এফএটিএফ বৈঠকে পাকিস্তানকে চাপে ফেলতে তৎপর ভারত, নিশানায় মাসুদ আজহার ও জইশ-ই-মহম্মদ

By Suman Debnath

October 28, 2026 8:25 PM

এফএটিএফ বৈঠকে পাকিস্তানকে চাপে ফেলতে তৎপর ভারত, নিশানায় মাসুদ আজহার ও জইশ-ই-মহম্মদ


পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে মদত ও জঙ্গি কার্যকলাপে অর্থ জোগানোর অভিযোগ আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরতে উদ্যোগী ভারত। মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর থেকে প্যারিসে শুরু হওয়া ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স বা এফএটিএফ-এর পূর্ণাঙ্গ বৈঠকে জইশ-ই-মহম্মদের প্রধান মাসুদ আজহারকে ঘিরে ইসলামাবাদের ভূমিকা তুলে ধরতে চলেছে দিল্লি। ভারতের অভিযোগ, রাষ্ট্রসঙ্ঘের ঘোষিত জঙ্গি মাসুদ আজহারের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ করেনি পাকিস্তান। বরং তাকে আশ্রয় ও নিরাপত্তা দিয়ে রেখেছে। এই অভিযোগের পক্ষে তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করবে ভারত।

২৮-৩০ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এফএটিএফের এই বৈঠক। সংস্থার সভাপতি গিলস থমসনের নেতৃত্বে বৈঠকে ২০০টিরও বেশি দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। সরকারি সূত্রের খবর, বৈঠকের আগে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে দিল্লি। সন্ত্রাসবাদে অর্থের জোগান বন্ধ করা এবং জঙ্গি সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে ভারতের বক্তব্যের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চলছে। এবার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে মাসুদ আজহার এবং তার সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের কার্যকলাপের উপর।

ভারতের অভিযোগ, ২০০১ সালে সংসদে হামলা, পাঠানকোট হামলা এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার মতো একাধিক নাশকতার সঙ্গে জইশ-ই-মহম্মদের যোগ রয়েছে। অথচ সংগঠনটির প্রধানের বিরুদ্ধে পাকিস্তান কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। দীর্ঘদিন ধরে ইসলামাবাদ দাবি করে আসছে, মাসুদ আজহার আফগানিস্তানে রয়েছে। কিন্তু গত সেপ্টেম্বরে তালিবানের মুখপাত্র জিয়া আহমদ থকাল জানান, মাসুদ আফগানিস্তানে নেই।

আরও পড়ুন:  বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল পাকিস্তান, মৃত ১২, আহত ৩০

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মাসুদের অবস্থান নিয়ে পাকিস্তান আফগানিস্তানের সঙ্গে কোনও আনুষ্ঠানিক যোগাযোগও করেনি। ভারতের মতে, এই বক্তব্য পাকিস্তানের দাবিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, মাসুদ আজহার পাকিস্তানেই রয়েছে এবং সে দেশের নিরাপত্তা সংস্থার সুরক্ষা পাচ্ছে। তার অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা দাবি সামনে এসেছে। সম্প্রতি পাকিস্তান তার মাথার দাম ৫০ লক্ষ থেকে বাড়িয়ে ৭০ লক্ষ টাকা করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এর আগে পাকিস্তানের কাছে মাসুদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ করার দাবি জানিয়েছেন। দিল্লির বক্তব্য, ইসলামাবাদ যদি সত্যিই তার অবস্থান না জানে, তাহলে তাকে খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত। সন্ত্রাসবাদে অর্থের জোগান রুখতে ব্যর্থতার অভিযোগে এফএটিএফের বাড়তি নজরদারির তালিকায় ছিল পাকিস্তান।

২০২২ সাল পর্যন্ত সেই তালিকায় ছিল দেশটি। ওই সময়ে লস্কর-ই-তৈবার প্রধান হাফিজ সইদ-সহ জঙ্গি সংগঠন ও তাদের নেতাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের পদক্ষেপ যথেষ্ট নয় বলে প্রশ্ন উঠেছিল। পরবর্তী সময়ে নজরদারির তালিকা থেকে পাকিস্তানের নাম বাদ দেওয়া হলেও সন্ত্রাসবাদে অর্থের জোগান বন্ধ করার ক্ষেত্রে দেশটির ভূমিকা নিয়ে ভারতের উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। এবারের বৈঠকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নতুন করে ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে সদস্য দেশগুলির সমর্থন আদায় করাই দিল্লির অন্যতম লক্ষ্য বলে সরকারি সূত্রের দাবি।

আরও পড়ুন:  Explainer: শ্রেণিকক্ষ থেকে রাজপথ, ইউরোপের বিক্ষোভের আগুন জ্বলছে, কেন?

এদিকে, অপারেশন সিঁদুরের পরেও জইশ-ই-মহম্মদের কার্যকলাপ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রের অভিযোগ। পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের বিভিন্ন জঙ্গি ঘাঁটিতে জইশ-ই-মহম্মদ, লস্কর-ই-তৈবা এবং হিজবুল মুজাহিদিনের সদস্যদের উপস্থিতি রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। মাসুদ আজহারের অবস্থান ও তার সংগঠনের কার্যকলাপের পাশাপাশি জঙ্গি সংগঠনগুলির অর্থের জোগান এবং তাদের কার্যক্ষমতার বিষয়টিও আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরতে পারে ভারত।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতায় মুইজ্জুকে সতর্ক করল বিরোধীরা, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ

তবে এফএটিএফের বৈঠকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের অভিযোগ উঠলেই দেশটিকে ফের নজরদারির তালিকায় ফেরানো হবে এমন নিশ্চয়তা নেই। তার জন্য সংস্থার মূল্যায়ন এবং সদস্য দেশগুলির সম্মতি গুরুত্বপূর্ণ। দিল্লির লক্ষ্য, মাসুদ আজহারকে ঘিরে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সন্ত্রাসবাদে অর্থের জোগান বন্ধ করার ক্ষেত্রে ইসলামাবাদের পদক্ষেপের উপর আন্তর্জাতিক নজরদারি ও চাপ বাড়ানো।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment