বিশ্বকাপ ফুটবল প্রায় শেষ পর্যায়ে। সারা দুনিয়ায় এখন চলছে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়নদের নিয়ে জল্পনা। জোর চর্চা চলছে, দুই সেমিফাইনাল জিতে ১৯ জুলাই কারা মুখোমুখি হবে ফাইনালে। আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স না স্পেন—কাদের হাতে উঠবে এ বারের বিশ্বকাপ। এই চর্চায় যোগ দিয়েছেন বলিউডের কিংবদন্তি অ্মিতাভ বচ্চনও। বিশেষ করে রেফারি ও ভার-এর বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে। সমাজমাধ্যমে তাঁর নয়া পোস্টে নিজের মনের কথা জানিয়েছেন অমিতাভ।
কী লিখেছেন ‘বিগ বি’?
রেফারিদের বহুচর্চিত বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও তাদের ওপর ভার-এর প্রভাব নিয়েই মন্তব্য করেছেন অমিতাভ। এই প্রসঙ্গে তিনি আরো লিখেছেন, “সময়সূচি আর সময়ের ধারণাটাই যেন পুরো ওলটপালট হয়ে গেছে। অবশ্য এর কারণ ২০২৬ বিশ্বকাপ। ম্যাচ দেখার সময়গুলো এতটাই অদ্ভুত যে আমাদের দৈনন্দিন জীবন আরও বিশৃঙ্খল হয়ে উঠছে। তবুও আমরা ম্যাচ দেখি, দলকে সমর্থন করি, আবার হতাশও হই। একই সঙ্গে অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে দেখি, এক দলের ক্ষেত্রে এক রকম আর অন্য দলের ক্ষেত্রে অন্য রকম—এমন অন্যায্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে”।
তথাকথিত ছোট ফুটবলখেলিয়ে দেশগুলির চমকে দেওয়া পারফরম্যান্স নিয়েও লিখেছেন চিরসবুজ এই অবিনেতা। লেখেন, “এমন সব দেশের জয়ে আমরা উচ্ছ্বসিত হই, যাদের বিশ্বকাপে এতদূর পর্যন্ত লড়াই করতে দেখব বলে কখনো ভাবিনি। ফুটবলের বহু নামী ও ঐতিহ্যবাহী দেশ বড় আক্ষেপ নিয়ে বিদায় নিয়েছে—যা সত্যিই বিস্ময়কর। তবে আনন্দের বিষয়, যেসব দলকে আমরা কখনো এতটা গুরুত্ব দিইনি, তারা দুর্দান্ত লড়াই করে নিজেদের পরিচিতি তৈরি করেছে”।
বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে ভাল সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও বিশ্বকাপের আসরে তাদের ‘শত্রুতা’ দেখে অবাক এবং মুগ্ধ অমিতাভ। এই প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, “নিজেদের দেশের হয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে খেলা বেশিরভাগ ফুটবলারই বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও চ্যাম্পিয়নশিপে আগে একসঙ্গে খেলেছে। ফলে তারা একে অপরকে খুব ভালোভাবে চেনে, একে অপরের খেলার ধরন সম্পর্কেও ওয়াকিবহাল। মাঠের বাইরে তারা বন্ধু, কিন্তু মাঠে নামলেই নিজেদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে। পরিস্থিতিটা বেশ অদ্ভুত, কিন্তু খেলাটা এভাবেই চলতে থাকে। ঠিক আইপিএলের মতো। সেখানে ক্রিকেটাররা ভিন্ন ভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে খেলে এবং একে অপরের প্রতিপক্ষ হয়। কিন্তু জাতীয় দলে একসঙ্গে খেলতে নামলেই তারা এক দল, তাদের একটাই লক্ষ্য। এর জন্য চরিত্র ও মানসিক দৃঢ়তা দরকার।”
তবে ফুটবলে প্রযুক্তির প্রভাব ও উন্নতি নিয়ে বেশ খুশি তিনি। তাঁর মতে, “উন্নতির পথে এত দ্রুত পরিবর্তন সত্যিই আশীর্বাদস্বরূপ। তরুণ প্রজন্ম তা দেখছে এবং তার সুফল পাচ্ছে। আর বয়স্করা বিস্ময় প্রকাশ করে ভাবেন, তাঁদের তরুণ বয়সে কেন এমনটা ঘটেনি! এখন আর কিছু করার সময় নেই। আগামী বছরগুলোতে আরও কী কী পরিবর্তন আসবে, তা দেখার সৌভাগ্যও হয়তো আমাদের হবে না। কিন্তু আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম তা দেখবে— আর সেটাই এক ধরনের তৃপ্তি”। অমিতাভ বচ্চন বর্তমানে তাঁর আগামী ছবি ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’-র সিক্যুয়েলের শুটিং নিয়ে এখন ব্যস্ত। তার মধ্যেই বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে তাঁর এই আগ্রহ সত্যিই প্রশংসনীয়।
Leave a Comment