দিল্লির এসসিও সম্মেলনে যোগ দিতে পাকিস্তানের মন্ত্রীকে আমন্ত্রণ ভারতের

By Suman Debnath

October 28, 2026 3:25 PM

দিল্লির এসসিও সম্মেলনে যোগ দিতে পাকিস্তানের মন্ত্রীকে আমন্ত্রণ ভারতের


ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের টানাপোড়েন দীর্ঘদিনের। এদিকে আগামী ২০-২২ নভেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) প্রথম সিভিলাইজেশনাল ডায়লগ ফোরাম। সেই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। শুধু পাকিস্তান নয়, এর সঙ্গে আরও ৯টি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের জাতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী ঔরঙ্গজেব খান খিচিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। ২০২৫ সালের মে মাসে পহেলগামে জঙ্গি হামলার পর ভারত অপারেশন সিঁদুর শুরু করেছিল। সেই সামরিক অভিযানের পর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের কোনও প্রবীণ মন্ত্রীকে ভারতে আমন্ত্রণ জানানোর ঘটনা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

ঔরঙ্গজেব খান খিচি সম্মেলনে যোগ দিলে ২০২৩ সালের মে মাসে তৎকালীন পাক বিদেশমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির গোয়া সফরের পর এই প্রথম পাকিস্তানের কোনও প্রবীণ মন্ত্রী ভারতে আসবেন। সে সময় গোয়ায় এসসিও-র বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন বিলাওয়াল।

আরও পড়ুন:  মিনিয়াপোলিসে বহুতল আবাসনে চলল গুলি, মৃত ৩, আহত ৩ পুলিশকর্মী

গত ২০ অক্টোবর তাজশিকরান বা দুশানবেতে অনুষ্ঠিত এসসিও কাউন্সিলের ২৫তম বৈঠকে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী তথা প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইশাক দারের উপস্থিতিতেই কঠোর বার্তা দিয়েছিলেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। সন্ত্রাস দমনে কোনও দ্বিমুখী নীতি বরদাস্ত করা হবে না বলে সাফ জানিয়েছিলেন তিনি। যারা সন্ত্রাসবাদে অর্থ জোগায়, মদত দেয় কিংবা জঙ্গিদের আশ্রয় দেয়, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার। সেখান থেকেই সিভিলাইজেশনাল ডায়লগ ফোরামের ঘোষণা করেছিলেন রাজনাথ সিং। তিনি জানান, সমস্ত সদস্য দেশকে এতে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সদস্য দেশগুলির মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদার করা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

উল্লেখ্য, গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬-২৭ মেয়াদের জন্য এসসিও-র রাষ্ট্রপ্রধানদের পরিষদের পর্যায়ক্রমিক সভাপতিত্বের দায়িত্ব নিয়েছে পাকিস্তান। কিরঘিজস্তানের কাছ থেকে এই দায়িত্ব গ্রহণ করে ইসলামাবাদ।

আরও পড়ুন:  কাতারের প্রাক্তন ‘ফাদার আমির’  শেখ হামাদের প্রয়াণে ভারতে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক

আরও পড়ুন: ভেটোর অধিকার ছাড়া নতুন স্থায়ী সদস্য ‘দ্বিতীয় শ্রেণির’, নিরাপত্তা পরিষদে ফের সরব ভারত

বর্তমানে এসসিও-র সদস্য দেশগুলি হল বেলারুশ, চিন, ভারত, ইরান, কাজাখস্তান, কিরঘিজস্তান, পাকিস্তান, রাশিয়া, তাজশিকরান, ও উজবেকিস্তান। ২০১৭ সালে পূর্ণ সদস্য হয় ভারত। আফগানিস্তান ও মঙ্গোলিয়া পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র হিসেবে রয়েছে। এছাড়াও সংগঠনটির ১৫টি সংলাপ-সহযোগী রয়েছে।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment