দিল্লিতে সিজেপি (CJP)-র বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে পুলিশি পদক্ষেপের জেরে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের উপর লাঠিচার্জ এবং কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)-র বিরুদ্ধে সরব হলেন রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। সংসদ ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, এই ঘটনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনরত মানুষের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মানুষের উপর বলপ্রয়োগ কোনওভাবেই ভারতের সাংস্কৃতিক ও গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
শুধু পুলিশি পদক্ষেপের সমালোচনাই নয়, আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত বিষয়গুলিকেও গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানান কংগ্রেস নেতা। তাঁর মতে, দেশের শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের উদ্বেগ কেবল শিক্ষাক্ষেত্রের সমস্যা নয়, এটি বৃহত্তর সামাজিক ও প্রশাসনিক প্রশ্নের সঙ্গেও যুক্ত।
রাহুল গান্ধী আরও বলেন, পরীক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তা সরকারকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা উচিত। তাঁর দাবি, আন্দোলনকারীদের বক্তব্য শোনার পরিবর্তে তাঁদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং আন্দোলনকারীদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।
প্রসঙ্গত, সোমবার পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সংসদ অভিযানে নামে সিজেপি-র সমর্থকেরা। দিল্লি পুলিশের অনুমতি না থাকলেও বিক্ষোভকারীরা মিছিল এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা হলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
পরে আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জে পি নাড্ডা (J. P. Nadda)। আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তাঁদের কয়েকজন প্রতিনিধির সঙ্গে কেন্দ্রের আলোচনা হয়েছে। তবে বৈঠকের ফলাফল সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
দিল্লির এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে। একদিকে বিরোধীরা পুলিশি পদক্ষেপের সমালোচনা করছে, অন্যদিকে প্রশাসনের তরফে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। ঘটনার জেরে আগামী দিনে সংসদ ও জাতীয় রাজনীতিতে এই ইস্যু আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
Leave a Comment