---Advertisement---

‘আমার জেলের জন্য দায়ী অভিষেক’, শিবির বদলের পর বিস্ফোরক অনুব্রত

By Suman Debnath

July 15, 2026 7:10 PM

‘আমার জেলের জন্য দায়ী অভিষেক’, শিবির বদলের পর বিস্ফোরক অনুব্রত

---Advertisement---


তৃণমূলের অন্দরের রাজনৈতিক সংঘাত আরও প্রকাশ্যে এল। শিবির পরিবর্তনের পর অনুব্রত মণ্ডল এবং মদন মিত্র দু’জনেই প্রকাশ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী করেছেন। অনুব্রতের দাবি, গরুপাচার মামলায় তাঁর কারাবাসের নেপথ্যেও অভিষেকের ভূমিকা ছিল। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনও প্রমাণ প্রকাশ্যে আনেননি। অন্যদিকে মদন মিত্রও দলের সাংগঠনিক নেতৃত্ব নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তবে এই সমস্ত অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে অভিষেকের পাশেই দাঁড়িয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

বুধবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরে যোগ দেওয়ার পর অনুব্রত মণ্ডল বলেন, “আমি জেলে গেলাম কেন? কার জন্য গেলাম? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য।” একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, তিনি এখনও নিজেকে তৃণমূলের কর্মী বলেই মনে করেন এবং দলের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছিলেন।

একই মঞ্চে মদন মিত্রও অভিষেককে নিশানা করেন। তাঁর অভিযোগ, দলের বর্তমান সাংগঠনিক অবস্থার জন্য অভিষেকই দায়ী। মদনের আরও দাবি, অনেক নেতাকে তদন্তের মুখে পড়তে হয়েছে এবং যাঁরা ‘টাকা দেননি’, তাঁরাই জেলে গিয়েছেন। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনও তথ্য বা প্রমাণ প্রকাশ করেননি।

আরও পড়ুন:  ডুলুংয়ের উপর স্থায়ী সেতুর দাবিতে বিধানসভায় সরব বিনপুরের বিধায়ক প্রণত টুডু

শিবির বদলের সময় নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও জল্পনা শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, মঙ্গলবারই ইডি মদন মিত্রের স্ত্রী ও দুই ছেলেকে একটি মামলার তদন্তে তলব করেছিল। এরপরই তিনি ঋতব্রত শিবিরের নেতা সন্দীপন সাহার সঙ্গে বৈঠক করেন এবং পরদিন আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন শিবিরে যোগ দেন। অন্যদিকে অনুব্রত মণ্ডলের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন তদন্তকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে অনুব্রত এই ধরনের সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “আমি এসবকে ভয় পাই না।”

নিজের বক্তব্যে তিনি আরও দাবি করেন, বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে চারবার ফোন করেছিলেন। সেই প্রসঙ্গ তুলে তাঁর মন্তব্য, “আমি বলেছিলাম, চোখে নয়, কানে দেখুন।” এই মন্তব্যের তাৎপর্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন:  শাসকের বুক কাঁপানো ছাত্র মিছিল কলকাতায়, বামেদের ডাকা মিছিলে মিশে গেল লাখো পড়ুয়ার ক্ষোভ

এদিকে, অনুব্রত ও মদনের অভিযোগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সমাজমাধ্যমে বার্তা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি নিজের আস্থা পুনর্ব্যক্ত করেন। মমতার বক্তব্য, “অভিষেককে অজুহাত করা হচ্ছে। যদি কারও মনে হয়ে থাকে ও কোনও ভুল করেছে, সেই ভুলের মূল্য ও দিয়েছে। আজ সে বাঘের মতো লড়াই করছে।”

মমতা আরও দাবি করেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তলবের মুখোমুখি হয়েছেন। তাঁর কথায়, চাইলে অভিষেক আপসের পথ বেছে নিতে পারতেন, কিন্তু তিনি তা করেননি। সেই কারণেই তাঁর প্রতি আস্থা অটুট রয়েছে বলে জানান তৃণমূল নেত্রী।

তৃণমূলের অন্দরে এই প্রকাশ্য মতবিরোধ এবং পাল্টা বক্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। তবে অনুব্রত মণ্ডল ও মদন মিত্রের অভিযোগের বিষয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment