জিম ট্রেনার প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে স্বামীকে খুনের ছক স্ত্রীর, নয়াদিল্লিতে গ্রেপ্তার দু’জনেই

By Suman Debnath

October 29, 2026 1:50 PM

জিম ট্রেনার প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে স্বামীকে খুনের ছক স্ত্রীর, নয়াদিল্লিতে গ্রেপ্তার দু’জনেই


সুঠাম দেহ আকর্ষণ করেছিল। প্রেমিকার কাছে প্রেমিক হয়ে উঠেছিল বাহুবলী। আর সেই হিরোর মতো চেহারাই প্রেমের সূত্রপাত। তাই তো জিম ট্রেনারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে বিবাহিত যুবতীর। কিন্তু পথের কাঁটা স্বামী। স্বামীকে সরাতে না পারলে জিম ট্রেনার প্রেমিকের বাহুডোরে চিরদিনের মতো আশ্রয় নেওয়া যাচ্ছিল না। আর তাই জিম ট্রেনার প্রেমিকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে যুবতী বধূ করেছিলেন খুনের ছক। ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপ মারা হয় যুবতী বধূর স্বামীকে। হাড়হিম এই ঘটনায় নয়াদিল্লির বসুন্ধরা এলাকায় আলোড়ন ফেলে দেয়। এই ঘটনায় এবার যুবতী বধূ প্রিয়া শর্মা এবং তাঁর জিম ট্রেনার প্রেমিক প্রতাপ সিংকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।

একের পর এক কোপ মেরে চম্পট দেয় হামলাকারী। গোটা ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠে যায় যুবতী স্ত্রী এবং তাঁর প্রেমিক জিম প্রশিক্ষক প্রেমিকের বিরুদ্ধে। পুলিশ সূত্রে খবর, গত ২৬ অক্টোবর ইন্দ্রপুরম থানা এলাকার বসুন্ধরা সেক্টর-১-এর জাগৃতি রেসিডেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন সোসাইটিতে ওই ঘটনা ঘটে যায়। তখন বাড়িতেই ছিলেন সরকারি কর্মী শশাঙ্ক কন্ঠরিয়া। স্ত্রী প্রিয়া শর্মা সকালে জিমে বেরিয়ে যান। তার পরেই ফ্ল্যাটে আসেন প্রতাপ সিং প্রেমিক-জিম ট্রেনার। চার বছর আগে বিয়ে হয় শশাঙ্ক-প্রিয়ার। তবে প্রিয়ার এটি দ্বিতীয় বিয়ে। উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসির বাসিন্দা হলেও কর্মসূত্রে দিল্লিতে স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন শশাঙ্ক। তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, জিম ট্রেনার প্রতাপ সিংয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় প্রিয়া শর্মার। তারপর প্রতাপের জিম সেন্টারে ভর্তি হন প্রিয়া। ৮ মাস ধরে জিমে যাচ্ছিলেন প্রিয়া। সেখান থেকে তাঁদের ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। প্রেমের সম্পর্কও তৈরি হয়।

আরও পড়ুন:  সরকারি গাড়ি ব্যবহারে কড়াকড়ি কেন্দ্রের, এক অফিসারের জন্য একটিই গাড়ি

 

কিন্তু এই প্রেম দুরন্ত গতিতে চালাতে গেলে স্বামীকে জীবন থেকে সরাতে হবে। এই কথা থেকেই তৈরি হয় খুনের ছক। তাই পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতাপ সিং শশাঙ্কের বাড়িতে ঢুকেই এলোপাথাড়ি কোপ মারতে থাকেন তাঁকে। শশাঙ্ক চিৎকার করতে থাকলে কিছুটা ঘাবড়ে গিয়ে ফ্ল্যাট ছেড়ে চম্পট দেন প্রতাপ। তখনই খবর পেয়ে পৌঁছয় পুলিশ। স্থানীয় যশোদা মেডিসিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় শশাঙ্ককে। আপাতত সেখানেই চিকিৎসাধীন আছেন তিনি। দিল্লিতে পোস্টাল ডিপার্টমেন্টে সিনিয়র অ্যাকাউন্টেন্ট হিসেবে কাজ করেন শশাঙ্ক-প্রিয়া। তবে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠার পর থেকে হোযাটসঅ্যাপে প্রিয়ার সঙ্গে কথা হতো প্রতাপের। জিমে গিয়ে ঘনিষ্ঠতা হলেও অফিস না গিয়ে বাড়িতে ঢেকে নিয়ে প্রিয়া ঘনিষ্ঠ হতেন প্রতাপের সঙ্গে। তারপর সোনালি মুহুর্ত কাটিয়ে শশাঙ্ক বাড়ি ফেরার আগে চলে যেতেন প্রতাপ। শরীর খারাপ লাগছে বলে অফিস যেতেন না প্রিয়া। তদন্তে এসব উঠে এসেছে।

আরও পড়ুন:  গুয়াহাটির নাইটক্লাবে ভয়াবহ কাণ্ড, পোশাক খুলে মহিলাকে মারধরের অভিযোগ, আটক ম্যানেজার

তাছাড়া বারবার শরীর খারাপের অজুহাতে অফিস না যাওয়ায় সন্দেহ হয় স্বামী শশাঙ্কের। তিনি নজরদারি রেখে জানতে পারেন স্ত্রী প্রিয়া বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছেন। আর সেটাও জিম ট্রেনার প্রতাপের সঙ্গে। এই নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়াও হয়েছিল। এরপরই শশাঙ্ক সিদ্ধান্ত নেন, দীপাবলির পর বসুন্ধরা এলাকা ছেড়ে প্রিয়াকে নিয়ে অন্য জায়গায় চলে যাবেন। কিন্তু প্রিয়ার তাতে আপত্তি ছিল। গত ২৫ অক্টোবর প্রিয়া এবং প্রেমিক প্রতাপ দেখা করেন। সেখানেই তৈরি হয় খুনের ছক। তারপর পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ হলেও সফল হয়নি খুন করতে। পুলিশ প্রতাপ এবং প্রিয়াকে গ্রেপ্তার করে। উদ্ধার হয়েছে ছুরিও। পুলিশের জেরায় প্রতাপ জানান, প্রিয়ার সঙ্গে তিনি বিয়ে করবেন বলে সব ঠিক ছিল। প্রিয়ার কথাতেই খুনের ছক সাজানো হয়। তাই দরজা খোলা রেখে বেরিয়ে গিয়েছিলেন প্রিয়া।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment