ধর্মনগর, ১ অক্টোবর: প্রশাসনের নির্দেশ ও সতর্কবার্তা সত্ত্বেও পূজার চাঁদার নামে রাস্তায় যানবাহন আটকে টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে ধর্মনগরের চন্দ্রপুর এলাকায়। অভিযোগ, দুর্গাপূজার চাঁদা বাবদ ৫ হাজার টাকা দাবি করে অসম থেকে আগরতলামুখী একটি পণ্যবাহী বোলেরো গাড়ির চালককে মারধর করা হয়েছে। একইসঙ্গে ভাঙচুর করা হয়েছে গাড়িটিও।
অভিযোগকারী গাড়িচালক ফারুক হোসেনের দাবি, তিনি অসমের নগাঁও থেকে কাঁচা লঙ্কা নিয়ে আগরতলার মহারাজগঞ্জ বাজারের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। বুধবার রাত আনুমানিক দেড়টা নাগাদ ধর্মনগরের চন্দ্রপুর এলাকায় একটি স্থানীয় ক্লাবের কয়েকজন সদস্য তাকে গাড়ি থামানোর জন্য সংকেত দেন। তিনি গাড়ি থামালে তার কাছে দুর্গাপূজার চাঁদা বাবদ ৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়।
ফারুক হোসেন জানান, তিনি এত টাকা চাঁদা দেওয়ার সামর্থ্য নেই বলে জানান এবং আলোচনার মাধ্যমে সামর্থ্য অনুযায়ী চাঁদা দেওয়ার কথা বলেন। অভিযোগ, এরপর ক্লাবের এক সদস্য তার গাড়িতে উঠে বসেন এবং গাড়ি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন।
চালকের বক্তব্য অনুযায়ী, কিছুটা এগিয়ে যাওয়ার পর তাকে অন্য একটি রাস্তা দিয়ে গাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হয়। এতে তিনি সম্মতি না জানালে তার গাড়ির চাবি জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। কোনওভাবে চাবি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গাড়ি নিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। তখন কয়েকজন ব্যক্তি গাড়ির রেলিং ধরে গাড়িতে উঠে পড়েন এবং তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ।
অভিযোগ আরও, হামলার সময় পণ্যবাহী গাড়িটিতেও ভাঙচুর চালানো হয়। ঘটনার পর আক্রান্ত চালক ফারুক হোসেন ধর্মনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, পূজার চাঁদার নামে রাস্তায় যানবাহন থামিয়ে জোরপূর্বক টাকা আদায় না করার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগেই নির্দেশ ও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। তার পরেও ধর্মনগরের চন্দ্রপুর এলাকায় এমন অভিযোগ সামনে আসায় প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনিক নির্দেশ কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে।

Leave a Comment