বারুইপুর এনকাউন্টারে বড় সিদ্ধান্ত! তদন্তভার সিআইডির হাতে, পাশাপাশি চলবে বিচারবিভাগীয় তদন্তও


বারুইপুর এনকাউন্টার ঘিরে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল রাজ্য প্রশাসন। ধর্ষণ ও খুনের মামলার অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের পুলিশি এনকাউন্টারের ঘটনার তদন্তভার তুলে দেওয়া হয়েছে রাজ্য পুলিশের সিআইডির হাতে। পাশাপাশি আইন অনুযায়ী এই ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তও ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। ফলে দুই দিক থেকেই খতিয়ে দেখা হবে ওই রাতের ঘটনার প্রতিটি দিক।

পুলিশ সূত্রের দাবি, যেহেতু ঘটনাটি বারুইপুর পুলিশ জেলার আওতায় ঘটেছে, তাই নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই স্থানীয় পুলিশকে তদন্ত থেকে সরিয়ে সিআইডিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পুলিশি এনকাউন্টারের ক্ষেত্রে বিচারবিভাগীয় তদন্ত বাধ্যতামূলক হওয়ায় সেই প্রক্রিয়াও সমান্তরালভাবে চলবে।

পুলিশের দাবি অনুযায়ী, মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনাস্থলে অপরাধের পুনর্নির্মাণের জন্য অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তদন্তকারীদের বক্তব্য, সেখানে উপস্থিত থাকা এক পুলিশ আধিকারিকের কোমর থেকে সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন তিনি।

বারুইপুরে প্রভাস মণ্ডলের এনকাউন্টার মামলায় সিআইডি তদন্ত ও বিচারবিভাগীয় তদন্ত শুরুl ছবি – AI

পুলিশ আরও জানিয়েছে, অভিযুক্তকে আটকানোর চেষ্টা করলে তিনি পুলিশের দিকেই এক রাউন্ড গুলি চালান। সেই পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষার স্বার্থে পাল্টা গুলি চালান বারুইপুর থানার পুলিশ সার্কেলের ইনচার্জ অর্ঘ্য মণ্ডল। ওই গুলিতেই গুরুতর জখম হন প্রভাস।

সূত্রের খবর, প্রভাসের শরীরে দুটি গুলি লাগে। একটি বুকের ডান দিকে এবং অন্যটি কোমরের উপরের অংশে বিদ্ধ হয়। পরে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

এনকাউন্টারের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। কালীঘাটপন্থী তৃণমূল এই ঘটনাকে উত্তরপ্রদেশের অতীতের একাধিক পুলিশি এনকাউন্টারের সঙ্গে তুলনা করে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল পুলিশের পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছে। কংগ্রেস এবং সিপিএমও ঘটনাটি নিয়ে পৃথক প্রতিক্রিয়া দিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে সিআইডির তদন্তের উপরই এখন নজর রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের। এনকাউন্টারের রাতে ঠিক কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, পুলিশের দাবি কতটা বাস্তবসম্মত এবং গোটা অভিযানে কোনও নিয়মভঙ্গ হয়েছে কি না, সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজবে সিআইডি। পাশাপাশি বিচারবিভাগীয় তদন্তের রিপোর্টও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।


Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *