রাজ্য সরকারের অন্নপূর্ণা যোজনা চালুর পর থেকেই উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা করে পৌঁছাতে শুরু করেছে। তবে এর মধ্যেই আবেদন বাতিল, তথ্যগত অসঙ্গতি এবং অযোগ্য আবেদনকারীদের নাম তালিকায় থাকার অভিযোগ সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রকল্প নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করলেন নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মালতি রাভা রায়।
রথযাত্রার দিন কোচবিহারের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার এখনও নতুন পর্যায়ে কাজ করছে এবং যোগ্য আবেদনকারীদের নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও কারণ নেই। তাঁর কথায়, “সরকারের বয়স মাত্র দু’মাস। একটু সময় দিন। যাঁরা প্রকৃত যোগ্য, তাঁরা অবশ্যই সরকারের সহায়তা পাবেন।”
মন্ত্রী জানান, আবেদনপত্র যাচাইয়ের সময় একাধিক ধরনের সমস্যা ধরা পড়ছে। অনেক আবেদনকারী অনলাইনের পাশাপাশি অফলাইনেও আবেদন করেছেন। আবার কেউ কেউ একই ব্যক্তির নামে একাধিক আবেদন জমা দিয়েছেন। এই সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখেই চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, যাঁরা তথ্য গোপন করে বা ভুল তথ্য দিয়ে আবেদন করেছেন, তাঁদের আবেদনও পুনরায় যাচাই করা হচ্ছে। যদি দেখা যায় তাঁরা প্রকল্পের নির্ধারিত যোগ্যতার মধ্যে পড়েন না, তাহলে তাঁদের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।
এর আগে পুর ও নারী-শিশু কল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও জানিয়েছিলেন, অন্নপূর্ণা যোজনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতিটি আবেদন বিস্তারিতভাবে যাচাই করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য ছিল, শুধুমাত্র যোগ্য আবেদনকারীরাই এই প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা পাবেন। নথিতে অসঙ্গতি বা তথ্যগত সমস্যা ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট আবেদন বাতিল হতে পারে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন জেলায় মাঠপর্যায়ে কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে আবেদনকারীদের তথ্য যাচাই করছেন। বিশেষ করে যাঁদের আবেদন আগে বাতিল হয়েছিল বা নথিতে ত্রুটি ধরা পড়েছিল, তাঁদের তথ্য নতুন করে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। এই যাচাই শেষ হওয়ার পরই চূড়ান্ত উপভোক্তা তালিকা আরও আপডেট করা হবে।
রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে যাতে প্রকৃত উপভোক্তারাই সুবিধা পান, সেই লক্ষ্যেই সরকার যাচাই প্রক্রিয়াকে আরও কঠোর করেছে বলে প্রশাসনিক মহলের দাবি। ফলে যাঁরা যোগ্য, তাঁদের ধৈর্য রাখার আবেদন জানিয়েছে সরকার। অন্যদিকে, ভুল তথ্য দিয়ে আবেদন করলে সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী।
Leave a Comment