ভারতীয় নৌবাহিনীর শক্তি বাড়িয়ে নৌবহরে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিল অত্যাধুনিক স্টেলখ ফ্রিগেট আইএনএস মহেন্দ্রগিরি। শনিবার বিশাখাপত্তনম নৌঘাঁটিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের উপস্থিতিতে যুদ্ধজাহাজটি নৌসেনার হাতে তুলে দেওয়া হয়। মুম্বাইয়ের মাজগাঁও ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেডে তৈরি এই রণতরীটি প্রজেক্ট ১৭এ-এর অধীনে নির্মিত ষষ্ঠ স্টেলথ ফ্রিগেট।
গত ৩০ এপ্রিল থেকে আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগরে সফলভাবে সমুদ্র পরীক্ষার পর এবার আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হল মহেন্দ্রগিরি। এদিন অনুষ্ঠান থেকে রাজনাথ সিং বলেন, ভবিষ্যতের যুদ্ধ প্রযুক্তিনির্ভর হলেও প্রশিক্ষিত সেনা ও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই শেষ পর্যন্ত সাফল্য এনে দেয়। তিনি জানান, পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক সঙ্কটের সময় ‘অপারেশন উরজা সুরক্ষা‘-য় ভারতীয় নৌবাহিনী ১৮টি বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপত্তা দিয়ে দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করেছে।
২০১০ সালে জলে ভেসেছিল এই গোত্রের প্রথম ফ্রিগেট ‘আইএনএস শিবালিক’। এরপর ‘স্টেল্থ ফ্রিগেট’ ‘আইএনএস নীলগিরি’ এবং ‘আইএনএস হিমগিরি’, ‘আইএনএস তারাগিরি’ এবং ‘আইএনএস উদয়গিরি’-কে নৌসেনার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। শুধু আইএনএস মহেন্দ্রগিরিই নয়, ভারতীয় নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করতে বড় পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্র।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, ২০২৭ সালের মধ্যে ভারতীয় নৌবাহিনীর বহরে ২০০টি বিভিন্ন শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ রাখার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন শিপইয়ার্ডে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৫টি যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ চলছে। এর পাশাপাশি দেশীয় প্রযুক্তিতে আরও ২ লক্ষ ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৭৪টি যুদ্ধজাহাজ ও ডুবোজাহাজ তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আইএনএস মহেন্দ্রগিরির অন্তর্ভুক্তি সেই আত্মনির্ভর ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিল।
প্রায় ৭৫ শতাংশ দেশীয় উপাদানে তৈরি এই যুদ্ধজাহাজে রয়েছে সুপারসনিক ব্রক্ষোস ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক রাডার, টর্পেডো, সাবমেরিন -বিধ্বংসী অস্ত্র এবং মাল্টি-রোল হেলিকপ্টার পরিচালনার সুবিধে। প্রায় ৬ হাজার ৬৭০ টন ওজনের এই রণতরী সর্বোচ্চ ২৮ নট গতিতে চলতে পারে। রণতরীটি একটানা প্রায় ৫ হাজার ৫০০ নটিক্যাল মাইল অভিযান চালানোর ক্ষমতা রাখে। স্টেলথ প্রযুক্তির কারণে শত্রুপক্ষের রাডারে সহজে ধরাও পড়ে না।
‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির আওতায় তৈরি হওয়া এই যুদ্ধজাহাজের নকশা করেছে ভারতীয় নৌবাহিনীর ওয়ারশিপ ডিজাইন ব্যুরো বা ডব্লিউডিবি। নির্মাণ করেছে মাজাগন ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড বা এমডিএল। জাহাজটির ৭৫ শতাংশেরও বেশি যন্ত্রাংশ ও প্রযুক্তি দেশেই তৈরি হয়েছে। এর নির্মাণে বড় শিল্প সংস্থার পাশাপাশি বহু ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প অংশ নিয়েছে।
Leave a Comment