এসআরএফটিআই ঘটনায় তদন্তে সিট, নেতৃত্বে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দাপ্রধান

By Suman Debnath

September 30, 2026 9:50 AM

এসআরএফটিআই ঘটনায় তদন্তে সিট, নেতৃত্বে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দাপ্রধান


এসআরএফটিআই (SRFTI)-এর ঘটনার তদন্তে সিট গঠন করল রাজ্য। ছয় সদস্যের এই দলটির নেতৃত্বে থাকছেন কলকাতা পুলিসের গোয়েন্দাপ্রধান কুণাল আগরওয়াল। গত রবিবার ঠিক কী হয়েছিল, কীভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হল এবং তার জেরে যে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ উঠেছে সেগুলিই খতিয়ে দেখবে এই বিশেষ তদন্তকারী দল।

রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এসআরএফটিআই (SRFTI) কাণ্ডে পঞ্চসায়র থানায় মোট তিনটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলাগুলির ভিত্তিতেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাবে সিট।

কুণাল আগরওয়াল ছাড়াও সিটে রয়েছেন গোয়েন্দা বিভাগের ডিসি (ডিডি) স্পর্শ নীলাঙ্গী এবং সিআইডির ডিএসপি পদমর্যাদার আধিকারিক কৌশিক ঘোষ। কলকাতা পুলিশের আরও তিন উচ্চপদস্থ আধিকারিক সলিল রায়, তুষারকান্তি ঘোষ এবং হীরক দলপতিকে তদন্তকারী দলে রাখা হয়েছে।

প্রয়োজনে রাজ্য পুলিশ বা কলকাতা পুলিশের কাছ থেকে অতিরিক্ত আধিকারিক ও কর্মী চেয়ে নিতে পারবে সিট। নবান্নের নির্দেশ অনুসারে, আগামী বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবরের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে তদন্তের প্রথম রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

আরও পড়ুন:  কলকাতাতেই ডেঙ্গি ৪০০ ছাড়াল, অ্যাকশন মুডের রিপোর্ট প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী

আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: দুর্গাপুজোয় ঢাকের বোলে মেতে ওঠে বাঙালি

গত রবিবার সকালে এসআরএফটিআই-এর প্রেক্ষাগৃহে একটি সভার আয়োজন করে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের শাখা সংগঠন ‘অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত’ (এবিজিপি)-র পশ্চিমবঙ্গ শাখা। সংগঠনটির দাবি, কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই সকাল ১০টা থেকে সভাটি চলছিল।

কিছুক্ষণের মধ্যে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের উপস্থিতি নিয়ে আপত্তি জানান পড়ুয়াদের একাংশ। প্রেক্ষাগৃহের সামনে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি তাঁরা রেজিস্ট্রারের কাছে জানতে চান, কেন একটি বেসরকারি সংগঠনকে শিক্ষাঙ্গনে সভা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষের চেহারা নেয়। এবিজিপি-র সদস্যদের বিরুদ্ধে পড়ুয়া ও শিক্ষকদের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। পাল্টা পড়ুয়াদের বিরুদ্ধেও মারধরের অভিযোগ করেন সংগঠনের সদস্যেরা।

আরও পড়ুন:  শহর থেকে মফস্বল, বামেদের একাধিক বুকস্টলে ভাঙচুরের অভিযোগ, পরে হাতে নিয়েই বই বিক্রি

এই নিয়ে কড়া বার্তা দেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। কোনও পক্ষকেই রেয়াত করা হবে না জানিয়ে তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিংসার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন। ঘনটার ছবি প্রসঙ্গে তাঁর দাবি ছিল, সংঘর্ষের মধ্যে স্বামী বিবেকানন্দ এবং ভারতমাতার ছিবতে লাথি মারার মতো ঘটনা হলে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

এদিকে রবিবারের ঘটনা নিয়ে এসআরএফটিআই (SRFTI)-এর পড়ুয়া ও শিক্ষকমহলের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তদন্তের ধরন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। এই পরিস্থিতিতেই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য সিট গঠনের সিদ্ধান্ত নিল নবান্ন।

দেখুন:

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment