টালমাটাল পরিস্থিতিতে ২০ জন সাংসদ, দুর্গাপুজোকে হাতিয়ার করে বাড়তি সময় চেয়ে স্পিকারকে চিঠি সুদীপদের

By Suman Debnath

October 21, 2026 1:10 PM

টালমাটাল পরিস্থিতিতে ২০ জন সাংসদ, দুর্গাপুজোকে হাতিয়ার করে বাড়তি সময় চেয়ে স্পিকারকে চিঠি সুদীপদের


বেজায় টালমাটাল পরিস্থিতিতে পড়েছেন তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই দলে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদ। কিছুতেই তাঁরা জানাতে পারছেন না কোন দলে আছেন। নিজেদের অবস্থান জানাতে গিয়ে বারবার হোঁচট খাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, এই নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য পর্যন্ত করতে পারছেন না। শুধু তারিখ পে তারিখ নিয়ে ভেসে আছেন রাজনীতির ময়দানে। শুধুই সময় চেয়ে যাচ্ছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়রা। যা নিয়ে এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গিয়েছে। তারপরও নিজেদের অবস্থান জানিয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দেননি সুদীপরা। বরং আরও সময় চেয়ে চিঠি দিয়েছেন।

এই পদক্ষেপ থেকে বোঝা যাচ্ছে, ওই ২০ জন সাংসদের মধ্যে টালমাটাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কোন দলে তাঁরা আছেন? লোকসভার স্পিকার বারবার জিজ্ঞাসা করছেন। কিন্তু এই কঠিন প্রশ্নের উত্তর দিতে বারবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে সময় চাইছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার আবার সময় চেযেছেন। কারণ, দুর্গাপুজোর ব্যস্ততা। দুর্গাপুজোকে সামনে রেখে এখন সময় চাইলেন। নবমীর দিন লোকসভার স্পিকারের সচিবালয়কে চিঠি লিখে সময় চাওয়া হয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। সেই সময় হয়তে স্পিকার দিয়ে দেবেন। তাতে কি অবস্থান স্পষ্ট হবে? উঠছে প্রশ্ন।

আরও পড়ুন:  আরশোলা’দের দমাতে এবার ‘লাল হিট জনতা পার্টি’! গণতন্ত্র রক্ষায় শপথ, কী দাবি?

তৃণমূল কংগ্রেসের বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ আগেই এই খবর সমাজমাধ্যমে চাউর করেছিলেন। সেটা এবার মিলে যাচ্ছে। কিন্তু কুণাল ঘোষ তাঁদের ভিতরের খবর পেলেন কেমন করে? এই প্রশ্নও উঠছে। সূত্রের খবর, ২০ জন সাংসদের মধ্যে বেশ কয়েকজন কুণাল ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। তাঁরা আবার ফিরতে চান। তাঁরা আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও সে কথা জানিয়েছেন। কারণ যে স্বপ্ন এবং আশা নিয়ে এনসিপিআই দলে যোগ দিয়েছিলেন সেসব এখন নিরাশায় পরিণত হয়েছে। কদিন আগেই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ত্যাগ করেছেন তাঁরা। এমনকী আলাদা বৈঠক করেছেন তাঁরা।

তাছাড়া যাঁরা ফিরতে চান তাঁরা বুঝতে পেরেছেন এনসিপিআই দলে থেকে কোনও লাভ নেই। উলটে সাংসদ পদ খারিজ হতে পারে। অন্তত তৃণমূলে ফিরে এলে সেটা হবে না। ২০২৯ পর্যন্ত তো সাংসদ থাকা যাবে। নিজের এলাকায় ফেরা যাবে। আর বিরোধী হিসাবে ঠিকঠাক লড়াই করতে পারলে আবার টিকিট পেয়ে সাংসদ হওয়ার সুযোগ থাকবে। গত জুন মাসে স্পিকারের কাছে এই ২০ জনের সাংসদের পদ খারিজ চেয়ে পৃথক পৃথক পিটিশন দাখিল করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর যান সুপ্রিম কোর্টে। শীর্ষ আদালত নোটিস দেয় স্পিকারের সচিবালয়কে। সুপ্রিম কোর্টের নোটিসের পর স্পিকারের সচিবালয় চিঠি দেয় ২০ জন সাংসদকে। আগস্ট মাস থেকে যতবারই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদারদের চিঠি দিয়েছেন স্পিকার ততবারই বাড়তি সময় চাওয়া হয়েছে। একেক বার একেক কারণ দেখানো হয়েছে। সময়বৃদ্ধির চতুর্থতে দুর্গাপুজোর কথা বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:  বন্যপ্রাণী পাচার রুখতে কড়া DRI, ১০ দিনে ৬টি বড় অভিযান

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment