স্বরূপ-ঘনিষ্ঠরাই প্রার্থী! ফেডারেশন নির্বাচন ঘিরে বিস্ফোরক পাপিয়া, মিঠুনকেও ভুল বোঝানোর অভিযোগ

By Suman Debnath

October 31, 2026 5:00 PM

স্বরূপ-ঘনিষ্ঠরাই প্রার্থী! ফেডারেশন নির্বাচন ঘিরে বিস্ফোরক পাপিয়া, মিঠুনকেও ভুল বোঝানোর অভিযোগ


স্বরূপ বিশ্বাসের বিদায়ের পরেও কি টলিউডে বদলাবে না পরিস্থিতি? ফেডারেশনের সভাপতি পদে নির্বাচন ঘিরে সেই প্রশ্নই তুলে দিলেন টালিগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, এ বারও নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন স্বরূপ বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠরাই। ফলে নতুন নেতৃত্ব এলেও টলিপাড়ার অরাজকতা বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই আশঙ্কা তাঁর। এমনকি ভোট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মিঠুন চক্রবর্তীকেও ভুল বোঝানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন পাপিয়া। যদিও তাঁর আশঙ্কার কারণ থাকলেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কাউকে বাধা দেওয়া যায় না বলে পাল্টা মন্তব্য করেছেন শিবপুরের বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ।

তৃণমূল আমলে বারবার টলিউডের কাজে হস্তক্ষেপ এবং ফেডারেশনের মাধ্যমে কলকাঠি নাড়ার অভিযোগ উঠেছিল তৎকালীন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ফেডারেশনের সভাপতি পদে মনোনয়নের ভিত্তিতেই দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। তাঁর বিদায়ের পর এই প্রথম সভাপতি নির্বাচনে ভোট হচ্ছে। শনিবার ও রবিবার, দু’দিন ধরে চলছে সেই ভোটগ্রহণ।

আরও পড়ুন:  জন্মশতবর্ষের আগে জাতীয় মঞ্চে মহানায়ককে শ্রদ্ধা, ‘মন কি বাত’-এ উত্তম কুমারকে স্মরণ মোদীর

কিন্তু নির্বাচন ঘিরেও বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না টলিপাড়ার। গত কয়েক বছরে একাধিকবার পরিচালকদের সঙ্গে টেকনিশিয়ানদের বিরোধ, শুটিং বন্ধ এবং বয়কটের ঘটনা সামনে এসেছে। এই সব বিতর্কের নেপথ্যে স্বরূপ বিশ্বাসের ভূমিকা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। রাজনৈতিক পালাবদলের পর টলিউডের কাজের পরিবেশ বদলাবে বলে আশা করেছিলেন অনেকে। কিন্তু নতুন নির্বাচনেও পুরনো শিবিরের প্রভাব থেকে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাপিয়ার।

তাঁর কথায়, স্বরূপ বিশ্বাসের আমলে দায়িত্বে থাকা অনেকেই এ বার প্রার্থী হয়েছেন। ফলে নির্বাচন কতটা নিরপেক্ষ হচ্ছে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। পাপিয়ার আরও অভিযোগ, টলিউডে ক্যামেরা, আলো-সহ বিভিন্ন সরঞ্জাম সরবরাহকারী ভেন্ডারদের নিয়েও সমস্যা রয়েছে। তাঁর দাবি, এই বিষয়গুলির সমাধান না হলে শুধু নেতৃত্ব বদলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না। মিঠুন চক্রবর্তীকেও গোটা বিষয়টি সম্পর্কে ভুল ধারণা দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

আরও পড়ুন:  রবীন্দ্রনাথ-শরৎচন্দ্রের চিঠিই সিনেমার মূল অনুপ্রেরণা | Srijit Mukherji

অন্যদিকে, পাপিয়ার আশঙ্কার কারণ থাকলেও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার পক্ষপাতী নন রুদ্রনীল ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূল আমলে টলিউডে অরাজকতার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। তা বলে কাউকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা যায় না। বিধানসভায় বিরোধীদের প্রবেশে বাধা দেওয়া যেমন গণতান্ত্রিক হতে পারে না, তেমনই টেকনিশিয়ানদের কার্ড কেড়ে নেওয়াও সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রুদ্রনীলের কথায়, মিঠুন চক্রবর্তী সব বিষয়েই ওয়াকিবহাল। তবে কে কাকে পছন্দ করেন, তা বড় কথা নয়। যিনি যোগ্যতার সঙ্গে কাজ করবেন, শেষ পর্যন্ত তিনিই টিকে থাকবেন। ফলে ফেডারেশনের নতুন সভাপতি নির্বাচনের পর টলিউডের দীর্ঘদিনের অশান্তি কতটা কাটে, এখন সেদিকেই নজর শিল্পীমহলের।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment