ব্রিটেনে যদি উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন থাকে, তাহলে আরও বেশি আর্থিক প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে ভারতীয় পড়ুয়াদের। বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট ভিসার নিয়মে বড়সড় পরিবর্তন আনছে ব্রিটিশ সরকার। ভিসার আবেদন করতে গেলে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমা থাকার প্রমাণ দেখাতে হবে। আগামী ৩০ নভেম্বর, ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে নতুন নিয়ম।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টে সেপ্টেম্বরে পাস হওয়া ‘স্টেটমেন্ট অফ চেঞ্জেস টু দ্য ইমিগ্রেশন রুলস, এইচসি ৫৮৪’ অনুযায়ী, বাড়ানো হচ্ছে পড়ুয়াদের জীবনযাত্রার খরচ বাবদ প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ। সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, লন্ডনে পড়াশোনা করতে যাওয়া পড়ুয়াদের প্রতি মাসে জীবনযাত্রার খরচ বাবদ ১,৫২৯ পাউন্ডের পরিবর্তে ১,৫৭০ পাউন্ড দেখাতে হবে। অর্থাৎ মাসে ৪১ পাউন্ড বেশি।
অন্যদিকে, লন্ডনের বাইরে পড়াশোনার ক্ষেত্রে এই পরিমাণ ১,১৭১ পাউন্ড থেকে বেড়ে হচ্ছে ১,২০৩ পাউন্ড। অর্থাৎ মাসে অতিরিক্ত ৩২ পাউন্ডের সংস্থান রাখতে হবে। সর্বোচ্চ ৯ মাসের জীবনযাত্রার খরচের হিসাব ধরে লন্ডনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হবে ১৪,১৩০ পাউন্ড এবং লন্ডনের বাইরে ১০,৮২৭ পাউন্ড। ভারতীয় মুদ্রায় যা যথাক্রমে প্রায় ১৮ লক্ষ ৬ হাজার এবং ১৩ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকা। মাসিক হিসেবে এই খরচ দাঁড়াবে প্রায় ২ লক্ষ ১ হাজার এবং ১ লক্ষ ৫৪ হাজার টাকা।
তবে এই অর্থের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি ধরা হচ্ছে না। ভিসার আবেদনের সময় পড়ুয়াকে তার বিস্তারিত তথ্য জানাতে হবে। কোন পাঠক্রমে তিনি ভর্তি হতে চলেছেন, প্রথম বছরের সম্পূর্ণ টিউশন ফি কত, ভর্তির সময় তার কতটা জমা দিতে হবে সেই হিসাবও দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া ‘কনফার্মেশন অফ অ্যাকসেপ্টেন্স ফর স্টাডিজ’ বা সিএএস-এ উল্লেখিত বকেয়া টিউশন ফি দেওয়ার আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণও দেখাতে হবে।
নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগে, অর্থাৎ ৩০ নভেম্বরের আগে যাঁরা ভিসার আবেদন জমা দেবেন তাঁদের ক্ষেত্রে পুরনো আর্থিক শর্তই বহাল থাকবে। তবে ওই তারিখে বা তারপরে আবেদন করলে বর্ধিত অর্থের প্রমাণ দিতে হবে। ব্যক্তিগত সঞ্চয়ের উপর নির্ভরশীল পড়ুয়াদের সাধারণত আবেদনের আগে টানা ২৮ দিন নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে রাখতে হয়।
আরও পড়ুন: পোল্যান্ডে সরকার-বিচার বিভাগ সংঘাত চরমে, মাঝআকাশ থেকে দেশে ফিরলেন প্রেসিডেন্ট
উল্লেখ্য, ব্রিটিশ সরকারের ‘ডিফারেন্সিয়াল এভিডেন্স রিকোয়ারমেন্ট’-এর আওতাভুক্ত দেশের তালিকায় ভারত নেই। ফলে ভারতীয় পড়ুয়াদের ভিসার আবেদনের সময় আর্থিক ক্ষমতার প্রমাণ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক, যদি না তাঁরা বিশেষ কোনও ছাড়ের আওতায় পড়েন। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দপ্তরের দাবি, পড়াশোনার জন্য আসা বিদেশি পড়ুয়াদের ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার রুখতেই আর্থিক ক্ষমতার শর্ত আরও কঠোর করা হচ্ছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি-র পাশাপাশি থাকা-খাওয়া ও অন্যান্য খরচের জন্যও আগের তুলনায় বেশি অর্থের ব্যবস্থা রাখতে হবে ভারতীয় পড়ুয়াদের।
Leave a Comment