আবার হাওড়ায় স্বর্ণ ব্যবসায়ীর ব্যাগ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটল। যা নিয়ে রীতিমতো আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। হাওড়ার জগৎবল্লভপুরে স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে লক্ষ করে গুলি করা হয় বলে অভিযোগ। আর তারপর ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা-গয়নার ব্যাগ ছিনতাই করে নিয়ে চম্পট দিল দুষ্কৃতীরা বলে অভিযোগ। ওই ব্যবসায়ীর পায়ে গুলি লেগেছে। দুষ্কৃতীদের ছোঁড়া গুলিতে নিয়ে গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ব্যবসায়ী পল্লব সাহা। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোল এবং একটি দেশি পিস্তল উদ্ধার করেছে পুলিশ বলে খবর।
পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার রাতে দাদার সঙ্গে মোটরবাইকে করে বাড়ি ফিরছিলেন স্বর্ণ ব্যবসায়ী পল্লব সাহা। তখন রাস্তায় একটি মোটরবাইকে করে চারজন দুষ্কৃতী এসে তাঁদের ঘিরে ফেলে। টাকা-গয়না থাকা ভর্তি ব্যাগ ছিনতাই করে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ী তখন বাধা দিলে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলিও চালায় দুষ্কৃতীরা বলে অভিযোগ। তখনই গুলি এসে লাগে স্বর্ণ ব্যবসায়ীর পায়ে। দুষ্কৃতীদের খোঁজে তদন্ত চালাচ্ছে জগৎবল্লভপুর থানার পুলিশ। পাঁচলার পর এবার জগৎবল্লভপুরেও একই ঘটনা ঘটল। শনিবার এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। গুলি লাগার পর ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ী মাটিতে লুটিয়ে পড়তেই ব্যাগ ছিনতাই করে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। ব্যবসায়ীর চিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসেন। খবর দেওয়া হয় জগৎবল্লভপুর থানায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের তাড়া খেয়ে অন্ধকারের মধ্যে চম্পট দেয় ওই চারজন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় জগৎবল্লভপুর থানার পুলিশ। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে তারা। দুষ্কৃতীদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। আহত স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে জগৎবল্লভপুর গ্রামীণ হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে তাঁকে। স্বর্ণ ব্যবসায়ী পল্লব সাহা তাঁর দাদার সঙ্গে দোকানে সোনার কাজের পাশাপাশি সিভিক ভলেন্টিয়ারের কাজও করেন বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে পাঁচলায় সোনার দোকানিকে গুলি করে ব্যাগ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এবার জগৎবল্লভপুরেও একই ঘটনা। কয়েক মাসের মধ্যে দুটি এমন ঘটনা ঘটে যাওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে হাওড়ার গ্রামীণ এলাকায়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর এখন নজর রাখছে পুলিশ। চলছে কড়া নজরদারি। দুষ্কৃতীদের খোঁজে জারি হয়েছে তল্লাশিও। কিন্তু বারবার হাওড়ায় এমন ঘটনা ঘটছে বলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় মানুষজন। এখন দ্রুত অপরাধীরা ধরা পড়ুক বলে দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা। হাওড়াবাসী কড়া পদক্ষেপ দেখতে চাইছেন।
Leave a Comment