উন্নয়নের নামে মানুষের পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি, জীবিকা ও সাংস্কৃতিক অস্তিত্ব বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা। তার প্রতিবাদে রাজপথে নামছেন আদিবাসী জনগোষ্ঠী, ছাত্রছাত্রী ও সমাজকর্মীরা। অরুণাচল প্রদেশের প্রস্তাবিত বিশাল জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ঘিরে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ এবার পৌঁছে গেল দেশের রাজধানী দিল্লিতে। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে প্রকল্প প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে শনিবার, ৩১ অক্টোবর, নয়াদিল্লির অরুণাচল ভবন ঘেরাও করলেন কয়েকশো আন্দোলনকারী।
১১,২০০ মেগাওয়াটের সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রকল্প (SUMP) বাতিলের দাবিতে হিমখণ্ড ও ইয়ুথ ফর চেঞ্জের উদ্যোগে আয়োজিত এই বিক্ষোভে আটক সমস্ত আন্দোলনকারীর মুক্তি এবং অরুণাচল প্রদেশে মোতায়েন কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী প্রত্যাহারের দাবিও ওঠে। বিক্ষোভ চলাকালীন একাধিক আন্দোলনকারীকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সিয়াংয়ের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পবিরোধী আন্দোলনের পরিচিত মুখ কাটন মোয়োং, যিনি ‘আবোরম্যান’ নামে পরিচিত। অরুণাচল ভবনের বাইরে মোতায়েন করা হয়েছিল বিপুলসংখ্যক পুলিশকর্মী।
কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে প্রস্তাবিত এই প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডুর নেতৃত্বাধীন অরুণাচলের বিজেপি সরকার। কিন্তু প্রকল্পের সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে উদ্বিগ্ন স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও ছাত্র সংগঠনগুলি। তাঁদের আশঙ্কা, পূর্বপুরুষের জমি ও গ্রাম জলের তলায় চলে যেতে পারে। বিপন্ন হতে পারে জীবিকা, সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ঐতিহ্য।
আদি বানে কেবাং ইউনাইটেড এবং সিয়াং ইন্ডিজেনাস ফার্মার্স ফোরামও এই প্রকল্পের বিরোধিতা করেছে। ভূমিকম্পপ্রবণ পূর্ব হিমালয়ের জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ সিয়াং অঞ্চলের পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কাও রয়েছে। গত সপ্তাহে পাসিঘাটে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। ওই সংঘর্ষে পাথর ছোড়ার ঘটনা, পুলিশকর্মীদের আহত হওয়া এবং সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথাও জানিয়েছে প্রশাসন।আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, উন্নয়নের নামে মানুষের জমি, অধিকার ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কাছে তাঁদের দাবি, প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের আগে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর উদ্বেগ ও অধিকারকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে।
Leave a Comment