আট মাস বেতন নেই, অফিসের সামনেই ভিক্ষার বাটি হাতে বসে সরকারি আধিকারিক

By Suman Debnath

November 6, 2026 12:59 PM

আট মাস বেতন নেই, অফিসের সামনেই ভিক্ষার বাটি হাতে বসে সরকারি আধিকারিক

পাটনা, ৬ নভেম্বর: হাতে ভিক্ষার বাটি। চোখে-মুখে জমে থাকা ক্ষোভ আর বিভ্রান্তি। নিজের দপ্তরের সামনে এভাবেই দু’দিন ধরে বসে আছেন এক মহিলা আধিকারিক। কিন্তু কেন? একজন আধিকারিক ভিক্ষার বাটি হাতে কেন? জানা গিয়েছে, তিনি এক অভিনব প্রতিবাদ বেছে নিয়েছেন নিজেরই দপ্তরের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, টানা আট মাস ধরে বেতন পাননি তিনি। অথচ নিয়মিতভাবেই পালন করে চলেছেন সরকারি দায়িত্ব। বেতন না পেয়ে চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়ে তিনি শেষ পর্যন্ত এধরনের প্রতিবাদ পন্থা বেছে নেন। ওই আধিকারিকের নাম অলপিতা সিং। তিনি বিহারের বক্সার জেলার ব্রহ্মপুর ব্লকের রুরাল ডেভেলপমেন্ট অফিসার হিসাবে কর্মরত। 

ঘটনাটি বিহারের বক্সার জেলার ব্রহ্মপুর ব্লক অফিসের। অলপিতা সিংয়ের দাবি, গত ১১ মাসের কর্মজীবনে তিনি নিয়মিত বেতন পেয়েছেন মাত্র তিন মাস। বাকি আট মাসের বেতন এখনও বকেয়া রয়েছে। অথচ এই দীর্ঘ সময় ধরে নিজের দপ্তরের সমস্ত দায়িত্ব পালন করে গিয়েছেন তিনি। বারবার বেতন না পাওয়ায় চরম আর্থিক দুরবস্থার মধ্যে পড়তে হয়েছে তাঁকে। শেষ পর্যন্ত নিজের পাওনা বেতনের দাবিতে গত দু’দিন ধরে ব্লক অফিসের বাইরেই ভিক্ষার বাটি হাতে নিয়ে প্রতিবাদে বসেন তিনি।  অলপিতার এই অভিনব প্রতিবাদের ছবি হুহু  করে ভাইরাল হয়ে যায় সমাজমাধ্যমে। একজন সরকারি আধিকারিককে নিজের বেতনের দাবিতে ভিক্ষার ঝুলি হাতে বসে থাকতে দেখে প্রশাসনিক মহলেও শুরু হয় তৎপরতা। ঘটনার পরই ব্রহ্মপুরের ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার বা বিডিওর কাছে ব্যাখ্যা তলব করে বক্সার জেলা প্রশাসন। সূত্রের খবর, ব্রহ্মপুরের বিডিও এবং রুরাল ডেভেলপমেন্ট অফিসারের মধ্যে বিবাদের জেরেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও বেতন আটকে রাখার প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।

আরও পড়ুন:  ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরপর ৪ বার, একাধিকবার কেঁপে উঠল অরুণাচল প্রদেশ

জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট সরকারি নিয়ম মেনে এবং উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনও কর্মীর বেতন আটকে রাখা যায় না। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বেতন কেন আটকে রাখা হয়েছে, কোন নিয়মের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা বিডিওর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, গোটা বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। সরকারি নিয়ম ও নির্ধারিত পদ্ধতি মেনে চলার জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিক ও কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সরকারি কর্মীদের সমস্যার ক্ষেত্রেও দ্রুত পদক্ষেপ এবং প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার উপর জোর দিয়েছে প্রশাসন।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment