---Advertisement---

পহেলগাম হামলার চার্জশিটে হাফিজ সইদের নাম, লস্কর প্রধানের পাশে পাকিস্তান

By Suman Debnath

July 16, 2026 6:15 PM

পহেলগাম হামলার চার্জশিটে হাফিজ সইদের নাম, লস্কর প্রধানের পাশে পাকিস্তান

---Advertisement---


পহেলগাম জঙ্গি হামলার তদন্তে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ-র দাখিল করা অতিরিক্ত চার্জশিটে লস্কর-ই-তৈবার প্রধান তথা রাষ্ট্রসঙ্ঘ ঘোষিত জঙ্গি হাফিজ সইদের নাম উঠে এসেছে। আর তার নাম উঠে আসতেই সরব হল পাকিস্তান। এনআইএ-র তদন্তকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে ইসলামাবাদ। সেই সঙ্গে পহেলগাম হামলার সঙ্গে পাকিস্তানের কোনও যোগ নেই বলেও তারা দাবি করেছে।

পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি এক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, এনআইএ-র অতিরিক্ত চার্জশিট পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীরের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে নিশানা করতেই এই আইনি প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, ভারত এই তদন্তকে রাজনৈতিক স্বার্থে কাজে লাগাতে চাইছে। পাশাপাশি তাঁর দাবি, পহেলগাম হামলার সঙ্গে পাকিস্তানের যোগ রয়েছে এমন কোনও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ ভারত এখনও দেখাতে পারেনি। তাই নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবিও জানায় পাকিস্তান।

গত ৬ জুলাই এনআইএ পহেলগাম হামলার ঘটনায় ১ হাজার ৫৯৭ পাতার অতিরিক্ত চার্জশিট জমা দেয়। সেখানে হামলার নেপথ্যে পাকিস্তানের ষড়যন্ত্র, লস্কর-ই-তৈবার ভূমিকা এবং হাফিজ সইদের যুক্ত থাকার বিভিন্ন তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে। চার্জশিটে হাফিজ সইদকে পলাতক অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:  হরমুজকে ঘিরে ফের যুদ্ধের আগুন, মার্কিন হামলার পাল্টা জবাব ইরানের ভেস্তে গেল শান্তি চুক্তি

এই মামলায় ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর প্রথম চার্জশিট জমা দিয়েছিল এনআইএ। সেখানে পাকিস্তানি হ্যান্ডলার সাজিদ জাট, ‘অপারেশন মহাদেব’-এ নিহত ৩ জঙ্গি এবং গ্রেপ্তার হওয়া ২ অভিযুক্তের নাম ছিল। পাশাপাশি হামলার পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন এবং পরিচালনায় লস্কর-ই-তৈবা ও তার সহযোগী সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট বা টিআরএফের ভূমিকার বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়।

তদন্তে এনআইএ দাবি করেছে, হামলার সঙ্গে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের যোগের একাধিক ডিজিটাল, আর্থিক ও ঘটনার সঙ্গে যুক্ত বাস্তব প্রমাণ তাদের হাতে এসেছে। তদন্তকারীদের দাবি, হামলার সময় জঙ্গিদের অ্যাকশন ক্যামেরায় নেওয়া ফুটেজ, এনক্রিপ্টেড হোয়াটসঅ্যাপ ও সমাজ মাধ্যমে যোগাযোগ, পাকিস্তানি হ্যান্ডলার সাজিদ জাটের পাঠানো বলে অভিযোগে জিপিএস অবস্থান, এমনকী সীমান্ত পেরিয়ে ড্রোনে অস্ত্র পাঠানোর তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে। ওই অস্ত্রের মধ্যে এম-৪ কারবাইন ও একে-৪৭ রাইফেল ব্যবহারের তথ্যও এনআইএর হাতে রয়েছে বলে সূত্রের দাবি।

আরও পড়ুন:  বিয়ের ৬ মাস না কাটতেই স্ত্রীকে খুন, প্রেমিকাকে বডির ছবি পাঠাল আমেরিকায় সেটলড ভারতীয় টেকি

যদিও পাকিস্তান এই সমস্ত তথ্যপ্রমাণের বিষয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য না করে গোটা তদন্তকেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে। ইসলামাবাদের বক্তব্য, ভারতের কোনও আইনি পদক্ষেপ জম্মু-কাশ্মীরের অবস্থান বদলাতে পারবে না। ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রের মতে, পাকিস্তানের এই অবস্থান মূলত লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে টিআরএফের সম্পর্ক অস্বীকার করার পুরনো অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা। তবে আন্তর্জাতিক মহলে এখন টিআরএফকে লস্কর-ই-তৈবারই একটি ছদ্মনাম বা সহযোগী সংগঠন হিসেবে ক্রমশ স্বীকৃত করা হচ্ছে। সেই কারণেই এনআইএ-র তদন্তের পর পাকিস্তান প্রকাশ্যে হাফিজ সইদের পক্ষে সওয়াল করতে নেমেছে বলে মনে করছে তদন্তকারী মহল।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment