টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনের পর আপাতত যন্তর মন্তরের ধর্না মঞ্চ গুটিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর অবস্থান প্রত্যাহারের ঘোষণা করেছে সংগঠন। তবে বাড়ি ফিরে প্রথম ভিডিও বার্তাতেই স্পষ্ট করে দিলেন CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক (Abhijit Deepak)—ধর্না শেষ হলেও আন্দোলনের পথ এখানেই থেমে যাচ্ছে না। তাঁর কথায়, “এই তো সবে শুরু। এখনও অনেক পথ চলা বাকি।”
দীর্ঘ অনশন, ধর্না, প্রতিবাদ এবং আন্দোলনের সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার পর রবিবারের সকাল ছিল অভিজিৎ দীপকের কাছে একেবারেই অন্যরকম। বহুদিন পর কোনও উদ্বেগ ছাড়া ঘুম থেকে ওঠার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন তিনি। ভিডিও বার্তায় জানান, দীর্ঘ লড়াইয়ের পর অবশেষে কিছুটা বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
দীপকের কথায়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতিটি দিন শুরু এবং শেষ হয়েছে আন্দোলনের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ভাবতে ভাবতে। কিন্তু এবার প্রথমবার তিনি কোনও পরিকল্পনা বা দুশ্চিন্তা ছাড়াই ঘুমোতে পেরেছেন। সেই অভিজ্ঞতাকেই তিনি আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি বলে উল্লেখ করেন।
তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যন্তর মন্তরের ধর্না তুলে নেওয়া মানেই আন্দোলনের ইতি নয়। তাঁর দাবি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি থেকেই CJP-র পথচলা শুরু হয়েছিল এবং ভবিষ্যতেও সেই অবস্থান অটুট থাকবে। তাঁর ভাষায়, “ধর্না শেষ মানেই আন্দোলন শেষ নয়। এই তো সবে শুরু।”
পুণেতে সাংবাদিকতা নিয়ে পড়াশোনা করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য বস্টন বিশ্ববিদ্যালয় (Boston University)-এ যান অভিজিৎ দীপক। সেই সময় থেকেই সামাজিক মাধ্যমে গড়ে ওঠা CJP-র মাধ্যমে তিনি NEET প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে আন্দোলনের ডাক দেন। পরে বিদেশ থেকে দেশে ফিরে সরাসরি আন্দোলনের নেতৃত্বও দেন।
দীর্ঘ আন্দোলনের সাফল্যের কৃতিত্ব নিজের নামে নিতে চাননি দীপক। বরং তিনি বলেন, এই সাফল্যের আসল নায়ক দেশের যুবসমাজ। ছাত্রছাত্রী, তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার বহু মানুষ যেভাবে আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তার জন্য তিনি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
শুধু সমর্থকদেরই নয়, আন্দোলনের সমালোচকদের প্রতিও ধন্যবাদ জানিয়েছেন CJP প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর মতে, যুক্তিসঙ্গত সমালোচনা এবং কঠিন প্রশ্ন আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী ও পরিণত হতে সাহায্য করেছে। গণতান্ত্রিক পরিবেশে মতভেদকেও তিনি ইতিবাচকভাবে দেখার বার্তা দেন।
আন্দোলনের দিনগুলিতে নিজের শারীরিক অবস্থার কথাও তুলে ধরেন অভিজিৎ দীপক। তিনি জানান, টানা কর্মসূচির মধ্যে জ্বর এবং টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়েও আন্দোলন চালিয়ে গিয়েছেন। তবুও যাঁরা যন্তর মন্তরে শেষ পর্যন্ত পাশে ছিলেন, তাঁদের প্রত্যেকের প্রতি তিনি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানান।
ধর্না আপাতত শেষ হলেও ভবিষ্যতের লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়েই নিজের বক্তব্য শেষ করেন অভিজিৎ দীপক। তাঁর বার্তা স্পষ্ট—একটি আন্দোলনের সমাপ্তি হয়েছে, কিন্তু সংগঠনের বৃহত্তর লক্ষ্য ও ভবিষ্যতের পথচলা এখনও অনেকটাই বাকি।
Leave a Comment