শরৎ এল রে: শক্তিপীঠ কামাখ্যায় মূর্তি ছাড়াই দেবী দুর্গার আরাধনা, পুজোর অনন্য রীতি

By Suman Debnath

October 20, 2026 4:25 PM

শরৎ এল রে: শক্তিপীঠ কামাখ্যায় মূর্তি ছাড়াই দেবী দুর্গার আরাধনা, পুজোর অনন্য রীতি


বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো (Durga Puja)। সারা বাংলাজুড়ে মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীর আরাধনা করা হয়। অন্যদিকে আসামের গুয়াহাটির নীলাচল পাহাড়ের উপর অবস্থিত ৫১ পিঠের অন্যমত শক্তিপীঠ কামাখ্যা মন্দিরেও হয় দুর্গাপুজো (Durga Puja)। তবে এখানে পুজোর রীতি সম্পূর্ণ আলাদা।

প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী, দেবীর কোনও মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে পুজো করা হয় না। বরং পবিত্র শিলাখণ্ডকে কেন্দ্র করে চলে দেবী আরাধনা। সাজানো মণ্ডপ, আলোকসজ্জা কিংবা বিশাল প্রতিমার বদলে প্রাচীন তান্ত্রিক রীতি ও আচার-অনুষ্ঠানই কামাখ্যার দুর্গোৎসবের (Durga Puja) মূল আকর্ষণ।

মহিষাসুরকে বধ করে অশুভ শক্তির বিনাসের প্রতীক হিসেবে দেবী দুর্গার পুজো করা হয়। তবে কামাখ্যা মন্দির দুর্গাপুজো (Durga Puja) চলে পক্ষকাল ধরে। আশ্বিন মাসের কৃষ্ণ নবমী থেকে শুক্ল নবমী পর্যন্ত চলে এই পুজো। চলতি বছর দুর্গাপুজো (Durga Puja) পালিত হচ্ছে ১৭ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত। এই দিনগুলিতে প্রতিদিন তিন বেলায় দেবীর পুজো হয়– প্রাতঃকাল, মধ্যাহ্নপুজো এবং সন্ধ্যাপুজো।

আরও পড়ুন:  সোনমকে ধন্যবাদ জানিয়ে ‘Charging up’! ‘ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা চাই’, লড়াই জারি রাখলেন দীপকে

আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: মহাষ্টমীতে বেলুড় মঠে কুমারী পুজো, পুণ্যার্থীদের ঢল

পুজোর গুরুত্বপূর্ণ আচারগুলির হল মহাস্নান, পঞ্চগব্য সহযোগে পীঠস্থানের বিশেষ পুজো এবং বলিদান। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী মহিষ, ছাগল, পায়রা মাছের পাশাপাশি লাউ, কুমড়ো ও আখও নিবেদন করা হয়। দেবী দুর্গা তাঁর চার সন্তান লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশকে নিয়ে বাপের বাড়িতে আসেন এবং বিজয়া দশমীতে কৈলাসে ফিরে যান।

কুমারী পুজোয় নারীশক্তির আরাধনা

কামাখ্যা মন্দিরে দুর্গাপুজোর (Durga Puja) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ কুমারী পুজো। কুমারী মেয়েদের দেবী কামাখ্যার জীবন্ত প্রতিরূপ হিসেবে পুজো করা হয়। নতুন লাল শাড়ি, সিঁদুর, ফুলের মালা ও অলংকারে সাজিয়ে তাঁদের আরাধনা করা হয়।

কুমারী পুজোর অন্তনির্হিত দর্শন হল নারীশক্তির মর্যাদা প্রতিষ্ঠা। কুমারীকে সৃষ্টির, স্থিতির ও ধ্বংসের নিয়ন্ত্রক শক্তির প্রতীক হিসেবে দেখা যায়। কুমারীকে সৃষ্টির, স্থিতির ও ধ্বংসের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। নারীকে দেবীরূপে সম্মান জানানোর এই প্রাচীন রীতি কামাখ্যার দুর্গোৎসবকে বিশেষ তাৎপর্যমণ্ডিত করেছে।

আরও পড়ুন:  মঙ্গলবার মধ্যরাতে বৈঠক ‘ককরোচ-দের’, নিট প্রতিবাদীদের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নেওয়ার আশ্বাস

আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: ডুয়ার্সের জঙ্গলে দুর্গাপুজো, উৎসবের বন্ধনে এক হয় বনকর্মীরা, চা-বাগানের শ্রমিক ও জনজাতি সম্প্রদায়

দেবী কামেশ্বরী বা কামাখ্যাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই মন্দির ভারতের ৫১টি শক্তিপীঠের অন্যতম বলে স্বীকৃত। কিংবদন্তি অনুসারে, কামদেবের উদ্যোগে এবং বিশ্বকর্মার সহায়তায় এই মন্দির নির্মিত হয়েছিল।

এখানে দেবীর প্রতীক হিসেবে পূজিত হয় একটি পবিত্র শিলাখণ্ড, যা রেশমের শাড়ি দিয়ে আবৃত থাকে। ভক্তরা সেই শিলাখণ্ড স্পর্শ করে ফুল ও বেলপাতা নিবেদন করেন এবং আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন।

প্রচলিত দুর্গাপুজোর (Durga Puja) জাঁকজমকপূর্ণ প্রতিমা কিংবা আলোকসজ্জা ছাড়াই কামাখ্যায় দেবীর আরাধনা প্রাচীন ধর্মীয় বিশ্বাস, তন্ত্রসাধনা এবং নারীশক্তির দর্শনকে সামনে নিয়ে আসে। পবিত্র শিলাখণ্ডকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই অনন্য পুজোর রীতি ভারতের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে কামাখ্যা মন্দিরকে স্বতন্ত্র পরিচিতি দিয়েছে।

দেখুন:

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment