ধর্মতলায় (Dharmatala) ছাত্র-যুবদের মিছিল ঘিরে অশান্তি এবং সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় বড় পদক্ষেপ করল পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-র কড়া সতর্কবার্তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ধৃতদের কেউই ছাত্র নন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সদ্য কার্যকর হওয়া গুণ্ডাদমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, তাঁদের মধ্যে দু’জন পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে পালানোর প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন।
শুক্রবার ধর্মতলায় ছাত্র আন্দোলনের নামে বিক্ষোভ চলাকালীন সাংবাদিকদের হেনস্থা ও হামলার অভিযোগ ওঠে। ঘটনায় একাধিক সংবাদকর্মী আহত হন। এরপরই হাসপাতালে গিয়ে আহত সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকেই তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, এই ঘটনায় জড়িত কাউকেই রেয়াত করা হবে না এবং কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর সেই ঘোষণার পরপরই তদন্তে গতি আনে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ, সংবাদমাধ্যমের ভিডিও এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ খতিয়ে দেখে একাধিক সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয়। এরপর বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—ইমরান খুরশিদ, আরশাদ আলি ওরফে সাজিদ, মহম্মদ মঈনুদ্দিন, মহম্মদ আলমগীর ওরফে রাজু, ইমরান আহমেদ ওরফে গোপী, খালিদ রেজা ওরফে রিংকু, জমির আহমেদ ওরফে মিনকু, মহসিন খান, দীপক ভৌমিক ওরফে ভিকি, মহম্মদ আজাদ এবং মহম্মদ আফরোজ।
তদন্তকারীদের দাবি, ধৃত মহম্মদ আজাদ এবং মহম্মদ আফরোজ রাজ্য ছেড়ে অন্যত্র পালানোর চেষ্টা করছিলেন। পুলিশ তাঁদের অন্ডাল (Andal) সংলগ্ন দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে (Durgapur Expressway) থেকে আটক করে। তদন্তকারীদের অনুমান, আরও কয়েকজন অভিযুক্ত এলাকা ছাড়ার পরিকল্পনা করেছিল। সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত হেয়ার স্ট্রিট থানা (Hare Street Police Station)-য় ছ’টি এবং এন্টালি থানা (Entally Police Station)-য় একটি—মোট সাতটি পৃথক মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সব কটি মামলাতেই প্রয়োজনীয় ফৌজদারি ধারার পাশাপাশি নতুন গুণ্ডাদমন আইনও যুক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, রাজ্য বিধানসভায় সম্প্রতি পাশ হওয়া গুণ্ডাদমন আইন এই ঘটনাতেই প্রথমবার কার্যকর করা হয়েছে। সরকার মনে করছে, সংগঠিত হিংসা, ভাঙচুর এবং সাংবাদিকদের উপর হামলার মতো ঘটনায় এই আইন প্রয়োগের মাধ্যমে কঠোর বার্তা দেওয়া সম্ভব হবে।
তদন্ত এখনও চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণ করে আরও কেউ জড়িত থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের দাবি, আইনশৃঙ্খলা নষ্ট বা সংবাদমাধ্যমের কাজে বাধা সৃষ্টি করার ঘটনায় কোনওভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
Leave a Comment