বারুইপুর নাবালিকা ধর্ষণ ও খুন মামলার অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর পর নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে তাঁর মন্তব্যের পরই সামাজিক মাধ্যমে সামনে আনা হচ্ছে তৃণমূলেরই দুই নেতা—অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঘাটালের সাংসদ দেবের অতীতের বক্তব্য, যেখানে তাঁরা ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর শাস্তির পক্ষে মত প্রকাশ করেছিলেন।
প্রভাস মণ্ডলের এনকাউন্টারের পর মহুয়া মৈত্র সমাজমাধ্যমে দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে ‘জঙ্গলরাজ’ চলছে এবং রাজ্যকে ‘উত্তরপ্রদেশ ২.০’-তে পরিণত করা হচ্ছে। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এরই মধ্যে বিভিন্ন মহলে ২০২৪ সালের আরজি কর হাসপাতাল এবং জয়নগরের মহিষমারি কাণ্ডের পর অভিনেতা-সাংসদ দেবের দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ সামনে এসেছে। সেই সময় ধর্ষণের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেছিলেন, দোষ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এমনকি ‘শুট অ্যাট সাইট’-এর মতো কড়া মন্তব্যও করেছিলেন তিনি। যদিও একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছিলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে এমন ভাষা ব্যবহার করা আদর্শ নয়, কিন্তু অপরাধের নৃশংসতা তাঁকে ওই মন্তব্য করতে বাধ্য করেছিল।
শুধু দেব নন, আরজি কর কাণ্ডের আবহে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত এবং কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছিলেন। একটি প্রশাসনিক বৈঠকে তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, এমন অপরাধে অভিযুক্তদের সমাজে থাকার অধিকার আছে কি না। দ্রুত বিচার ও কড়া শাস্তির পক্ষে তাঁর বক্তব্যও সে সময় ব্যাপক আলোচনায় এসেছিল।
বারুইপুর কাণ্ডের পর এই পুরনো মন্তব্যগুলিই আবার সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে ভাইরাল হয়েছে। রাজনৈতিক বিরোধীরা দাবি করছেন, মহুয়ার বর্তমান অবস্থান এবং দলের অন্য নেতাদের অতীতের বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট মতপার্থক্য রয়েছে। অন্যদিকে, মহুয়া মৈত্রের বক্তব্যকে সমর্থনকারীদের দাবি, যে কোনও পুলিশি এনকাউন্টার আইন ও বিচার প্রক্রিয়ার আলোকে পর্যালোচনা হওয়া উচিত।
এদিকে পুলিশের দাবি, ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় প্রভাস মণ্ডল এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন এবং সেই পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষার্থে গুলি চালানো হয়। এই ঘটনার তদন্তও নিয়ম অনুযায়ী এগোচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে।
বারুইপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা, বিচারব্যবস্থা এবং অপরাধ দমনের পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। একদিকে কঠোর শা
Leave a Comment