---Advertisement---

যেসব জিনিসে থাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক | Amar Bangla BANGLADESH

By Suman Debnath

July 29, 2026 10:25 AM

যেসব জিনিসে থাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক | Amar Bangla BANGLADESH

---Advertisement---


টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে দৈনন্দিন ব্যবহারের আরও অনেক পণ্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু টুথপেস্ট নয়, প্রসাধনী, পোশাক, খাবারের প্যাকেজিং, প্লাস্টিকের বোতল, টি-ব্যাগসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের মাধ্যমেও মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবদেহে প্রবেশ করতে পারে।


মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট আকারের প্লাস্টিক কণা। ক্ষুদ্র আকারের কারণে এসব কণা সহজেই সিসা, ক্যাডমিয়ামের মতো ভারী ধাতু এবং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বহন করতে পারে। ফলে শরীরে প্রবেশের পর এগুলোর সঙ্গে থাকা বিষাক্ত উপাদান বিভিন্ন অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।


যেসব পণ্য থেকে ছড়াতে পারে মাইক্রোপ্লাস্টিক


গবেষণা অনুযায়ী, ফেসওয়াশ ও রেডিমেড স্ক্রাবের মাইক্রোবিডস, কিছু টুথপেস্ট, লিপস্টিক, আইলাইনার, নেইলপলিশ, ওয়েট ওয়াইপস, পলিয়েস্টার ও নাইলনের পোশাক, ডিটারজেন্ট, টি-ব্যাগ, নন-স্টিক প্যানের আবরণ, একবার ব্যবহারযোগ্য কাপ, সিগারেটের ফিল্টার, প্লাস্টিকের বোতলে সংরক্ষিত পানি, লবণ এবং প্লাস্টিকের কাটিং বোর্ড থেকেও মাইক্রোপ্লাস্টিক ছড়িয়ে পড়তে পারে।


শরীরে কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে


বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবার, পানি, বাতাস ও বিভিন্ন পণ্যের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করা মাইক্রোপ্লাস্টিক রক্তপ্রবাহের সঙ্গে ফুসফুস, অন্ত্র, মস্তিষ্কসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে পৌঁছাতে পারে। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে গবেষণা চলছে এবং দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব সম্পর্কে আরও তথ্য অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:  সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী


বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবার, পানি, বাতাস ও প্রসাধনীর মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করা মাইক্রোপ্লাস্টিক রক্ত, ফুসফুস, অন্ত্র, মস্তিষ্ক এমনকি প্লাসেন্টাতেও জমা হতে পারে।


এর ফলে যেসব স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে-


হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধি: রক্তনালিতে প্লাস্টিক কণা জমে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।


পরিপাকতন্ত্রের ক্ষতি: অন্ত্রে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করে হজমে সমস্যা এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল করতে পারে।


ফুসফুসের সমস্যা: বাতাসের সঙ্গে প্রবেশ করা প্লাস্টিক কণা দীর্ঘস্থায়ী কাশি, শ্বাসকষ্ট ও অ্যাজমার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।


হরমোনের ভারসাম্যহীনতা: প্লাস্টিকে ব্যবহৃত থ্যালেটস ও বিসফেনলের মতো রাসায়নিক হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এবং প্রজননক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে।


স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি: অতি ক্ষুদ্র ন্যানোপ্লাস্টিক মস্তিষ্কে পৌঁছে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি করতে পারে, যা আলঝেইমার, ডিমেনশিয়া ও পারকিনসন্সের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

আরও পড়ুন:  ‘বাইরে থাকার অনুভূতি হয়নি’—সালাউদ্দিন


ডিএনএর ক্ষতি: দীর্ঘমেয়াদে কোষের ক্ষতি করে ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধির আশঙ্কার কথাও বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।


যেভাবে কমানো যেতে পারে ঝুঁকি


মাইক্রোপ্লাস্টিক পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব না হলেও কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে এর সংস্পর্শ কমানো যায়। যেমন:


প্লাস্টিকের বদলে কাচ, স্টেইনলেস স্টিল বা সিরামিকের পাত্র ব্যবহার করুন।


প্লাস্টিকের কাটিং বোর্ডের পরিবর্তে কাঠের বোর্ড ব্যবহার করুন।


প্লাস্টিকের পাত্রে খাবার গরম করা থেকে বিরত থাকুন।


টি-ব্যাগের বদলে খোলা চা-পাতা ব্যবহার করুন।


প্লাস্টিকের বোতলের পরিবর্তে কাচের বোতলে পানি সংরক্ষণ করুন।


মাইক্রোবিডসযুক্ত প্রসাধনীর বদলে প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করুন।


ঘরের ধুলাবালি নিয়মিত ভেজা কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করুন, কারণ ধুলায়ও মাইক্রোপ্লাস্টিক ফাইবার থাকতে পারে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দৈনন্দিন জীবনে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিকের সংস্পর্শ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। তবে এর স্বাস্থ্যগত প্রভাব সম্পর্কে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।


আমার বাঙলা/ রাব্বি



---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment