---Advertisement---

শচীন তেন্ডুলকর, জয় শাহদের সামনে লর্ডসে ঐতিহাসিক টেস্ট জয় হরমনপ্রীতদের

By Suman Debnath

July 13, 2026 6:20 PM

শচীন তেন্ডুলকর, জয় শাহদের সামনে লর্ডসে ঐতিহাসিক টেস্ট জয় হরমনপ্রীতদের

---Advertisement---





ঐতিহাসিক লর্ডসে ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নিল ভারতের মহিলা ক্রিকেট দল। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্টে দুরন্ত অলরাউন্ড পারফরম্যান্স দেখিয়ে সোমবার ইংল্যান্ডকে ২৭০ রানে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল ভারত। চার দিনেই নিষ্পত্তি হয়ে গেল টেস্টের এবং এই চার দিন আগাগোড়াই দাপট ছিল হরমনপ্রীত কৌরদের।

ম্যাচ জিততে চতুর্থ দিন ভারতের দরকার ছিল মাত্র চারটি উইকেট। দিনের প্রথম সেশনেই সেই কাজটুকু সেরে ফেলেন ভারতীয় বোলাররা। সোফি একলেস্টোনের লড়াকু হাফ সেঞ্চুরি সত্ত্বেও ইংল্যান্ড ৬২.৫ ওভারে ১৮৬ রানে অলআউট হয়ে যায়।

যে ফরম্যাটে ভারতের মহিলা দল নিয়মিত খেলে না, সেই টেস্ট ক্রিকেটেই নিখুঁত পারফরম্যান্স উপহার দেয় তারা। ক্রিকেটের ‘মক্কা’ লর্ডসে ইংল্যান্ডকে সম্পূর্ণভাবে ছাপিয়ে গিয়ে প্রাপ্য জয় তুলে নেওয়াটা অবশ্যই কৃতিত্বের।

চতুর্থ দিনের খেলা শুরুর আগে ভারতীয় দলকে উদ্বুদ্ধ করতে ড্রেসিংরুমে গিয়ে বিশেষ বার্তা দেন কিংবদন্তি সচিন তেন্ডুলকর। ম্যাচটি গ্যালারিতে বসে উপভোগ করেন আইসিসি-র চেয়ারম্যান জয় শাহও। ম্যাচ শেষে সচিন ভারতীয় ক্রিকেটারদের সঙ্গে করমর্দন করে তাঁদের অভিনন্দন জানান।

আরও পড়ুন:  ব্রাজিলের প্রথম জয়, নায়ক ভিনিসিয়াস! তবু বিশ্বকাপে চিন্তার ভাঁজ বাড়াল আন্সেলোত্তির দলের পারফরম্যান্স

৪৫৭ রানের বিশাল লক্ষ্যে পৌঁছনোর উদ্দেশ্য নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে ১৩০ রান নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করেছিল ইংল্যান্ড। তারা ঘণ্টা দেড়েক ব্যাট করলেও শেষ পর্যন্ত ভারতীয় বোলারদের সামনে টিকতে পারেনি।দিনের শুরুতেই ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ স্কোরার অ্যামি জোন্স (৮০ বলে ৫৪) আউট হন। স্নেহ রাণার বলে মিড-উইকেটে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি।

গৌডের বলে দু’বার জীবনদান পাওয়া সোফি একলেস্টোন এরপর ইসি ওং-কে (৩৩ বলে ১) সঙ্গে নিয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তবে ভারতের জয়ে দেরি করানো ছাড়া তারা আর কিছু করতে পারেননি।

এরপর দীপ্তি শর্মা দ্রুত লরেন বেল ও ইসি ওংকে ফিরিয়ে দিয়ে ইংল্যান্ডের লেজ গুটিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত স্নেহ রাণার দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড হন একলেস্টোন। আর তাতেই মাঠে শুরু হয় ভারতীয় ক্রিকেটারদের উচ্ছ্বাস, পাশাপাশি ড্রেসিংরুমেও আনন্দের বিস্ফোরণ ঘটে।

আরও পড়ুন:  ইস্টবেঙ্গলে ড্যানি রামিরেজ - Dainik Statesman

টি-২০ বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর এই টেস্ট ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে নেমেছিল ভারত ও ইংল্যান্ড— দুই দলই। তার উপর ১৪২ বছর পর লর্ডসে হয় কোনো মহিলা টেস্ট। ফলে দুই দলের কাছেই ম্যাচটি ছিল বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতের ঐতিহাসিক জয়ের ভিত গড়ে দেন স্মৃতি মন্ধানা ও যস্তিকা ভাটিয়া। তৃতীয় দিনে তাঁদের স্মরণীয় শতরানের জুটিই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এরপর বল হাতে ম্যাচের নায়িকা হয়ে ওঠেন ক্রান্তি গৌড। পাঁচ উইকেট নিয়ে তিনি নিজের নাম লিখে দেন লর্ডসের বিখ্যাত অনার্স বোর্ডে।

এই বিশাল জয়ের ফলে টেস্ট ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের শ্রেষ্ঠত্ব আরও জোরালো হল। দুই দলের মধ্যে এখন পর্যন্ত হওয়া ১৬টি টেস্টের মধ্যে ভারত জিতেছে ৪টি, ইংল্যান্ড জিতেছে মাত্র ১টি এবং বাকি ১১টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। টেস্ট ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারত একমাত্র ম্যাচে হারে ১৯৯৫-এ।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment