন্ত্রাসদমন শাখা জানিয়েছে, ঝাড়খণ্ডের চাতরা জেলার লওয়াংলং থানার লুটুর এলাকার বাসিন্দা ব্রিজেশ গাঞ্জু। ঝাড়খণ্ড সরকার এই মাওবাদীর মাথার দাম ঘোষণা করেছিল ২৫ লক্ষ টাকা। আর জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) ব্রিজেশের খোঁজ চালাচ্ছিল। মাওবাদী এই নেতার মাথার দাম এনআইএ ঘোষণা করেছিল ৫ লক্ষ টাকা। মোট ৩০ লক্ষ টাকা। রবিবার ভোর ৫টা নাগাদ বারাণসীর রামনগর থানা এলাকার তেংরা মোড়ের কাছে এই এনকাউন্টার হয়। ব্রিজেশ গাঞ্জু একটি মোটরবাইকে করে রামনগর হয়ে মুঘলসরাইয়ের দিকে যাচ্ছিল। এই খবর গোপন সূত্রে পায় সন্ত্রাসদমন শাখা। তার পরেই পরিকল্পনা করে ফাঁদ পাতে পুলিশ। ব্রিজেশকে দেখা মাত্র সন্ত্রাসদমন শাখা তাকে থামতে বললে সে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে থাকে। তাই আত্মরক্ষার্থে সন্ত্রাসদমন শাখা পাল্টা গুলি চালায়। তাতেই জখম হয় গাঞ্জু। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ব্রিজেশকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
পুলিশ সূত্রে আরও খবর, ডেপুটি পুলিশ সুপার বিপিন রাই এবং হেড কনস্টেবল নিতেন্দ্র কৃষ্ণের গায়ে গুলি লেগেছিল। কিন্তু তাঁরা বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে থাকায় বেঁচে যান। ঝাড়খণ্ডে পুলিশের ‘ওয়ান্টেড’ তালিকায় ছিল এই মাওবাদী ব্রিজেশ। যেখানে এনকাউন্টার হয়েছিল সেখান থেকে পুলিশ দুটি পিস্তল, কিছু তাজা কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। গাঞ্জুর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য বারাণসীর লাল বাহাদুর শাস্ত্রী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আর মাওবাদী ব্রিজেশকে নানা তদন্তকারী ও নিরাপত্তা সংস্থা খুঁজছিল। ঝাড়খণ্ড-সহ একাধিক রাজ্যে খুন, তোলাবাজি, বেআইনি অস্ত্র ব্যবসা এবং সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে যুক্ত থাকার মামলায় গাঞ্জু অভিযুক্ত।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর থেকে মাওবাদী শীর্ষ নেতা আকাশ ওরফে অসীম মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিশের এসটিএফ। শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছিল কলকাতা পুলিশে এসটিএফ। ৬৪ বছর বয়সের আকাশের জন্য ঝাড়খণ্ডে ১ কোটি এবং ওড়িশায় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা, মোট ২ কোটি ২০ লক্ষ টাকা পুরষ্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।








Leave a Comment