উত্তরপ্রদেশের আগ্রায় স্বামীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে খুনের অভিযোগ। দেহ বাথরুমের মেঝেতে পুঁতে তার উপর টাইলস বসানোর ঘটনায় তদন্তে উঠে এল নতুন নতুন বিস্ফোরক তথ্য।
উত্তরপ্রদেশের আগ্রা (Agra)-য় স্বামীকে খুন করে বাথরুমের মেঝের নিচে দেহ পুঁতে তার উপর টাইলস বসানোর ঘটনায় সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। মৃত সুরেন্দ্রকুমার শর্মা (Surendra Kumar Sharma)-র স্ত্রী রুবি (Ruby)-কে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ দাবি করেছে, তিনি খুনের কথা স্বীকার করেছেন। শুধু খুনই নয়, কীভাবে পুরো ঘটনাটি পরিকল্পনা করে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করেছিলেন, তাও তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশ সূত্রের দাবি, ঘটনার পরপরই বাথরুম সংস্কারের জন্য এক রাজমিস্ত্রিকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন অভিযুক্ত। সেই রাজমিস্ত্রির বয়ানও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাঁর দাবি, কাজ শুরুর আগে তিনি দেখেছিলেন, রুবি নিজেই বাথরুমে মাটি ভরাট করছেন। বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় তিনি প্রশ্নও করেছিলেন এবং প্রয়োজনে আরও একজন শ্রমিক আনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু অভিযুক্ত তা প্রত্যাখ্যান করেন।
রাজমিস্ত্রির বক্তব্য অনুযায়ী, চার ফুট বাই ছয় ফুটের বাথরুমটি তুলনামূলক নিচু ছিল। সেটি মাটি ফেলে উঁচু করার পর তিনি সিমেন্টের প্লাস্টার করে টাইলস বসিয়ে দেন। তবে মেঝের নিচে একটি দেহ চাপা দেওয়া রয়েছে, তা তাঁর কল্পনাতেও ছিল না বলে জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার পুলিশ ওই বাথরুমের মেঝে খুঁড়ে সুরেন্দ্রকুমার শর্মা (Surendra Kumar Sharma)-র দেহ উদ্ধার করে। এরপর রুবিকে জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, সুরেন্দ্র ক্ষীর খেতে ভালোবাসতেন। সেই সুযোগেই ক্ষীরের সঙ্গে একাধিক ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হওয়ার পর তাঁকে খুন করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্তকারীদের আরও দাবি, খুনের পর প্রথমে দেহটি ঘরের মধ্যেই লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়ার পর গভীর রাতে দেহটি বাথরুমে নিয়ে গিয়ে মেঝে খুঁড়ে পুঁতে দেওয়া হয়। পরে সেই জায়গা মাটি দিয়ে ভরাট করে সিমেন্টের প্রলেপ দিয়ে টাইলস বসানো হয়, যাতে কোনও সন্দেহ না তৈরি হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, সুরেন্দ্রকুমার শর্মা (Surendra Kumar Sharma) প্রায় প্রতিদিনই মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফিরতেন। সেই কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই অশান্তি চলছিল। তদন্তকারীদের অনুমান, পারিবারিক বিবাদের জেরেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তবে ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ বা অন্য কারও যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।





Leave a Comment