ইরান-মার্কিন শান্তি খসড়ায় ৭ দিনের মধ্যে ইউরেনিয়াম হস্তান্তর, ফের হরমুজ চালুর প্রস্তাব

By Suman Debnath

October 31, 2026 4:10 PM

ইরান-মার্কিন শান্তি খসড়ায় ৭ দিনের মধ্যে ইউরেনিয়াম হস্তান্তর, ফের হরমুজ চালুর প্রস্তাব


টানা সাত মাসের সংঘাতের পর অবশেষে কি শান্তির পথে এগোচ্ছে আমেরিকা ও ইরান? দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার একটি প্রাথমিক খসড়া সামনে আসতেই নতুন করে জোরালো হয়েছে সেই জল্পনা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘আল অ্যারাবিয়া ইংলিশ’-এর হাতে আসা ওই খসড়ায় ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত তৃতীয় কোনও দেশে হস্তান্তর অথবা তার সমৃদ্ধকরণের মাত্রা কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, প্রাথমিক সমঝোতা হওয়ার ৭ দিনের মধ্যে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, চুক্তির বাস্তবায়ন ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে চিনকে সম্ভাব্য গ্যারান্টার হিসেবে রাখা হতে পারে। সেই সঙ্গে তুরস্কের ইস্তাম্বুলের পরিবর্তে কাতারের রাজধানী দোহায় সরাসরি আলোচনায় বসতে পারে ওয়াশিংটন ও তেহরান। খসড়ায় বলা হয়েছে, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি পালন করবে। বিনিময়ে আমেরিকা ইরানের উপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, বন্দর অবরোধ এবং অন্যান্য আর্থিক বিধিনিষেধ শিথিল করবে।

দুই দেশ নিজেদের প্রতিশ্রুতি যথাযথভাবে পালন করছে কি না তা যাচাই করতে গড়া হবে একটি স্বাধীন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা। কোনও পক্ষ চুক্তি লঙ্ঘন করলে বা নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলে পরিস্থিতি সামাল দিতে মধ্যস্থতাকারী ও গ্যারান্টার দেশগুলিকে নিয়ে পৃথক বিবাদ নিষ্পত্তি ব্যবস্থাও রাখার প্রস্তাবও রয়েছে।

আরও পড়ুন:  আফগানিস্তানে ফের হামলা পাকিস্তানের, অন্তত ১০টি এলাকায় হামলা

এদিকে জানা গিয়েছে, শুক্রবার নতুন করে গতি পেয়েছে কূটনৈতিক তৎপরতা। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এক উচ্চপদস্থ উপদেষ্টার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল তেহরানে পৌঁছেছে। ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই কাজ করছে ওই দল। কাতারের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে ইরানের নিরাপত্তা আধিকারিক মোহসেন রেজাইয়ের কাছে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের একটি চিঠিও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে খবর। আরও মার্কিন সামরিক হামলা এড়িয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলার প্রস্তাব থাকায় চিঠিটিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে তেহরান, এমনটাই খবর।

তবে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হলেও সংঘাত শেষ করার তাড়াহুড়ো নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইরান আলোচনা করতে চাইলেও আর্থিক সঙ্কটের কারণে নিজেদের সেনা ও পুলিশ বাহিনীর বেতন দিতে পারছে না। তাঁর কথায়, ‘ওদের বড় সমস্যা রয়েছে। আর এও সত্যি যে আমাদের হাতে সময় আছে। এটা কোনও সাধারণ যুদ্ধ নয়। আমরা সেখানে ৭ মাস ধরে রয়েছি।’

আরও পড়ুন:  ৪০০০ মৃত্যু, হাতে নেই ভ্যাকসিন: মারণ ভাইরাসের ঢেউ আছড়ে পড়েছে, দুয়ারে আরেকটা অতিমারী

যুদ্ধের খরচ নিয়েও দাবি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, ইরান অভিযানে আমেরিকার বিশেষ অর্থ ব্যয় হয়নি। বরং ভেনেজুয়েলার মাধ্যমে এই অভিযানে খরচ হওয়া অর্থের প্রায় দশ গুণ তুলে নেওয়া হয়েছে। যদিও এই দাবির সমর্থনে কোনও নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান দেননি তিনি। সেই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযানের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

অন্যদিকে, মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছে তুরস্কও। শুক্রবার জি-২০-র পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের ফাঁকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। দুই দেশের মধ্যে চলা আলোচনা, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে তাঁদের কথা হয়। এর আগে ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।

আরও পড়ুন: ইউক্রেনের যাত্রীবাহী ট্রেনে আছড়ে পড়ল রুশ ড্রোন, মৃত ১৩, আহত ১০

সব মিলিয়ে, একদিকে শান্তি আলোচনার নতুন উদ্যোগ, অন্যদিকে ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি—দুইয়ের মাঝে ইরান ও আমেরিকার প্রস্তাবিত এই খসড়া শেষ পর্যন্ত স্থায়ী সমঝোতার পথ খুলে দিতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment