সিবিআই মামলায় সুপ্রিম কোর্টে জামিন, আর জি কর কাণ্ডে দু’বছর পর বড় স্বস্তি প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের

By Suman Debnath

October 16, 2026 8:20 PM

সিবিআই মামলায় সুপ্রিম কোর্টে জামিন, আর জি কর কাণ্ডে দু’বছর পর বড় স্বস্তি প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের


আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে (Sandip Ghosh) সিবিআইয়ের দায়ের করা মামলায় জামিন দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court bail)। দীর্ঘ দু’বছরের বেশি সময় ধরে জেলে বন্দি থাকার পর অবশেষে দেশের শীর্ষ আদালতে বড়সড় আইনি স্বস্তি পেলেন তিনি। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার (Central Bureau of Investigation-CBI) দায়ের করা মামলায় তাঁর জামিনের আর্জি মঞ্জুর করেছে। কলকাতা হাইকোর্টে বার বার জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পর শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন আর জি করের এই বিতর্কিত প্রাক্তন কর্তা।

 ট্রায়ালের বিলম্বকেই হাতিয়ার

 শীর্ষ আদালতে সন্দীপ ঘোষের আইনজীবীদের মূল সওয়াল ছিল তাঁর দীর্ঘ কারাবাসের মেয়াদ এবং নিম্ন আদালতে বিচারপ্রক্রিয়ার ধীর গতি। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রথম বার সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন সন্দীপ। তারপর থেকে টানা দু’বছরের বেশি সময় ধরে প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে বিচারাধীন বন্দি (undertrial prisoner) হিসেবে রয়েছেন তিনি।

 এই মামলায় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা ইতিমধ্যেই চার্জশিট ও সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করেছে এবং আলিপুরের বিশেষ সিবিআই আদালতে চার্জ গঠনও (charge framing) সম্পূর্ণ হয়েছে। তদন্ত শেষ হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও বিপুল সংখ্যক সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের প্রক্রিয়া কবে শেষ হবে, তার কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। চার্জশিট জমা পড়ার পর একজন অভিযুক্তকে বিচার শুরুর নামে অনির্দিষ্টকালের জন্য জেলে আটক রাখা যায় না, মূলত এই আইনি যুক্তিকেই মান্যতা দিয়ে শর্তসাপেক্ষে জামিন মঞ্জুর করেছে শীর্ষ আদালত।

আরও পড়ুন:  'বনভূমি ধ্বংসের কারণে মানুষ একদিন অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে ঘুরবে', কড়া বার্তা বম্বে হাইকোর্টের

কী অভিযোগে বন্দি

 ২০২৪ সালের ৯ অগস্ট আর জি কর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চারতলার সেমিনার হল থেকে এক তরুণী চিকিৎসক-পড়ুয়ার ধর্ষণ-খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছিল গোটা দেশ। সেই আন্দোলনের সময়েই সামনে আসে সন্দীপ ঘোষের কার্যকালে হাসপাতালের অন্দরে চলা বিপুল আর্থিক অনিয়মের (financial irregularities) খতিয়ান। হাসপাতালের প্রাক্তন ডেপুটি সুপার আখতার আলির অভিযোগের ভিত্তিতে কলকাতা হাইকোর্ট আর্থিক দুর্নীতির তদন্তভারও তুলে দিয়েছিল সিবিআইয়ের হাতে।

 টেন্ডার বণ্টনে স্বজনপোষণ, বায়োমেডিক্যাল বর্জ্য পাচার এবং সরকারি তহবিলের নয়ছয়ের অভিযোগে ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর সন্দীপকে গ্রেফতার করে সিবিআই। পরবর্তী সময়ে চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তথ্য-প্রমাণ লোপাট এবং এফআইআর দায়েরে বিলম্বের অভিযোগেও তাঁকে অ্যারেস্ট (shown arrest) দেখানো হয়েছিল। ধর্ষণ ও খুনের মূল মামলায় ৯০ দিনের মধ্যে চার্জশিট জমা না পড়ায় আগেই শিয়ালদহ আদালত থেকে জামিন (default bail) পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু হাসপাতালের আর্থিক দুর্নীতির মামলায় জেলমুক্তি ঘটেনি।

আরও পড়ুন:  জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে বিরোধীদের 'সুপ্রিম কোর্ট চলো' কর্মসূচি, আটকাল পুলিশ

জামিন মিললেও জেলমুক্তি ঘিরে জটিলতা

 সিবিআইয়ের মামলায় সুপ্রিম কোর্ট জামিন মঞ্জুর করলেও সন্দীপ ঘোষের তাৎক্ষণিক জেলমুক্তি ঘটবে কি না, তা নির্ভর করছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (Enforcement Directorate-ED) দায়ের করা সমান্তরাল আর্থিক তছরুপ প্রতিরোধ আইনের (PMLA) মামলার অবস্থানের ওপর। আর জি করের আর্থিক দুর্নীতির সূত্র ধরেই সন্দীপের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি তাঁকে হেফাজতে নিয়েছিল ইডি।

 শীর্ষ আদালত এ দিন জামিন দেওয়ার পাশাপাশি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, নিম্ন আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ায় তাঁকে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে এবং সাক্ষীদের প্রভাবিত করার কোনও চেষ্টা চলবে না। রাজ্য রাজনীতিতে মোড় ঘোরানো হাই-প্রোফাইল মামলায় সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের কাছে বিরাট বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment