---Advertisement---

বিয়ের ৬ মাস না কাটতেই স্ত্রীকে খুন, প্রেমিকাকে বডির ছবি পাঠাল আমেরিকায় সেটলড ভারতীয় টেকি

By Suman Debnath

July 10, 2026 9:30 AM

বিয়ের ৬ মাস না কাটতেই স্ত্রীকে খুন, প্রেমিকাকে বডির ছবি পাঠাল আমেরিকায় সেটলড ভারতীয় টেকি

---Advertisement---


আমেরিকার ওয়াশিংটন ডিসিতে এক ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে খুনের অভিযোগ ঘিরে তোলপাড়। অভিযুক্তের নাম অবিনাশ নার্নে (Avinash Narne), যিনি মূলত তেলেঙ্গানার বাসিন্দা এবং আমেরিকায় সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার (software development engineer) হিসেবে কর্মরত। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, স্ত্রী রাজিতা সাব্বিনেনিকে (Raajitha Sabbineni) খুন করে তিনি ভারতে থাকা তাঁর প্রেমিকাকে দেহের ছবি পাঠিয়েছিলেন।

তালাবন্ধ বাথরুমে নিথর দেহ

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর। ওয়াশিংটনে বেলভিউ পুলিশের (Bellevue Police) কাছে জরুরি ফোন করে অবিনাশ জানান, তাঁর স্ত্রী বাথরুমের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দিয়েছেন এবং কোনও সাড়া দিচ্ছেন না। পুলিশ গিয়ে দরজা ভেঙে দেখে মেঝেয় পড়ে রয়েছেন ২৭ বছর বয়সি রাজিতা, ঘটনাস্থলেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। বিয়ের ছয় মাসও পূর্ণ হয়নি তখন দম্পতির। কিং কাউন্টি মেডিক্যাল এগজামিনারের (King County Medical Examiner) ময়নাতদন্তে জানা যায়, শ্বাসরোধ করেই খুন করা হয়েছিল রাজিতাকে। মৃত্যুকে হত্যা বা হোমিসাইড (homicide) বলে ঘোষণা করা হয়।

স্মুদির তেতো স্বাদে রহস্যের জট

তদন্তকারীরা রাজিতার ফোন ঘেঁটে দেখেন, মৃত্যুর কিছুদিন আগে থেকেই তিনি বারবার স্বামীকে জানাচ্ছিলেন, তাঁর বানানো পানীয়ের স্বাদ অস্বাভাবিক তেতো লাগছে। মৃত্যুর দিনও রাজিতা অবিনাশকে মেসেজ পাঠিয়েছিলেন, সেদিন বানানো স্মুদির স্বাদ যেন ওষুধ বা কাশির সিরাপের মতো। তদন্তের নথিতে এই বার্তাগুলিকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এমনকি অভিযুক্তের ডিভাইসে বিষ সংক্রান্ত ইন্টারনেট সার্চের ইতিহাসও মিলেছে বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি।

স্মার্ট লক আর সিসিটিভি

আরও পড়ুন:  Statue of Liberty সম্পর্কে এই ১০টি তথ্য অনেকেই জানেন না! ইতিহাস জানলে অবাক হবেন

অবিনাশ প্রথমে পুলিশকে জানিয়েছিলেন, তিনি প্রায় ৪০ মিনিটের জন্য কাজে বাইরে গিয়েছিলেন, ফিরে দেখেন বাথরুমের দরজা বন্ধ। কিন্তু অ্যাপার্টমেন্টের স্মার্ট লক সিস্টেম (smart-lock system) এবং সদর দরজার নিরাপত্তা রেকর্ড খতিয়ে দেখে পুলিশ নিশ্চিত হয়, ওই সময়ের মধ্যে তৃতীয় কোনও ব্যক্তি বাড়িতে ঢোকেননি। ফলে অজ্ঞাতপরিচয় কারও অনুপ্রবেশের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেয় তদন্তকারী দল।

বিয়ের আগেই গোপন প্রেম

মামলার নথিতে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয়টি হল, পরকীয়া। তদন্তকারীদের দাবি, বিয়ের আগে থেকেই ভারতে থাকা এক নারীর সঙ্গে গোপন সম্পর্ক ছিল অবিনাশের। এবং বিয়ের পরও সেই সম্পর্ক অব্যাহত ছিল। আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য, ওই নারী নাকি অবিনাশ-রাজিতার বিয়ের অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন। পুলিশের দাবি, ঘটনার দিন অবিনাশ অন্তত চারবার সেই নারীকে ফোন করেছিলেন, যার মধ্যে একটি ফোন করা হয়েছিল বাথরুমের দরজা খোলার চেষ্টার সময়েই। মৃত্যুর পরদিন রাজিতার দেহের ছবি সেই নারীকে পাঠানোর অভিযোগও উঠেছে অবিনাশের বিরুদ্ধে।

আরও পড়ুন:  পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে উত্তেজনা, এক লাফে ৬ শতাংশের বেশি বাড়ল অপরিশোধিত তেলের দাম

আট মাস পর গ্রেফতার

প্রায় আট মাস ধরে ফরেনসিক প্রমাণ, সাক্ষীর বয়ান এবং ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণের পর গত ৫ জুলাই অবিনাশ নার্নের বিরুদ্ধে খুনের (first-degree murder) অভিযোগ আনা হয়। বর্তমানে তিনি ৫০ লক্ষ মার্কিন ডলারের (প্রায় ৪৮ কোটি টাকা) জামিনযোগ্য মুচলেকায় হেফাজতে রয়েছেন। আদালতে তিনি নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন। ওয়াশিংটন ডিসির আইন অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।

কেন এই খবর এত আলোচিত

আমেরিকার তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে বহু বছর ধরেই দক্ষিণ ভারতীয় ও বাঙালি প্রযুক্তিবিদদের একটি বড় অংশ কর্মরত। সিয়াটল, বেলভিউয়ের মতো শহরে ভারতীয় প্রবাসীদের ঘনবসতি রয়েছে। এই ধরনের ঘটনা তাই শুধু তেলুগু সমাজেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা গোটা ভারতীয় প্রযুক্তি সমাজেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। পরিবারের সম্পর্ক করা বিয়ে (arranged marriage) এবং দাম্পত্য সম্পর্কের জটিলতার পাশাপাশি প্রবাসে একাকিত্বের মতো প্রসঙ্গও এই ঘটনার পর নতুন করে আলোচিত হচ্ছে ভারতীয় প্রবাসী মহলে।



---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment