---Advertisement---

অনলাইনে পর্নোগ্রাফির বিস্তার: সন্তানের নিরাপত্তায় উদ্বিগ্ন অভিভাবক

By Suman Debnath

July 15, 2026 9:01 PM

অনলাইনে পর্নোগ্রাফির বিস্তার: সন্তানের নিরাপত্তায় উদ্বিগ্ন অভিভাবক

---Advertisement---



প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে ইন্টারনেট এখন দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। শিক্ষা, বিনোদন ও যোগাযোগের জন্য শিশু-কিশোররাও আগের তুলনায় অনেক বেশি সময় অনলাইনে কাটাচ্ছে। তবে এই সুবিধার পাশাপাশি বয়স-অনুপযোগী ও ক্ষতিকর কনটেন্টে তাদের সহজ প্রবেশাধিকার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে অভিভাবকদের মধ্যে।

বিশেষ করে পর্নোগ্রাফিসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর কনটেন্ট শিশুদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অভিভাবকদের ভূমিকা কেন গুরুত্বপূর্ণ

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু সন্তানকে স্মার্টফোন বা ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ করে দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। তারা কোন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করছে, কোন অ্যাপ ব্যবহার করছে এবং প্রতিদিন কত সময় অনলাইনে কাটাচ্ছে—এসব বিষয়ে পরিবারের সচেতন নজরদারি প্রয়োজন।

একই সঙ্গে সন্তানদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা, পারস্পরিক আস্থা গড়ে তোলা এবং নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহারের নিয়ম শেখানোও অত্যন্ত জরুরি। এতে শিশুদের মধ্যে দায়িত্বশীল ডিজিটাল আচরণ গড়ে ওঠে এবং ঝুঁকিপূর্ণ কনটেন্ট থেকে দূরে থাকার মানসিকতা তৈরি হয়।

মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, বয়সের আগেই যৌনধর্মী বা অনুপযুক্ত কনটেন্টের সংস্পর্শে এলে শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশ, আবেগ নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক আচরণ এবং পারিবারিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এটি উদ্বেগ, বিভ্রান্তি, আসক্তি কিংবা ভুল ধারণার জন্ম দিতে পারে।

তাই শিশুদের বয়স উপযোগী শিক্ষা এবং পরিবারে খোলামেলা ও ইতিবাচক যোগাযোগের পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।

প্রযুক্তির মাধ্যমেই প্রযুক্তির ঝুঁকি কমানো সম্ভব

তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, স্মার্টফোন, ট্যাবলেট ও কম্পিউটারে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল, সেফ সার্চ, স্ক্রিন টাইম ম্যানেজমেন্ট এবং বয়সভিত্তিক কনটেন্ট ফিল্টার ব্যবহার করলে অনাকাঙ্ক্ষিত ওয়েবসাইটে প্রবেশের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।

এছাড়া শিশুদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান বজায় রেখে নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু পরিবারের সচেতনতা যথেষ্ট নয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি কোম্পানি, নীতিনির্ধারক সংস্থা এবং সরকারের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

তাদের মতে, ডিজিটাল নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারে উৎসাহিত করাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনলাইন ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখার অন্যতম কার্যকর উপায়।

আমার বাঙলা/ রাব্বি

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment