---Advertisement---

জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর মহুয়ার, আইনজীবীর চিঠি অ্যাটর্নি জেনারেলকে

By Suman Debnath

September 24, 2026 5:35 PM

জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর মহুয়ার, আইনজীবীর চিঠি অ্যাটর্নি জেনারেলকে

---Advertisement---


দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের করেন তিনি। এমনকী সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করা হয়েছে অভিযোগ তুলে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করতে চেয়ে কেন্দ্রের অ্যাটর্নি জেনারেল আর ভেঙ্কটরামানিকে চিঠি দিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্রজেশ সিং। সুতরাং এই সাঁড়াশি চাপে পড়ে জ্ঞানেশ কুমারের কপালে ভাঁজ পড়েছে। যদিও এই ঘটনার পর থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের।

এদিকে বুধবার ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ সংবাদপত্রে প্রকাশিত একটি খবর দেশজুড়ে আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে গিয়েছেন দুই নির্বাচন কমিশনার, সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশি। তাঁদের মতামতের কোনও গুরুত্ব না দিয়েই একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। এমনকী তাঁদের অন্ধকারে রেখে ভোটার তালিকায় নতুন নাম সংযোজন এবং বাদ দেওয়ার কাজ হয়েছে বলে দাবি দুই নির্বাচন কমিশনারের। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনের নেওয়া অন্তত ১৪টি নীতিগত সিদ্ধান্তে তীব্র আপত্তি তুলে চিঠি দিয়েছিলেন বাকি দুই নির্বাচন কমিশনার। কিন্তু তাঁদের অন্ধকারে রেখে একতরফাভাবে নিজের ইচ্ছেমতো সমস্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে গিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার বলে অভিযোগ।

অন্যদিকে ইতিমধ্যেই বিরোধীরা জ্ঞানেশের পদত্যাগ দাবি করেছেন। আবার ইনপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিরোধীরা। এদিন ককরোচ জনতা পার্টি সাংবাদিক বৈঠক করে নয়াদিল্লি থেকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। তার মধ্যে পদত্যাগ করতে হবে জ্ঞানেশ কুমারকে। না হলে আন্দোলনে নামবেন জেন-জিরা। মহুয়া মূলত তিনটি অভিযোগ তোলেন। এক, রুল সংশোধন না করেই নতুন ভোটার নিবন্ধনের ফর্ম-৬-এ একটি বেআইনি প্রশ্ন যুক্ত করা হয়েছে। সেখানে জানতে চাওয়া হচ্ছে, আবেদনকারীর বাবা, মা, ঠাকুরদা বা ঠাকুরমার নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ছিল কিনা। দুই, বাংলার প্রায় ৩৩ লক্ষ বৈধ ভোটারের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন যে মামলা দায়ের করেছিল, সে বিষয়ে দুই কমিশনার সান্ধু ও যোশীকে কিছুই জানানো হয়নি। কার নির্দেশে এই মামলা করা হল? সেটা নিয়ে অন্য দুই কমিশনার লিখিত প্রশ্ন করলেও সিইসি তার কোনও উত্তর দেননি। তিন, নির্বাচন কমিশনের ডিজি (আইটি) সীমা খান্নাকে সঙ্গে নিয়ে ভোটার তালিকায় মারাত্মক কারচুপি করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। ইআরও-রা নথিপত্র যাচাই করে যাঁদের নাম ভোটার হিসেবে বৈধ ঘোষণা করেছিলেন, ব্যাকএন্ড থেকে সিস্টেমের মাধ্যমে তাঁদের নাম ছেঁটে ফেলা হয়েছে।

তাছাড়া জ্ঞানেশ কুমার বেআইনি কাজ করেছেন অভিযোগ তুলে থানায় এফআইআর দায়ের করে মহুয়া বলেন, ‘এসআইআরের সময়ে ফর্ম ৬-এ নতুন করে জানতে চাওয়া হয়, নতুন ভোটারের বাবা-মা বা ঠাকুরদা-ঠাকুমা গত এসআইআরের ভোটার তালিকায় ছিলেন কিনা। কিন্তু বিধি না বদলে এই কাজ করা যায় না। তা সত্ত্বেও করা হয়েছে। বাংলার এসআইআরে বিচারবিভাগীয় অফিসাররা যে ১৬.১০ লক্ষ নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন, সেই নামের বিরুদ্ধে কারা মামলা করেছেন? জ্ঞানেশ কুমার সীমা খান্নার সঙ্গে মিলে ভোটার তালিকা ইচ্ছেমতো বদলেছেন। বিএলও, ইআরও-দের অ্যাকসেস ডিনাই করে এই কাজ তাঁরা করেছেন।’

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment