---Advertisement---

টেকসই উত্তরণে ৬ দফা প্রস্তাব বাংলাদেশের

By Suman Debnath

September 25, 2026 9:50 AM

টেকসই উত্তরণে ৬ দফা প্রস্তাব বাংলাদেশের

---Advertisement---


স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) উন্নয়ন ও উত্তরণ প্রক্রিয়া যাতে টেকসই ও নির্বিঘ্ন হয়, সে জন্য অতিরিক্ত প্রস্তুতিমূলক সময় দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে এলডিসি মন্ত্রীপর্যায়ের সম্মেলনে এ দাবি তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. হুমায়ুন কবির।


বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বিষয়টি আলোচনার সময় এলডিসি জোটের সমর্থন প্রত্যাশা করেন।


সম্মেলনের শুরুতে এলডিসি চেয়ার হিসেবে নেপালের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন হুমায়ুন কবির। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর নেপালের পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন তিনি। নতুন চেয়ার হিসেবে দ্য গাম্বিয়াকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল রাবাব ফাতেমার অবদানের জন্যও কৃতজ্ঞতা জানান।


বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর নতুন সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের নীতি নিয়ে বাংলাদেশ এগোচ্ছে। সরকারের ‘৩ আর’ কৌশল- রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি তৈরিতে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।


বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান সংকটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দোহা কর্মসূচি গ্রহণের পর ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, মূল্যস্ফীতি, ঋণের চাপ, সরকারি উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) কমে যাওয়া এবং জলবায়ু সংকট আরও তীব্র হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে এলডিসিগুলোর প্রবৃদ্ধিতেও। ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২০২৬ সালে প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৫ শতাংশ হতে পারে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে।


এই পরিস্থিতিতে অনলাইন বিশ্ববিদ্যালয়, খাদ্য মজুত ব্যবস্থা, টেকসই গ্র্যাজুয়েশন সাপোর্ট ফ্যাসিলিটি, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সহায়তা কেন্দ্র এবং দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।


এলডিসি কর্মসূচির মধ্যবর্তী পর্যালোচনার জন্য বাংলাদেশ ছয়টি অগ্রাধিকারও তুলে ধরেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে-ওডিএ কমে যাওয়া ঠেকানো ও সহজ শর্তে অর্থায়ন নিশ্চিত করা, শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জলবায়ু অভিযোজন ও ক্ষয়ক্ষতির জন্য অর্থায়ন, পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং জাতিসংঘের সংস্কারের মাধ্যমে এলডিসিগুলোর প্রয়োজনের প্রতি দ্রুত সাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা গড়ে তোলা।


সম্মেলন শেষে গৃহীতব্য ‘এলডিসি মন্ত্রীপর্যায়ের ঘোষণা’ সদস্য দেশগুলোর চলমান সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment