একুশে জুলাইয়ের আগেই মমতার সঙ্গ ত্যাগ করলেন মদন, দলের সব পদ থেকে দিলেন ইস্তফা

By Suman Debnath

July 15, 2026 3:00 PM

একুশে জুলাইয়ের আগেই মমতার সঙ্গ ত্যাগ করলেন মদন, দলের সব পদ থেকে দিলেন ইস্তফা


তৃণমূলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিলেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। কালীঘাট গোষ্ঠীর আর এক বিধায়ক যোগ দিলেন ঋতব্রত গোষ্ঠীতে। বুধবার দলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিয়েই পথ বদলালেন মিত্র মদন। বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে একেবারে পাশে বসেই কালীঘাট গোষ্ঠীর সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দেন মদন। ফিরহাদ হাকিম, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, অরূপ বিশ্বাস, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের পরে এবার মদনও বদলালেন শিবির। সুতরাং দুর্বল হলো কালীঘাট শিবির বলে মনে করা হচ্ছে। একুশে জুলাইয়ের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরকে জোর ধাক্কা দিলেন মদন বলেই রাজ্য-রাজনীতিতে চর্চিত হচ্ছে।

পুরসভার নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এবার রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের স্ত্রী এবং দুই ছেলেকে তলব করল ইডি। আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে নথিপত্র নিয়ে চলতি সপ্তাহেই ইডি দপ্তরে তাঁদের হাজির দিতে নোটিসে বলা হয়েছে। ইডির নোটিস মেলার পরই মঙ্গলবার রাতে মদন মিত্র হাজির হন এন্টালির তৃণমূল বিধায়ক তথা ঋতব্রত শিবিরের অপর সদস্য সন্দীপন সাহার বাবা তথা এন্টালির প্রাক্তন বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহার বাড়িতে। সেখানে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক হয় তাঁদের মধ্যে। তারপরই বুধবার ভবানীপুরের বাড়ি থেকে বেরিয়ে সোজা চলে যান বিধানসভায়। সেখানে গিয়ে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে বসেই কালীঘাট তৃণমূলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তিনি।

আরও পড়ুন:  মহাপঞ্চমীতেই লক্ষ্মীলাভ! মহার্ঘভাতা-সহ আগাম বেতন পেলেন সরকারি কর্মচারীরা

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর খান খান হয়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। রীতিমতো দুটি গোষ্ঠী তৈরি হয়ে গিয়েছে। মদন মিত্র কালীঘাট তৃণমূলে থাকলেও সন্দীপন সাহা-সহ বেশিরভাগ বিধায়ক ঋতব্রত শিবিরে ভিড়ে গিয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠবৃত্ত হিসেবে যাঁদের নাম উচ্চারিত হয়, তাঁদের বেশিরভাগই তাঁর সঙ্গ ত্যাগ করেছেন। কিন্তু এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও দিদির পাশে ছিলেন মদন মিত্র, কুণাল ঘোষ, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ অন্যান্যরা। কামারহাটির দাপুটে বিধায়ক মদন মিত্র এদিন সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলে দিয়ে যোগ দিলেন ঋতব্রত শিবিরে।

গত জুন মাসে পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মদন মিত্রের ভবানীপুরের বাড়ি এবং কামারহাটি, জোকা–র ফ্ল্যাট–সহ মোট আটটি ঠিকানায় একসঙ্গে তল্লাশি চালিয়েছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ওই সব ঠিকানা থেকে ডিজিটাল ডকুমেন্ট বাজেয়াপ্ত করেন অফিসাররা। উদ্ধার করা নথি থেকে আর্থিক লেনদেনের যে প্রমাণ মিলেছে তাতে ওই তিনজনের যোগ আছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখা হবে বলে সূত্রের খবর। দীর্ঘদিন যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংগ্রামের সাক্ষী ছিলেন সেই ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অরূপ বিশ্বাস, অনুব্রত মণ্ডলরা তাঁর হাত ছেড়েছেন। এবার মমতার সঙ্গ ছাড়লেন মদনও। আর মমতার দেওয়া সব পদ ছেড়েই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধলেন মদন। তিনি বলেন, ‘অভিষেকের জন্যই দলের এই পরিণতি হয়েছে। তাঁর জন্যই ধ্বংস হয়েছে তৃণমূল। দলের নৌকাডুবি হয়েছে। দীর্ঘদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের পাশে থেকেছেন। আমরাও চেষ্টা করেছি কমবেশি করার। আমি তৃণমূলে ছিলাম, তৃণমূলেই রইলাম। শুধু ও ঘর থেকে এ ঘরে এলাম। ও ঘরে সুখের পালঙ্ক ছিল, এ ঘরে খাটিয়া আছে। জীবন মরণ সাঁকোর সামনে, বয়স এখন দাঁড়িয়ে। এখন তোমায় বুঝতে হবে, কী হবে আর কী হবে না? কোন সাঁকোটা পারাপারের, কোন সাঁকোটা পার হবে না। জীবনের এই সন্দিক্ষণে এসে আমি দাঁড়িয়েছি। আমি কোনও ভয়ের কাছে নতিস্বীকার করছি না। আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়েই দল ছাড়লাম।’

আরও পড়ুন:  রাজ্যের সরকারি মেডিক্যাল কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু, ১১ জুলাই ইন্টারভিউ

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment