এআইয়ের সুফল কারা পাবেন ?

By Suman Debnath

October 30, 2026 12:50 PM


আগামী ১২–১৮ মাসেই ঠিক হবে এআইয়ের সুফল কারা পাবেন, বললেন বিল গেটস।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসে যে সিদ্ধান্তগুলি নেওয়া হবে, তার উপরই আগামী দিনে এই প্রযুক্তির সুফল কারা পাবেন, তা অনেকটাই নির্ভর করবে। এমনই মত মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের। এআইয়ের সম্ভাবনার পাশাপাশি ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করে তিনি ভারতকে স্থানীয় ভাষা, তথ্য সুরক্ষা এবং নিজস্ব দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির উপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গেটস বলেন, ‘‘আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলি ঠিক করবে, আগামী বহু বছর ধরে কারা এর সুফল পাবেন, আর কারা পাবেন না।’’ তাঁর মতে, আগের প্রযুক্তিগুলির তুলনায় এআই সম্পূর্ণ ভিন্ন। এর মধ্যে যেমন নতুন ধরনের ঝুঁকি রয়েছে, তেমনই মানুষের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আনার সম্ভাবনাও রয়েছে।

আরও পড়ুন:  ফোনের আসক্তি কমানোর ৭ উপায়

ভারতের ক্ষেত্রে এআই কী ভাবে গ্রাম এবং ছোট শহরের মানুষের কাছে পৌঁছতে পারে, তার উদাহরণও দিয়েছেন গেটস। তাঁর মতে, কোনও কৃষক মোবাইলে রোগাক্রান্ত পাতার ছবি তুলে নিজের ভাষায় কয়েক মিনিটের মধ্যেই রোগের কারণ এবং প্রতিকারের পরামর্শ পেতে পারেন। পরে ড্রোনের মাধ্যমে জমিতে কীটনাশক ছড়িয়ে ফসলের ক্ষতি রোখাও সম্ভব।

তবে এআই ব্যবহারে স্থানীয় ভাষা এবং স্থানীয় পরিস্থিতির গুরুত্বের কথা বিশেষ ভাবে উল্লেখ করেছেন তিনি। স্বাস্থ্য পরিষেবায় ইংরেজি-নির্ভর এআই স্থানীয় ভাষায় করা প্রশ্ন ভুল বুঝতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন গেটস। তাঁর বক্তব্য, ভারতীয়দের জন্য কার্যকর এআই তৈরি করতে ভারতীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী ভারতীয় তথ্যের প্রয়োজন। সেই তথ্য কী ভাবে পরিচালিত ও সুরক্ষিত হবে, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রেও ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকা উচিত।

আরও পড়ুন:  ক্যানসার রোগীর বাঁচার সম্ভাবনা জানাবে এআই! একটি সেলফি থেকেই মিলবে মৃত্যুঝুঁকির ইঙ্গিত, দাবি গবেষকদের

স্বাস্থ্যক্ষেত্রে এআই-এর মাধ্যমে রোগ দ্রুত শনাক্ত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রোগীকে বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানোর সুবিধার কথাও বলেছেন তিনি। তবে এই ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে সতর্ক করেছেন।

কৃষিক্ষেত্রে মহারাষ্ট্রের ‘মহাভিস্তার’ পরিষেবার উদাহরণ দিয়ে গেটস জানান, সাত লক্ষেরও বেশি কৃষক ইতিমধ্যেই এই পরিষেবায় যুক্ত। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, এআই যেমন ভাল কাজে সাহায্য করতে পারে, তেমনই হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় হামলা চালাতেও ব্যবহৃত হতে পারে। ভারতের তরুণ কর্মশক্তির জন্য এআই-নির্ভর ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে দক্ষতা বৃদ্ধির উপরও জোর দিয়েছেন তিনি।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment