‘আমি আপনাদের গ্যারান্টি দিচ্ছি, ৬ মিনিট লাগবে না, মাত্র ৫ মিনিটেই প্রমাণ করে দেব যে, নরেন্দ্র মোদি দেশদ্রোহী!’ আর সোশ্যাল মিডিয়ায় নয়, এবার ডুয়েলের আহ্বান আরও সরাসরি।
নয়াদিল্লি: ‘আমি আপনাদের গ্যারান্টি দিচ্ছি, ৬ মিনিট লাগবে না, মাত্র ৫ মিনিটেই প্রমাণ করে দেব যে, নরেন্দ্র মোদি দেশদ্রোহী!’ আর সোশ্যাল মিডিয়ায় নয়, এবার ডুয়েলের আহ্বান আরও সরাসরি। বুধবার পাঞ্জাবের সাংরুরে ‘ইনসাফ র্যালি’র মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে তৃতীয়বার খোলা চ্যালেঞ্জ রাহুল গান্ধীর। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে খোঁচা দিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতার ভবিষ্যদ্বাণী—‘এই সরকার আর এক বছরও টিকবে না!’
মোদি-রাহুল ডুয়েলের ডাক নিয়ে গত ৪৮ ঘণ্টা ধরেই সরগরম নেটপাড়া। প্রধানমন্ত্রীকে মুখোমুখি বিতর্কের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক্স হ্যান্ডলে ভোটিংও শুরু করেছিলেন কংগ্রেস নেতা। লাখতিনেক মানুষ তাতে ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যে ৭৩ শতাংশই বিতর্কে বসার পক্ষে। তাতে আরও উদ্দীপ্ত রাহুল এদিন পাঞ্জাবের মঞ্চ থেকে চড়া সুরে নিশানা করেছেন প্রধানমন্ত্রীকে—‘নরেন্দ্র মোদি তো প্রায়ই বলেন, কংগ্রেসিরা দেশদ্রোহী। তাই আমি এবার ওঁকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছি। বলেছি, যে কোনো জায়গায় এসে আমার মুখোমুখি বসুন। ডিবেট করুন, কে দেশদ্রোহী? বিদেশি শক্তির সঙ্গে কার যোগ রয়েছে? কেমন সেই যোগাযোগ? একদিকে আমি, অন্যদিকে আপনি। আর বিচারক যাকে খুশি বানান, মোহন ভাগবত কিংবা আপনার ঘনিষ্ঠ শিল্পপতি। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের স্টুডিয়োতে ডিবেট করাতে চাইলে, সেটাই করুন। শুধু আপনি আমার সামনে এসে বসুন, ব্যস। গোটা দেশকে গ্যারান্টি দিচ্ছি, নরেন্দ্র মোদি এভাবে আমার সামনে এসে বসতে পারবেন না।’ বাস্তবিকই, দিল্লিতে বিরোধী সমাবেশের পর দেশের বিরোধী দলনেতার এমন খোলা চ্যালেঞ্জের সামনে যথেষ্টই বিব্রত শাসকদল বিজেপি। তাই গাড়ি ছেড়ে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ মিছিলে হাঁটতে দেখা গিয়েছে অমিত শাহকে। তাঁর পাশাপাশি রাজনাথ সিং, নির্মলা সীতারামনরা প্রশ্ন তুলেছেন, রাহুল গান্ধী কেন সংসদে আলোচনা করছেন না? এদিন তারও খোলাখুলি জবাব দিয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ। সাফ বলেছেন, ‘ভাই, পার্লামেন্টে তো আমার মাইক বন্ধ করে দেন আপনারা। কথা বলতেই দেন না। আপনারা বরং এক কাজ করুন, নরেন্দ্র মোদিকে এনে আমার সামনে বসান। উনি বসবেন। আমি বলতে শুরু করব… আর আপনাদের গ্যারান্টি দিচ্ছি, ৫ মিনিটে প্রমাণ করে দেব যে, নরেন্দ্র মোদি একজন দেশদ্রোহী। নরেন্দ্র মোদিকে কন্ট্রোল করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।’ ট্রাম্পের ধমকে পাঁচ মিনিটের মধ্যে মোদিজি মার্কিন বাণিজ্যচুক্তিতে সই করে দিয়েছেন বলেও আক্রমণ শানান তিনি। তাঁর অভিযোগ, চুক্তিতে সই করার আগে মন্ত্রিসভা কিংবা আমলাদের কাউকে কিচ্ছু জানানো হয়নি। দেশের কৃষক, ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পের সব তথ্য উনি (মোদি) ট্রাম্পের হাতে তুলে দিয়েছেন।
শুধু জাতীয় রাজনীতি নয়, পাঞ্জাবের রাজনীতিও ছিল এদিন রাহুলের ফোকাসে। ভোটমুখী সেরাজ্যে প্রচারে ঝাঁপিয়েছে কংগ্রেস। প্রতিপক্ষ শুধু বিজেপি নয়, পাঞ্জাবের বর্তমান শাসকদল আম আদমি পার্টিও (আপ)। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দলকে এদিন মাদকের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে তুমুল আক্রমণ করেন কংগ্রেস সাংসদ। তাঁর অভিযোগ, মাদক রুখতে আপের ভগবন্ত মান সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ। পাঞ্জাব সরকার আসলে দিল্লি থেকে চালানো হচ্ছে। একথা বলেই তিনি নিশানা বানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে। রাহুলের কটাক্ষ, ‘পাঞ্জাবের মাদক সমস্যার সমাধানে কতদিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন অমিত শাহ? তিন বছর? তিন বছর পর তো অমিত শাহ নিজেই আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকবেন না। কারণ, আমার ধারণা, এই সরকার একবছরও টিকবে না।
Leave a Comment