দেশের সবচেয়ে পুরনো মেট্রো নেটওয়ার্কের মুকুটে জুড়তে চলেছে নতুন পালক। তিলোত্তমায় এবার ইতিহাস গড়তে চলেছে চালকহীন মেট্রো (Driverless Metro)। সম্প্রতি কলকাতার গ্রিন লাইন অর্থাৎ ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো করিডোরে (East-West Metro Corridor) অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হল চালকহীন ট্রায়াল রান। কমিশনার অব রেলওয়ে সেফটি (Commissioner of Railway Safety-CRS) সুমিত সিংঘলের নেতৃত্বে এই উচ্চপর্যায়ের পরীক্ষা চালানো হয়। চূড়ান্ত লিখিত ছাড়পত্র বা সবুজ সংকেত পেলেই আর কয়েক মাসের মধ্যে গঙ্গার তলা দিয়ে ছুটবে কলকাতার প্রথম চালকহীন অত্যাধুনিক ট্রেন।
হাওড়া ময়দান থেকে সেন্ট্রাল পার্ক
মেট্রো রেল সূত্রের খবর, সিআরএস (CRS) সিগন্যালিং ব্যবস্থা ও জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে হাওড়া ময়দান স্টেশন থেকে এই বিশেষ পরিদর্শন শুরু করেন। গ্রিন লাইনের মোট ১২টি স্টেশনে দাঁড়িয়ে এবং ট্রেনের প্রতিটি সূক্ষ্ম কারিগরি দিক খতিয়ে দেখা হয়। বিশেষভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে গঙ্গার তলার ৫২০ মিটার দীর্ঘ টানেল অংশটি। চালকহীন মোডে চলাকালীন নদীর নিচে কোনও জরুরি পরিস্থিতি (Emergency) তৈরি হলে ট্রেনটির প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে, তা খুঁটিয়ে দেখেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকী, ট্রায়াল রানের সময় মাঝপথে আচমকা ব্রেক কষে আপৎকালীন ব্রেকিং সিস্টেমের কার্যকারিতাও পরীক্ষা করা হয়।
কীভাবে কাজ করবে চালকহীন মেট্রো?
কলকাতা মেট্রোর গ্রিন লাইনে ব্যবহার করা হচ্ছে উন্নত প্রযুক্তির সিগন্যালিং সিস্টেম, কমিউনিকেশন-বেসড ট্রেন কন্ট্রোল (Communication-Based Train Control বা CBTC)। এর তৃতীয় স্তর হল অটোমেটিক ট্রেন অপারেশন বা এটিও (Automatic Train Operation/ATO) মোড। এই প্রযুক্তিতে ট্রেনের গতি বাড়ানো, ব্রেক কষা এবং স্টেশনে সঠিক জায়গায় ট্রেন থামানোর মতো যাবতীয় কাজ মেট্রোর চালক ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে হবে। সেন্ট্রাল পার্ক ডিপোর ভেতরে থাকা অপারেশন কন্ট্রোল সেন্টার (Operation Control Center/OCC) থেকেই রিমোটের সাহায্যে দূরনিয়ন্ত্রিতভাবে চালিত হবে এই ট্রেন।
ধাপে ধাপে রূপান্তর
শুরুর দিকে কেবিনে চালক বা কর্মীরা উপস্থিত থাকবেন, যাঁরা কেবল দরজা খোলা-বন্ধ করা এবং ট্রেন চালু করার প্রাথমিক প্রক্রিয়াটি সামলাবেন। সিআরএস-এর পূর্ণ অনুমোদনের পর ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ চালকহীন ব্যবস্থায় চলে যাবে এই পুরো রুট।
ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর সল্টলেক সেক্টর ফাইভ থেকে হাওড়া ময়দান পর্যন্ত পুরো ১৬.৬ কিলোমিটার করিডোরে এই আধুনিক সিগন্যালিং ব্যবস্থার ছাড়পত্র মিললে কলকাতার গণপরিবহণে যে এক নতুন যুগের সূচনা হবে, তা বলাই বাহুল্য।
Leave a Comment