---Advertisement---

ইরান-আমেরিকা সংঘাতে ফের যুদ্ধের আগুন! তেলের দাম ৬% লাফ, সেনসেক্সে ১৮০০ পয়েন্ট ধস

By Suman Debnath

July 9, 2026 10:34 PM

---Advertisement---


ইরান (Iran) ও আমেরিকা (United States)-র মধ্যে উত্তেজনা ফের চরমে। সাম্প্রতিক শান্তি চুক্তির পরও নতুন করে সামরিক হামলা ও পাল্টা হামলার দাবি ঘিরে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে। এই সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারেও। অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৬ শতাংশ বেড়েছে, অন্যদিকে ভারতীয় শেয়ার বাজারে সেনসেক্স (Sensex) এক ধাক্কায় ১,৮০০ পয়েন্ট পর্যন্ত নেমে যায়। ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ বলে মন্তব্য করার পরই বাজারে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM)-এর দাবি, হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে চলাচলকারী তিনটি বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজে কথিত ইরানি হামলার জবাবে ইরানের ৮০টিরও বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান চালানো হয়েছে। যদিও ওই জাহাজে হামলার অভিযোগ ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকারও করেনি, আবার অস্বীকারও করেনি।

মাত্র কয়েক দিন আগেই, ১৯ জুন স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তিকে ঘিরে উত্তেজনা কিছুটা কমার ইঙ্গিত মিলেছিল। কিন্তু সেই পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। সেন্টকমের দাবি, এই অভিযানে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড ও কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার কেন্দ্র এবং জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করা হয়েছে। পাশাপাশি, ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর ৬০টিরও বেশি ছোট নৌযান ধ্বংস করারও দাবি করেছে মার্কিন সেনাবাহিনী।

আরও পড়ুন:  ‘সন্ত্রাসের ঘাঁটিতে ভারতের আঘাতের প্রতিধ্বনি শুনেছে গোটা বিশ্ব’, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে মোদীর ‘অপারেশন সিঁদুর’

অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বান্দার আব্বাস (Bandar Abbas), সিরিক (Sirik), কেশম দ্বীপ (Qeshm Island) এবং খার্গ দ্বীপ (Kharg Island)-সহ একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি (IRIB)-এর দাবি, হামলার বড় অংশই বেসামরিক এলাকায় হয়েছে। সিরিক বন্দরের কাছে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে কয়েকজন আহত হওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

ইরানের খাতাম-আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স (Khatam al-Anbiya Central Headquarters) এই হামলাকে ‘প্রকাশ্য আগ্রাসন’ বলে আখ্যা দিয়ে কড়া জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে বিদেশি হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়েছে। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাঙ্কারের নিরাপদ চলাচলের পথ ইরান নির্ধারিত নিয়মেই পরিচালিত হবে।

এদিকে আইআরজিসি (IRGC) দাবি করেছে, নৌ ও মহাকাশ বাহিনীর যৌথ অভিযানে বাহরিন (Bahrain)-এ মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতর এবং কুয়েত (Kuwait)-এর আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটি (Ali Al Salem Air Base)-সহ মোট ৮৫টি মার্কিন-সংযুক্ত লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। যদিও এই দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন:  আমেরিকাকে পাল্টা জবাব দেওয়া শুরু তেহরানের

আইআরজিসির আরও অভিযোগ, প্রাক্তন ইরানি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই (Ayatollah Ali Khamenei)-এর শেষকৃত্য চলাকালীন আন্তর্জাতিক নজর ঘোরাতেই ওয়াশিংটন এই সামরিক অভিযান চালিয়েছে। অপরদিকে, মার্কিন পক্ষ তাদের অভিযানকে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ বলেই ব্যাখ্যা করেছে।

পশ্চিম এশিয়ার এই নতুন সংঘাত আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে, ফলে আগামী কয়েক দিনে সামরিক ও কূটনৈতিক দুই ক্ষেত্রেই নতুন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের দিকে নজর থাকবে বিশ্বের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে



Google News







এবং Google Discover



Google Discover



-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment