আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের আর্থিক দুর্নীতি মামলায় নতুন করে আইনি জটে জড়ালেন প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ। সিবিআই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট থেকে স্বস্তি মিললেও কদিনের মধ্যেই এবার তাঁকে তলব করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে এদিন তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে থাকাকালীন বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ তছরুপ এবং আর্থিক লেনদেনে অস্বচ্ছতার অভিযোগে তাঁকে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান তদন্তকারীরা। জামিন পেলেও মামলা থেকে মুক্তি মেলেনি। তাই তদন্তে তাঁকে সাহায্য করতেই হবে। প্রশ্নের উত্তরও দিতেই হবে।
তদন্তকারী সূত্রে খবর, আরজি কর হাসপাতালে সন্দীপ ঘোষের কাজের মেয়াদে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ তছরুপ, বেআইনি আর্থিক লেনদেন এবং টেন্ডার দুর্নীতির যে সমস্ত অভিযোগ উঠেছিল সেই বিষয়ে আর্থিক তছরুপের মামলায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান ইডি অফিসাররা। আগে সিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর দীর্ঘদিন জেল হেফাজতে ছিলেন সন্দীপ। কদিন আগে সুপ্রিম কোর্ট থেকে সিবিআই মামলায় আইনি স্বস্তি মিললেও আর্থিক দুর্নীতির সমান্তরাল তদন্ত চালানো ইডির কড়া নজরে ছিলেন সন্দীপ ঘোষ। তাই এই তলব। ২০২৪ সালে আরজি কর হাসপাতালে কর্তব্যরত তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের ঘটনার তদন্তে নেমে একাধিক চাঞ্চল্যকর আর্থিক অনিয়ম প্রকাশ্যে আসে। হাসপাতালের অফিশিয়াল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রভাবশালী ভেন্ডার এবং ঠিকাদারদের অ্যাকাউন্টে অর্থ হস্তান্তরের নামে বিপুল পরিমাণ সরকারি তহবিল তছরুপের অভিযোগ ওঠে। তার ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ২৪ আগস্ট সিবিআই কলকাতা দুর্নীতি দমন শাখা একটি মামলা দায়ের করে এবং তদন্তের পর সন্দীপ ঘোষকে গ্রেপ্তার করে।
অক্টোবর মাসেই সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন সন্দীপ। হাসপাতালের অধ্যক্ষ থাকাকালীন আর্থিক দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ। ছাত্র ভর্তির ক্ষেত্রেও কম নম্বর পাওয়া প্রার্থীকে সুযোগ করে দিয়ে টাকা নেন বলে অভিযোগ আছে। সিবিআই তদন্তে কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নামও উঠে আসে। ওই সূত্র ধরেই আবার গ্রেপ্তার হন তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী সুমন হাজরা। যদিও তিনিও ইতিমধ্যেই জামিন পেয়েছেন। ২০ হাজার টাকার বন্ডে তাঁর জামিন মঞ্জুর করে কলকাতা হাইকোর্ট। আর সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে পরে তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে পেশ করা চার্জশিটে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২০বি (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র), ৪০৯ (বিশ্বাসভঙ্গ), ৪২০ (প্রতারণা), ৪৬৮ এবং ৪৭১ (জাল নথি ব্যবহার) ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
তাছাড়া এখন সিবিআই মামলায় স্বস্তি পেতেই ইডির এই সক্রিয়তা সন্দীপ ঘোষের ওপর নতুন করে চাপ বাড়াল বলে মনে করা হচ্ছে। সিবিআইয়ের চার্জশিটের সূত্র ধরে অর্থ তছরুপ প্রতিরোধ আইনের আওতায় এই বিপুল অঙ্কের কালো টাকা কোথায় এবং কেমনভাবে পাচার হয়েছে সেটা খতিয়ে দেখতেই তাঁকে সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করা হয়েছে।
Leave a Comment