আগরতলা, ২০ জুলাই: রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালক (ডিজিপি) অনুরাগ ধনকর সোমবার নিজ দপ্তরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে আগরতলার গোবিন্দ বল্লভ (জিবি) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য প্রশাসনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জিবি হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. প্রদীপ ভৌমিক জানান, অনুরাগ ধনকরকে হাসপাতালে আনার সময় তাঁর শরীরে কোনও পালস বা রক্তচাপ ছিল না। হাসপাতালে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই সিনিয়র চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন (সিপিআর) শুরু করা হয়। চিকিৎসা প্রোটোকল অনুযায়ী সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হলেও তাঁকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত দুপুর ১২টা ৪৮ মিনিটে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে তাঁর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক তথ্য জানানো হয়নি। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহা দ্রুত পুলিশ সদর দপ্তরে পৌঁছে পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। ঘটনাস্থলে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরাও পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত ও প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহের কাজ শুরু করেন।
তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্যক্তিগত, পেশাগত, প্রশাসনিকসহ সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট কারণ বা প্রমাণ সামনে আসেনি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও ধরনের জল্পনা-কল্পনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
অনুরাগ ধনকর ১৯৯৪ ব্যাচের ত্রিপুরা ক্যাডারের আইপিএস কর্মকর্তা ছিলেন। ২০২৫ সালের মে মাসে তিনি ত্রিপুরার ডিজিপি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি ডিজিপি (ইন্টেলিজেন্স) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি কর্মজীবনে তিনি ত্রিপুরা পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই, সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এবং জাতিসংঘের কসোভো মিশনেও দায়িত্ব পালন করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতেই পরবর্তী আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হবে। বর্তমানে পুরো ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
Leave a Comment