আগরতলা: লোকনাথ ব্রহ্মচারীর ১৩৬তম তিরোধান স্মরণোৎসব উপলক্ষে আগরতলার লক্ষ্মী নারায়ণ বাড়ি রোডস্থিত লোকনাথ সেবাশ্রমে ভক্তি, শ্রদ্ধা ও ধর্মীয় আবহে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। তিরোধান উৎসবকে কেন্দ্র করে ভক্তদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। আশ্রম কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি একাধিক সমাজসেবামূলক কার্যক্রমও গ্রহণ করা হয়েছে।
১৮ই জ্যৈষ্ঠ, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় লোকনাথ ব্রহ্মচারীর ১৩৬তম তিরোধান স্মরণোৎসব উপলক্ষে শ্রী শ্রী লোকনাথ বাবার প্রতিকৃতি নিয়ে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রায় শতাধিক ভক্ত, আশ্রমের সদস্য এবং বিভিন্ন এলাকার ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। ভক্তিমূলক সঙ্গীত, কীর্তন এবং জয়ধ্বনির মধ্য দিয়ে শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে আশ্রম প্রাঙ্গণে ফিরে আসে।
শোভাযাত্রা শেষে রাত সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হয় অধিবাস অনুষ্ঠান। আশ্রম প্রাঙ্গণে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পূজা-অর্চনা, প্রার্থনা এবং বিশেষ আরাধনার আয়োজন করা হয়। উপস্থিত ভক্তরা শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মানবকল্যাণ কামনায় প্রার্থনায় অংশ নেন।
আশ্রম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৯ই জ্যৈষ্ঠ বুধবার দিনভর লোকনাথ ব্রহ্মচারীর ১৩৬তম তিরোধান স্মরণোৎসব উপলক্ষে বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচি পালিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে বিশেষ পূজা, নামসংকীর্তন, ধর্মীয় আলোচনা, প্রসাদ বিতরণ এবং ভক্তদের জন্য নানা আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠান। আয়োজকদের আশা, এদিন বিপুল সংখ্যক ভক্ত আশ্রমে উপস্থিত হয়ে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন।
ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি মানবসেবার বার্তাকেও সমান গুরুত্ব দিয়েছে লোকনাথ সেবাশ্রম। উৎসব উপলক্ষে কমিটির পক্ষ থেকে এলাকার সাফাই কর্মীদের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। সমাজের অবহেলিত ও পরিশ্রমী এই কর্মীদের সম্মান জানাতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
এছাড়াও গত রবিবার ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২৪০ জন রোগীর মধ্যে ফল বিতরণ করা হয়েছে। রোগীদের সুস্থতা কামনা করে এবং মানবসেবাকে ধর্মের অন্যতম অংশ হিসেবে তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান আশ্রমের সদস্যরা। ফল বিতরণ কর্মসূচিতে আশ্রমের বহু স্বেচ্ছাসেবক অংশগ্রহণ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, প্রতি বছরই লোকনাথ সেবাশ্রম ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। এবারের লোকনাথ ব্রহ্মচারীর ১৩৬তম তিরোধান স্মরণোৎসবও সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। ধর্মীয় ভক্তি এবং মানবসেবার সমন্বয়ে এই আয়োজন সমাজে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে সকল ভক্ত, শুভানুধ্যায়ী এবং সাধারণ মানুষকে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে উৎসবের সকল কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করতে সকলের সহযোগিতাও কামনা করা হয়েছে।
Leave a Comment