আগরতলা, ৬ জুন: পরিবেশ সংরক্ষণ, জলাশয় পুনরুদ্ধার এবং নগর উন্নয়নের লক্ষ্যে আগরতলা পুর নিগমের উদ্যোগে চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে শনিবার শহরের ১১ নম্বর ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন মেয়র দীপক মজুমদার। এদিন তিনি অভয়নগর বাজার সংলগ্ন দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত একটি ঐতিহাসিক পুকুরের সংস্কার কাজ সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
জানা গেছে, অভয়নগর এলাকার এই পুকুরটি প্রায় পাঁচ থেকে ছয় দশক ধরে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পুকুরটি জঞ্জাল, আগাছা ও পলি জমে তার স্বাভাবিক রূপ হারিয়ে ফেলে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য এটি একসময় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে শহরের ঐতিহ্যবাহী জলাশয়গুলিকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে আগরতলা পুর নিগম এই পুকুরটির সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করে।
পরিদর্শনকালে মেয়রের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হীরালাল দেবনাথ, পুর নিগমের বিভিন্ন বিভাগের আধিকারিক, প্রকৌশলী এবং অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। তারা সংস্কার কাজের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করেন এবং কাজের গুণগত মান ও অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন।
মেয়র দীপক মজুমদার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, শহরের জলাশয়গুলিকে রক্ষা করা বর্তমান সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। দ্রুত নগরায়নের ফলে বহু জলাশয় হারিয়ে যাচ্ছে বা অবহেলিত হয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে পুর নিগম শুধুমাত্র উন্নয়নমূলক অবকাঠামো নির্মাণেই নয়, পরিবেশ সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষার ক্ষেত্রেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, পুকুরগুলির সংস্কার সম্পন্ন হলে শুধু এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে না, বরং জল সংরক্ষণ, ভূগর্ভস্থ জলস্তর বজায় রাখা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ করতে হলে এই ধরনের উদ্যোগ আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পুকুর সংস্কার প্রকল্পের পাশাপাশি এদিন ১১ নম্বর ওয়ার্ডে চলমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজও পর্যালোচনা করা হয়। এলাকার রাস্তা, নিকাশি ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং অন্যান্য নাগরিক পরিষেবা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। মেয়র সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নির্দেশ দেন যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করা হয় এবং সাধারণ মানুষের সুবিধাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারাও দীর্ঘদিনের এই পুকুর সংস্কারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, বছরের পর বছর ধরে অবহেলিত অবস্থায় থাকা জলাশয়টি এখন নতুন রূপ পেতে চলেছে। সংস্কার কাজ সম্পূর্ণ হলে এটি এলাকার পরিবেশের উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদে পরিণত হবে।
আগরতলা পুর নিগমের এই উদ্যোগকে শহরের পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জলাশয় সংরক্ষণ এবং নাগরিক পরিকাঠামোর উন্নয়নকে সমান গুরুত্ব দিয়ে পুর নিগম যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তা ভবিষ্যতে আগরতলাকে আরও সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য শহরে পরিণত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
Leave a Comment