---Advertisement---

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে ধর্নার আগেই আটক রাহুল-প্রিয়ঙ্কা-অখিলেশ, দিল্লিতে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে

By Suman Debnath

July 21, 2026 8:25 PM

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে ধর্নার আগেই আটক রাহুল-প্রিয়ঙ্কা-অখিলেশ, দিল্লিতে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে

---Advertisement---


দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)-র সরকারি বাসভবনের কাছে অবস্থান কর্মসূচির প্রস্তুতি নেওয়ার সময় রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi), প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা (Priyanka Gandhi Vadra), মল্লিকার্জুন খাড়গে (Mallikarjun Kharge) এবং অখিলেশ যাদব (Akhilesh Yadav)-সহ বিরোধী শিবিরের একাধিক নেতাকে আটক করে দিল্লি পুলিশ (Delhi Police)। ছাত্র বিক্ষোভে পুলিশের বলপ্রয়োগের প্রতিবাদে কংগ্রেস ও বিরোধী নেতারা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের নিকটে অবস্থান কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন।

কংগ্রেসের অভিযোগ, আন্দোলনরত ছাত্র-যুবকদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের প্রতিবাদ জানাতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে উচ্চ নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে কোনও বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

ধর্নায় বসার আগে সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টে রাহুল গান্ধী দাবি করেন, ছাত্রদের উপর হামলা দেশের প্রতিটি পরিবারের উপর আঘাতের সমান। তিনি সমর্থকদের আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর উপেক্ষা করা উচিত নয়।

আরও পড়ুন:  সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে ১০০ পাতার চার্জশিট ইডির, ₹৩৮ কোটি আর্থিক তছরূপের অভিযোগ

মঙ্গলবারের কর্মসূচিতে কংগ্রেস সাংসদদের পাশাপাশি দুই কংগ্রেস-শাসিত রাজ্যের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও বিরোধী শিবিরের সঙ্গে যোগ দেন। আন্দোলনস্থলে পৌঁছে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং (Jitendra Singh) বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং নিরাপত্তার স্বার্থে কর্মসূচি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান।

পরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)-র সঙ্গে বৈঠকের পর জিতেন্দ্র সিং ফের আন্দোলনস্থলে ফিরে এসে সরকারের অবস্থান জানান। সূত্রের দাবি, সরকার সংসদে কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনার ব্যাপারে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও বিরোধীরা অতিরিক্ত কয়েকটি দাবি জানায়। এর মধ্যে ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)-এর পদত্যাগ, পুলিশি পদক্ষেপের জন্য সরকারের ক্ষমা প্রার্থনা, সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি এবং নতুন শিক্ষা নীতি নিয়ে আলোচনা।

কংগ্রেস নেতৃত্ব জানিয়েছে, এই দাবিগুলি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনের সিদ্ধান্তে তারা অনড় ছিল। যদিও পরে সন্ধ্যার মধ্যে দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভস্থল থেকে রাহুল গান্ধী, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী, অখিলেশ যাদব-সহ একাধিক বিরোধী নেতাকে আটক করে বাসে তুলে নিয়ে যায়।

আরও পড়ুন:  কলকাতা-সহ দক্ষিণের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাত ও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

উল্লেখ্য, এর আগে ছাত্র সংগঠন সিজেপি-র ডাকা সংসদ অভিযান ঘিরে রাজধানীতে উত্তেজনা ছড়ায়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। অন্যদিকে প্রশাসনের দাবি, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাদল অধিবেশনের শুরুতেই কেন্দ্র ও বিরোধীদের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। একদিকে বিরোধীরা ছাত্র আন্দোলনের প্রশ্নে সরকারের জবাবদিহি দাবি করছে, অন্যদিকে সরকার নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নিয়ম মেনে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলছে। ফলে আগামী দিনেও এই ইস্যু সংসদ ও জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচ্য বিষয় হয়ে থাকার সম্ভাবনা প্রবল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে



Google News







এবং Google Discover



Google Discover



-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment