নয়াদিল্লি: দিল্লির যন্তর মন্তরে (Jantar Mantar) নিট (NEET) প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে ছাত্র-যুবদের আন্দোলন যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় এ বার সরাসরি মুখ খুললেন দেশের কিংবদন্তি ক্রীড়াবিদেরা। বৃহস্পতিবার একের পর এক ক্রীড়াবিদ সমাজমাধ্যমে লিখিত বার্তায় ছাত্রদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি পরিস্থিতি শান্ত রাখার আবেদনও জানিয়েছেন। সেই তালিকায় রয়েছেন সচিন তেন্ডুলকর (Sachin Tendulkar), শুভমন গিল (Shubman Gill), শিখর ধাওয়ান (Shikhar Dhawan), মহম্মদ কাইফ (Mohammad Kaif), অভিনব বিন্দ্রা (Abhinav Bindra), ইরফান পাঠান (Irfan Pathan) থেকে শুরু করে তরুণ গ্র্যান্ডমাস্টার নিহাল সারিন (Nihal Sarin) পর্যন্ত।
কিংবদন্তি ক্রিকেটার সচিন তেন্ডুলকর তাঁর বাবা অধ্যাপক রমেশ তেন্ডুলকরের (Ramesh Tendulkar) প্রসঙ্গ টেনে লেখেন, “প্রাপ্তবয়স্ক হিসাবে সংস্কৃতি তৈরি করার দায়িত্ব রয়েছে আমাদের। যে সমাজে প্রচেষ্টার থেকে ফলাফলকে প্রাধান্য দেওয়া হয়, সেখানে মেধার বদলে ক্ষুদ্রপথ খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা থাকবেই। আজ শিক্ষার্থীরা মনে করছে তাদের কঠোর পরিশ্রমের যথাযথ পুরস্কার দেওয়া হয়নি।” তিনি আরও লেখেন, “অভিভাবক, শিক্ষক, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়, বিদ্যালয় এবং প্রশাসন— সকলের কাঁধে প্রচুর দায়িত্ব রয়েছে। এমন সংস্কৃতি তৈরি করতে হবে যেখানে কঠোর পরিশ্রমের পুরস্কার থাকে, সততাকে উৎসাহ দেওয়া হয় এবং মেধা জয়ী হয়।”
টেস্ট ও একদিনের দলের অধিনায়ক শুভমন গিল কোনও রকম রাজনীতি এড়িয়ে জোর দিয়েছেন শিক্ষার গুরুত্বে। তিনি লেখেন, “প্রত্যেক যুবদের প্রতি আমাদের অসীম সমীহ রয়েছে, যারা বিশ্বাস করে তাদের আওয়াজ শান্ত ভাবে শোনা দরকার। আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের শক্তি শিক্ষার মধ্যে রয়েছে। আশা করি সহমর্মিতা, মৌখিক সম্মান এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থীর স্বার্থ হৃদয়ে রেখে আমরা এগিয়ে যাব।”
প্রাক্তন ক্রিকেটার শিখর ধাওয়ান শিক্ষার্থীদের শান্ত থাকার অনুরোধ করে লেখেন, “আমাদের যুবসমাজ দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের স্বপ্ন বোঝা দরকার। কঠিন সময়ে শান্তি রাখা এবং দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের প্রতি আস্থা রাখাও দরকার।” অন্যদিকে মহম্মদ কাইফ সরাসরি পুলিশি লাঠিচার্জের সমালোচনা করে লেখেন, “যে ভাবে শিক্ষায় দুর্নীতির প্রতিবাদ করতে গিয়ে পুলিশের হাতে শিক্ষার্থীরা মার খেয়েছে, তা দেখে বাবা হিসাবে কষ্ট পেয়েছি। ছোট ছেলেমেয়েদের যে ভাবে দিল্লির রাস্তায় লাঠিপেটা করা হচ্ছে, তা এখনই বন্ধ করা হোক।”
অলিম্পিক্সে সোনাজয়ী শুটার অভিনব বিন্দ্রা লেখেন, “আমি নিজেকে কখনও রাজনীতিবিদ মনে করিনি। কিন্তু শিক্ষা এমন একটা বিষয় যা আমাদের সবার। শুধু অর্থ এবং কীর্তি দিয়ে কোনও দেশকে মাপা যায় না। তরুণদের জন্য কতটা সুযোগ রয়েছে, সেটাও দেখতে হয়।” প্রাক্তন ক্রিকেটার ইরফান পাঠান লেখেন, “একটা প্রশ্নফাঁস কোনও ভাবেই শিক্ষার্থীদের আশাকে মরে যেতে দিতে পারে না।” তরুণ গ্র্যান্ডমাস্টার নিহাল সারিন লেখেন, “আমাদের দায় নিতেই হবে। গর্ব নিয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করে এমন একজন ভারতীয় হিসাবে, আমি ব্যথিত। কঠিন পরীক্ষা দিতে বসে শিক্ষার্থীদের কতটা চাপের মধ্যে থাকতে হয় তা কারও অজানা নয়।”
Leave a Comment