অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তাদের তালিকায় আছে সরকারি কর্মী থেকে মৃত ব্যক্তির নাম! অক্টোবর মাসে ১ কোটি ৫৪ লক্ষ মহিলা এই প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা পেলেও তাঁদের মধ্যে অযোগ্য উপভোক্তা রয়ে গিয়েছে বলেই মনে করছে রাজ্য সরকার। তাই উপভোক্তা তালিকা খতিয়ে দেখতে রাজ্যজুড়ে পুনরায় যাচাইয়ের নির্দেশ দিল নবান্ন। নভেম্বর মাসের টাকা দেওয়ার আগে এই যাচাই প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। তারপর যে তালিকা তৈরি হবে সেটাকেই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত করে টাকা দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। তবে দীপাবলির আগেই ঢুকবে অন্নপূর্ণা-সহ অন্যান্য সামাজিক প্রকল্পের টাকা। নবান্ন থেকে এই কথা জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এদিকে অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তা তালিকা যাচাই করে এবার অযোগ্যদের নাম বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এই কাজ শেষ করতে হবে বলে রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসক এবং কলকাতা পুরসভার কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছে নারী ও শিশু উন্নয়ন এবং সমাজ কল্যাণ দপ্তর। এই মর্মে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে অক্টোবর মাসে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাওয়া মহিলাদের তালিকা ধরে যাচাইয়ের কথা বলা হয়েছে। তবে দীপাবলির আগে ৮৪ লক্ষ বার্ধক্য ভাতা, দিব্যাঙ্গ ভাতা, ৩ লক্ষ লোকপ্রসার শিল্পী ভাতা, ১ কোটি ৬৫ লক্ষ অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ট্রান্সফার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্নপূর্ণার ৩ হাজার টাকা উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে আসে। কিন্তু কালীপুজো-দীপাবলি ৮ তারিখ হওয়ায় তার আগেই টাকা অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে।
অন্যদিকে সমাজকল্যাণ দপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারী, আয়করদাতা এবং মৃত ব্যক্তিদের নাম উপভোক্তার তালিকায় আছে কিনা সেটা বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হবে। অযোগ্য উপভোক্তাদের একটি প্রাথমিক তালিকাও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের দেওয়া হয়েছে। তদন্তের পরেই অযোগ্য উপভোক্তাদের চিহ্নিত করে পোর্টালে তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবারের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। আগামী ১৩ তারিখ আরও একটি অনুষ্ঠান আছে। সেদিন ৭ লক্ষ ২০ হাজার পশ্চিমবঙ্গ আবাস প্রাপকদের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়া হবে। প্রায় ৪২০০ কোটি টাকা দেওয়া হবে। পুরশুড়ার সভা থেকে পশ্চিমবঙ্গ আবাস প্রকল্পের উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাঠাবেন মুখ্যমন্ত্রী।
তাছাড়া রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য সংকল্পপত্রে থাকা ‘ভরসা প্রকল্প’ শুরু করা নিয়েও ব্যবস্থা হবে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই প্রস্তাব পেশ করার পর সেটা চূড়ান্ত হলে প্রকল্প নিয়ে পদক্ষেপ করা হবে। গ্র্যাজুয়েট এবং নন গ্র্যাজুয়েট যুবক-যুবতীদের জন্য ভরসা প্রকল্পের কাজ চলছে। এই প্রকল্পটি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। যুবসাথী প্রকল্পের ধাঁচেই এই প্রকল্পটি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
Leave a Comment