দৈনিক স্টেটসম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে আইনমন্ত্রী বিরাজ বিশ্বাস

By Suman Debnath

July 21, 2026 4:40 PM

দৈনিক স্টেটসম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে আইনমন্ত্রী বিরাজ বিশ্বাস


বাংলায় বিজেপির প্রথম ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের মন্ত্রিসভায় আইন মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন উত্তর দিনাজপুরের করণদীঘির বিধায়ক বিরাজ বিশ্বাস। মাত্র ৩২ বছর বয়সে তিনি রাজ্যের কনিষ্ঠতম মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তিনি। দৈনিক স্টেটসম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন রাজনীতিতে জেন জি বা তরুণ প্রজন্মের এগিয়ে আসা উচিত। গুরুত্ব দিলেন আজকের জেন-জি দের।

প্রশ্ন: সব থেকে কনিষ্ঠতম মন্ত্রী আপনি। কিন্তু দায়িত্ব তো কম নয়। সামলাতে অসুবিধা হচ্ছে না এত গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর?

উত্তর: এটা আমার কাছে চ্যালেঞ্জ। অভিজ্ঞতা হচ্ছে, ভবিষ্যতেও হবে। দল আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে তার সম্মান রাখতে হবে। কনিষ্ঠ বলে কাজ কমে যায়নি। পরিশ্রম করতে হচ্ছে।  যে গুরুদায়িত্ব পেয়েছি তার মর্যাদা রাখব। অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছি মানুষকে।  সেগুলোকে রাখতে হবে। প্রতিনিয়ত শিখছি, আরও শিখব।

প্রশ্ন: আপনি নিজে ছাত্র রাজনীতি করতেন। সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে আসার পেছনে ছাত্র রাজনীতির কতটা গুরুত্ব আছে বলে আপনার মনে হয়?

উত্তর: অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের মাধ্যমে আমার ছাত্র রাজনীতি শুরু। তবে ছাত্র রাজনীতি নয়, এই সংগঠন স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শে চলে। আমাকেও স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শই অনুপ্রাণিত করেছে। দেশের জন্য কাজ করা এই সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য। ফলে স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শকে যারা মেনে চলেন সেখানে দুর্নীতির প্রশ্নই ওঠেনা। আমরা বিশ্বাস করি ছাত্রদের মধ্যে বা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে রাজনীতি নয় বরং দেশের জন্য কাজ করার উদ্দীপনা থাকতে হবে।

আরও পড়ুন:  মহালয়ায় মোদীর কলকাতা সফরের সম্ভাবনা, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় দেড়শো রাস্তা সারানোর লক্ষ্য পুরসভার

প্রশ্ন: এই মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণঁ কী?

উত্তর: দপ্তরের সব কাজ সামলাতেই হবে। যা যা খামতি রয়েছে সেগুলো অন্যান্য বিভাগে জানাতে হবে। এছাড়া উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন রাস্তার খুব খারাপ অবস্থা। সেগুলো ঠিক করতে হবে। পরিকাঠামো উন্নয়ন না হলে শিল্প আসবেনা। আর শিল্প না হলে কর্মসংস্থানও হবে না। আগের সরকার খাতায়-কলমে দেখিয়ে দিয়েছিল যে পরিকাঠামো আছে। কিন্তু এখন যখন কাজ করছি দেখতে পাচ্ছি আদতে বহু জায়গায় রাস্তা নেই ঠিকমত। দুর্নীতির শিকড় বহু দূর পর্যন্ত বিস্তৃত। শিকড় উপরে ফেলতে হবে। যা যা সমস্যা রয়েছে সবটা দেখভাল করবো। এছাড়া আরো কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। উত্তর দিনাজপুরের গ্রামীণ এলাকার সার্বিক বিকাশ ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতির ব্যবস্থা দ্রুত করব।

প্রশ্ন: উত্তরকন্যায় আপনি কোন কোন দিন উপস্থিত থাকছেন? কিভাবে মানুষ সরাসরি আপনার কাছে পৌঁছে যাবে?

উত্তর: রাজনীতিতে আমার অনুপ্রেরণা মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী কখনো ছুটি নেন না। বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার আমি উত্তর কন্যায় থাকছি। বাকি দিনগুলো বিধানসভার সময় দিচ্ছি। দপ্তরের দায়িত্ব রয়েছে। কি কি করতে হবে, সেগুলো দেখছি। নিজের এলাকার আর কি কি সমস্যা আছে সেগুলো নিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে সময় দিচ্ছি। সব মিলিয়ে সামঞ্জস্য বজায় রেখে কাজ করতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন:  বিশ্ববিদ্যালয় সংশোধনী বিল পাশ বিধানসভায়, পক্ষেই ভোট পড়ল ১৭১

প্রশ্ন : বর্তমান সময় ছাত্রছাত্রীদের আদৌ কি রাজনীতিতে আসা উচিত? পড়াশোনার সঙ্গে সময় দিয়ে কিভাবে রাজনীতি করবে তারা?

উত্তর: অবশ্যই ছাত্রছাত্রীদের রাজনীতিতে আসা উচিত। আমাদের ভারতের অনেক ঐতিহ্য রয়েছে। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস, স্বামী বিবেকানন্দের জীবনী, তাদের ইতিহাস, সত্য সকলের জানা উচিত। আর আমি যে সংগঠন করেছি তারা মনে করে দেশ আগে। ছাত্র-ছাত্রীদেরও তাই মনে করা উচিত। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ এটা মনে করে না ছাত্রছাত্রীরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তারা মনে করে ছাত্রছাত্রীরা আজকের ভবিষ্যৎ। তারা যদি ঠিক ভুল না যাচাই করে, ন্যায় অন্যায় না বোঝে তাহলে আজকের দিনও বদলাবে না। ভবিষ্যতও বদলাবে না।

প্রশ্ন: জেন-জি রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করে। কিন্তু তাদের লক্ষ্য থাকে রাজনীতিকে মাধ্যম করে ক্যারিয়ার গড়ে তোলা। এই ধারণা ঠিক?

উত্তর: না, এই মানসিকতা থাকলে চলবে না। আগে মাথায় রাখতে হবে আমি কেন রাজনীতিতে আসছি? মন্ত্রী বিধায়ক হব বলে? এ ভাবনা ঠিক নয়। সমাজ সেবার জন্য আসলে তবেই রাজনীতিতে আসা উচিত। রাজনীতিকে কেন্দ্র করে কেরিয়ার গড়ে তুলতেই হবে, এমন মানুষের রাজনীতি না করাই শ্রেয়।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment