আদালতে এ৪ কাগজে দু’পিঠে ছাপার প্রস্তাব, অভিন্ন নীতি চেয়ে জনস্বার্থ মামলা হাই কোর্টে

By Suman Debnath

October 17, 2026 2:30 PM

আদালতে এ৪ কাগজে দু’পিঠে ছাপার প্রস্তাব, অভিন্ন নীতি চেয়ে জনস্বার্থ মামলা হাই কোর্টে


আদালতে মামলার নথি জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে এ৪ মাপের কাগজে দু’পিঠে ছাপার ব্যবস্থা চালু করার দাবি উঠল কলকাতা হাইকোর্টে। এই বিষয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন আইনজীবী আকাশ শর্মা। রাজ্যের বিভিন্ন আদালতে কাগজের ব্যবহার কমানো, ছাপার খরচ বাঁচানো এবং পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে অভিন্ন নীতি চালুর আর্জি জানানো হয়েছে মামলায়। আগামী ২৩ নভেম্বর মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা।

আদালতে মামলা সংক্রান্ত আবেদন, হলফনামা, সওয়াল-জবাব-সহ বিভিন্ন নথি জমা দিতে বিপুল পরিমাণ কাগজের প্রয়োজন হয়। বর্তমানে এক পিঠে ছাপার ফলে নথি তৈরিতে কাগজের ব্যবহার বেশি হয়। সেই জায়গায় দু’পিঠে ছাপার ব্যবস্থা চালু করা গেলে কাগজের ব্যবহার এবং ছাপার খরচ কমানো সম্ভব বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। এতে নথি সংরক্ষণ ও পরিবহণের ক্ষেত্রেও সুবিধা হতে পারে।

মামলায় উদ্ধৃত হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশের জেলা ও তালুক আদালত এবং ২৫টি হাই কোর্টে মোট ১ কোটি ১৫ লক্ষ ৯৩ হাজার ৩০৩টি মামলা দায়ের হয়েছিল। প্রতিটি মামলায় ন্যূনতম ৫০ পৃষ্ঠা ধরে এক পিঠে ছাপার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজের পরিমাণ হিসাব করা হয়েছে প্রায় ৫৭৯ কোটি ৬৬ লক্ষ ৫১ হাজার ৫০ পৃষ্ঠা। মামলায় দাবি করা হয়েছে, দু’পিঠে ছাপার ব্যবস্থা চালু হলে আনুমানিক ৩৪ হাজার ৭৮১টি গাছ এবং প্রায় ২৮৯ কোটি ৮৩ লক্ষ ৩০ হাজার ৭৩০ লিটার জল সাশ্রয় হতে পারে। যদিও এই পরিসংখ্যান অনুমানভিত্তিক। প্রস্তাব কার্যকর হলে সম্ভাব্য সাশ্রয়ের হিসাবই এখানে তুলে ধরা হয়েছে।

আরও পড়ুন:  সেনার বিরুদ্ধে ‘মিথ্যে’ মামলা! 'ইম্ফলে ডিউটিতে, হুগলিতে মারধর', সেনাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা খারিজ হাইকোর্টে

কলকাতা হাই কোর্টের প্রশাসনিক ও তত্ত্বাবধানের আওতায় থাকা আদালতগুলিতে নথি জমা দেওয়ার নিয়মে সামঞ্জস্য আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। হাই কোর্টে নির্দিষ্ট কিছু নথির ক্ষেত্রে এ৪ মাপের কাগজ ব্যবহারের বিধান থাকলেও, দু’পিঠে ছাপা-সহ নথি জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে অভিন্ন নীতি চালুর আবেদন জানিয়েছেন মামলাকারী। কাগজের মাপ, গুণমান ও ছাপার পদ্ধতি নিয়ে আগে নেওয়া প্রশাসনিক উদ্যোগগুলির বর্তমান অবস্থাও খতিয়ে দেখার আর্জি জানানো হয়েছে।

তবে দু’পিঠে ছাপার ব্যবস্থা চালু করার ক্ষেত্রে নথির পাঠযোগ্যতা, স্ক্যানিং, প্রতিলিপি তৈরি এবং সংরক্ষণের বিষয়গুলিও গুরুত্বপূর্ণ। তাই সব ধরনের নথির ক্ষেত্রে একই নিয়ম কার্যকর করার পরিবর্তে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যতিক্রম রাখার বিষয়টিও বিবেচনার দাবি রাখে।

প্রস্তাবটি কার্যকর হলে আইনজীবী ও মামলাকারীদের নথি তৈরির খরচ কমার পাশাপাশি আদালতে নথি সংরক্ষণের জায়গা এবং পরিবহণের চাপও কমতে পারে। তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনার উপর। আদালতের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় পরিবেশবান্ধব ও ব্যয়সাশ্রয়ী পদ্ধতি চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখাই এই জনস্বার্থ মামলার মূল উদ্দেশ্য। আগামী ২৩ নভেম্বর কলকাতা হাই কোর্টে মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা।

আরও পড়ুন:  ইন্দ্রনীল ও তাঁর স্ত্রীকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা, বয়ানে অসঙ্গতির অভিযোগ, ইন্দ্রনীলকন্যাকে বুধবার তলব

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment