মমতার হাত ছাড়লেন মণীশ গুপ্তও, একুশে জুলাইয়ের আগে তৃণমূল ত্যাগ

By Suman Debnath

July 16, 2026 4:35 PM

মমতার হাত ছাড়লেন মণীশ গুপ্তও, একুশে জুলাইয়ের আগে তৃণমূল ত্যাগ


কোয়েল মল্লিকের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই আরও একটা ধাক্কা খেল তৃণমূল কংগ্রেস। কারণ বৃহস্পতিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছাড়লেন মণীশ গুপ্তও। তাও আবার একুশে জুলাইয়ের আগেই। যা রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তৃণমূল থেকে প্রাক্তন মন্ত্রী মণীশ গুপ্ত ইস্তফা দেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পদত্যাগপত্র পাঠাচ্ছেন তিনি। এমনকী এই ইস্তফার কথা নিজেই সংবাদমাধ্যমে জানিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তিনি। ১৯৯৩ সালের একুশে জুলাই মহাকরণ অভিযানে যুব কংগ্রেসের বিক্ষোভকারীদের উপর গুলিচালনার নির্দেশ দিয়ে বিতর্কের মাঝে ছিলেন মণীশ গুপ্ত। অথচ ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পর সেসব ভুলে বামফ্রন্ট সরকারের স্বরাষ্ট্রসচিব সেই মণীশ গুপ্তকেই বিধায়ক এবং মন্ত্রী পদে এনেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এখন রাজ্যে আবার পালাবদল হয়েছে। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে পশ্চিমবঙ্গে। আর এমন সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছাড়লেন সেই মণীশই। কোয়েল মল্লিক এদিনই রাজ্যসভার সাংসদ পদে ইস্তফা দিয়েছেন। তার উপর মণীশ গুপ্তও সরে গেলেন তৃণমূল কংগ্রেস থেকে। সুতরাং এবার একুশে জুলাইয়ের আগে আরও নিঃস্ব হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল ছেড়ে দেওয়ার পর মণীশ গুপ্ত বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী দক্ষ প্রশাসক, জনপ্রিয় নেতা। রাজ্যকে আরও উঁচু জায়গায় নিয়ে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী। এই দলটায় আমার আর কিছু করার নেই। তাই অযথা সময় নষ্ট না করে ছেড়েই দিলাম। পরে অবশ্যই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দেব।’

আরও পড়ুন:  শিবির বদলেই বিস্ফোরক মদন মিত্র! ‘অভিষেকের জন্যই দল ছাড়লাম, ও ইডির থেকে বেশি ভয়ংকর’

মণীশ গুপ্ত কখনও তৃণমূলের সংগঠন গড়ে তোলার কাজ করেনি। তাই তিনি দলের সম্পদ ছিলেন নাকি বোঝা ছিলেন সেটা নিয়ে অনেকের প্রশ্ন আছে। কাকলি ঘোষদস্তিদার ৩৩ বছর আগের যুব কংগ্রেসের বিক্ষোভে মণীশ গুপ্তর নির্দেশে চলা গুলিতে ১৩ জন শহিদের মৃত্যুর পর কেন তাঁর বিরুদ্ধে কোনও তদন্ত ছাড়া তৃণমূলে নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি লিখে মণীশ গুপ্তর বিরুদ্ধে নতুন করে তদন্তের আর্জি জানাবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কাকলি।

তাছাড়া এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মণীশ পাশে থাকার বদলে সরে গেলেন। কংগ্রেসও এখন মণীশের অতীত নিয়ে তদন্তের দাবি করেছে। ফলে সাঁড়াশি চাপে পড়ে গিয়েছেন মণীশ। আর তারপরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করেছেন। মণীশ গুপ্ত বলেছেন, ‘এখন যিনি মুখ্যমন্ত্রী, শুভেন্দু অধিকারী, তিনি অত্যন্ত দক্ষ প্রশাসক। আশা করি, বাংলাকে তিনি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবেন।’

আরও পড়ুন:  ১২৫ দিনের কাজে গতি নেই! জি রাম জি প্রকল্পে রাজ্যে আসছেন কেন্দ্রীয় আধিকারিকরা

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment